আসসালামু আলাইকুম। ইদানিং অনেক জ্ঞানীগুণী জনেরা ফেসবুকে বিভিন্ন আশার বাণী, সান্ত্বনার বানী বা আল্লাহর উপর বিশ্বাস, আবাবিল পাখি আসবে ইত্যাদি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে রাতারাতি আন্দোলনের ফসল ঘরে তোলার ব্যাপক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদেরকে আন্তরিক ও অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
তাই আমি নগন্যেরও সে বিষয়ে কিছু লিখার ইচ্ছে জাগল। প্রথম কথা হচ্ছে আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখা ভালো। এটি ঈমানের প্রথম শর্তও বটে। কিন্তু প্রিয় ভাইয়েরা, আল্লাহতো কাউকে এমনি এমনি সাহায্য করেন না। এটা আল্লাহর সুন্নাত নয়। আল্লাহতো আপনার মুখে খাবার তুলে দিবেননা। আপনার খাবারটা আপনার নিজের হাতেই আপনার মুখে দিতে হবে। আপনার নিজের হাত টা নিজেই ধুয়ে খাবারটা খেতে হবে। মুক্তা সংগ্রহ করার জন্য আপনাকে নদী বা সগরের অতল জগতে ডুব দিয়ে শামুক খুঁজে বের করে আনতে হবে। তবেই হয়তো কোনো না কোনো একটা শামুকের ভিতর আপনার আকাঙ্ক্ষিত অতি মুল্যবান মুক্তাটির সন্ধান পেয়ে যেতে পারেন। যেটা দিয়ে আপনার জীবন ধন্য হয়ে যাবে। কিন্তু "হে আল্লাহ, আমাকে একটা মুক্তা দাও" বলে বলে সিজদায় পড়ে সারাজীবন জিকির করতে থাকলেও আল্লাহ কখনোই আপনার হাতের মুঠোয় মুক্তা এনে দিবে না। কারণ এটি আল্লাহর নিয়ম নয়। আল্লাহ যা কিছুই করেন একটা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করে থাকেন।
ঠিক তদ্রুপ এখানে কোনো আবাবিল পাখিও আর আসবে না। আবাবিল পাখি দুনিয়াতে একবারই এসেছিল। এর আগেও আসেনি; পরেও আর আসবে না। কারণ তখন কাফের সেনাপতি আবরাহা আল্লাহর ঘর পবিত্র মক্কা শরীফ ভাঙার জন্য আল্লাহর সাথে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছিল। তাই আল্লাহর ঘর আল্লাহ নিজেই রক্ষা করেছিলেন। লক্ষ্য করলে দেখা যায়, এখনো আমাদের দেশে বা বিদেশে কোনো ভূমিকম্প, জলোচ্ছ্বাস বা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ইত্যাদি হলে আশেপাশের এলাকা বিধ্বস্ত হয়ে গেলেও পানির উপর বা খালি জমির উপর ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকে আল্লাহর ঘর মসজিদ। সুনহানআল্লাহ...! আল্লাহুর ঘর ও পবিত্র কুরআন রক্ষা করা এটা আল্লাহর ওয়াদা। এই ধরনের কিছু কিছু কাজ আল্লাহ তায়ালা নিজ কুদরতে করে থাকেন। সেগুলি ভিন্ন বিষয়।
কিন্তু তাই বলে কখন আবাবিল পাখিরা উড়ে আসবে এবং উপর থেকে পাথর ফেলে সন্ত্রাসী, অত্যাচারী ও জালিমদেরকে ধ্বংস করবে। তারপর আপনি আপনার লক্ষ্যে পৌঁছে যাবেন, সে আশায় বুক বেঁধে বসে থাকলে কস্মিনকালেও আন্দোলনের সফলতা বা বিজয় আসবেনা। আন্দোলন সংগ্রাম বা যে কোনো পরিশ্রম সফল হওয়ার ক্ষেত্রে আল্লাহর সাহায্য আশা করা বা কখন কিভাবে আল্লাহর সাহায্য আসে সেই বিষয়টি আপনাদের গভীরভাবে জানতে ও বুঝতে হবে এবং সেইভাবে জীবনের প্রতিটি কাজে এগিয়ে যেতে হবে।
আপনার মনে রাখতে হবে, "নিশ্চয় আল্লাহ কোনো সম্প্রদায়ের অবস্থা পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা নিজেরা পরিবর্তন করে।"
(সুরা আর-রাদ-আয়াত:১১)
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, নিজের অবস্থান পরিবর্তন বলতে কি বুঝায়?
আপনি হয়তো মনে করছেন, অনেক তো কষ্ট করলাম, অনেক পরিশ্রম করলাম, অনেক সংগ্রাম করলাম। এখনো কেন সফলতা বা বিজয় আসছে না? আল্লাহ কেন আমাদেরকে সাহায্য করছেনা? আল্লাহর সাহায্য কবে আসবে? ইত্যাদি। এর উত্তরে নিচের কথাগুলো একটু গভীরভাবে লক্ষ্য করুন।
আজ থেকে ১৪০০ শত বছর আগে রাসুল (স:) এর সাহাবীগণ (রা:) কাফের-মুশরিকদের অত্যাচার নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে আপনার মত আল্লাহর উপর বিশ্বাস নিয়ে আল্লাহর সাহায্যের আশায় অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন। তাঁরাও আপনার মত একই সুরে এই প্রশ্নগুলি-ই রাসুল (স:) এর কাছে করেছিলেন।
"হে আল্লাহর রাসুল, "আল্লাহর সাহায্য কবে আসবে বা কিভাবে আসবে? আমরাতো আর পারছি না? ইত্যাদি।
অথচ তাদের ঈমান ও আকিদা আপনার-আমার চেয়ে হাজার গুণ বেশি মজবুত ও বিশুদ্ধ ছিল। তখন আল্লাহর রাসুল (স:) তাদেরকে বিগত যুগের নবী-রাসুল ও তাঁদের উম্মতদের অতিশয় মানবেতর জীবনযাপন, দূ:খ-কষ্ট, বালা-মুসীবত এবং অসহনীয় যন্ত্রণার ইতিহাস তুলে ধরে তাঁদেরকে সান্তনা ও আশার বানী শুনালেন এবং বললেন-
"অথচ এখনো তোমাদের কাছে তোমাদের পূর্ববর্তীদের মত অবস্থা আসেনি! অর্থ-সংকট ও দুঃখ-ক্লেশ তাদেরকে স্পর্শ করেছিল এবং তারা ভীত-কম্পিত হয়েছিল; এমনকি রাসূল ও তার সংগী-সাথী ঈমানদারগণ বলে উঠেছিল, আল্লাহর সাহায্য কখন আসবে? জেনে রাখ, নিশ্চয় আল্লাহর সাহায্য অতি নিকটে।" (সুরা বাকারা-আয়াত:২১৪)
এর কিছুদিন পরেই মহান আল্লাহর বিশেষ সাহায্যে ও অনুগ্রহে মুসলমানরা এক রক্তপাতহীন অভিযানের প্রেক্ষিতে নিষ্কণ্টক ভাবে মক্কা বিজয় করেন। মূলত এর মাধ্যমেই আল্লাহর রাসুল (স:) ও মুসলমানদের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয় এবং সারা দুনিয়ায় ইসলামের দাওয়াত ও সওগাত বিস্তার লাভ করে।
সুতরাং প্রিয় ভাইয়েরা, বিজয় অর্জন এত সহজ বিষয় নয়। আল্লাহ পাক আপনাকে নিজের হাতে বিজয়ের পতাকা আপনার মুষ্টিতে ধরিয়ে দেবেন না। বিজয়ের জন্য শত্রুর মোকাবেলায় সংগ্রামের পিচ্ছিল ও বিপদ সংকুল পথের বিভিন্ন ধাপ বা বাধাগুলি একে একে আপনাকে অতিক্রম করে আসতে হবে।
যেমন: ১) দালানের উপর তলায় উঠার জন্য আপনাকে সিড়ির প্রতিটি ধাপ একের পর এক পার হয়ে আসতে হবে।
২) মুসা (আ:) ও তাঁর জাতির মত ফেরাউন তথা শত্রু বাহিনীর তাড়া খেয়ে আপনাকে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে নীলনদের ধারে উপস্থিত হতে হবে এবং আল্লাহর উপর অগাধ বিশ্বাস নিয়ে তাঁর সাহায্য চেয়ে প্রচন্ড স্রোতস্বিনী সাগরের পানিতে পা রাখতে হবে। তখনই সর্বশক্তিমান আল্লাহতায়ালা অতল সাগরের মাঝেই আপনার দ্রুত পারাপারের জন্য নির্বিঘ্ন রাস্তা তৈরী করে দিবেন।
৩) জালিম স্বৈরশাসক নমরুদ কর্তৃক ইব্রাহিম (আ:) জলন্ত অগ্নিকুন্ডে নিক্ষিপ্ত হওয়ার পরেও তিনি আল্লাহ উপর যেভাবে ভরসা করেছিলেন এবং তাতে আল্লাহ তাঁর উপর সন্তুষ্ট হয়ে জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডকে ফুলের বাগানে পরিণত করে দিয়েছিলেন। ঠিক সেই ভাবে আপনাকেও ঈমানের বলে বলীয়ান হতে হবে। আর তা-হলে বর্তমানেও আপনার চরম প্রতিকূল পরিস্থিতি অনায়াসেই আপনার অনুকূলে হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
এই প্রসঙ্গে জগত বিখ্যাত কবি, দার্শনিক ও ব্যারিস্টার ড. আল্লামা ইকবাল বলেন- "আজকেও যদি কারো মনে ইব্রাহিমের ঈমান সৃষ্টি হয়, তাহলে এখনো জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ড তার জন্য ফুলের বাগানে পরিণত হয়ে যাবে।"
৪) জালিম শত্রুদের কাছ থেকে নিজেকে আড়াল করার জন্য গাছের ভিতর আশ্রয় নেয়া জাকারিয়া নবীকে (আ:) করাত দিয়ে শত্রুরা যেভাবে লম্বালম্বি অবস্থায় চিরে ফেলেছিল, কিন্তু এক বারের জন্যেও তিনি উফ্ শব্দটা পর্যন্ত উচ্চারণ করেননি। শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সেদিন তিনি ধৈর্যের চরম পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছিলেন। সুতরাং আপনাকেও একনিষ্ঠ ভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ধৈর্যের চরম পরীক্ষা দিতে হবে। আল্লাহ বলেন- "ফাছবির ছাবরান জামিলা" ।
অর্থাৎঃ "তুমি ধৈর্যধারণ কর উত্তম রুপে [ চরম ধৈর্য ]।" ( সুরা মা'আরিজ-আয়াত:৫)
৫) প্রচন্ড ও দূরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে আইউব নবী (আ:) সহায়সম্বল, প্রাসাদ, ক্ষমতা, প্রভাব, প্রতিপত্তি, স্ত্রী-সন্তান, ধন-দৌলত, ঐশ্বর্য সবকিছু হারিয়ে চরম বিপদের মধ্যে থেকেও এক মূহুর্তের জন্যেও আল্লাহর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখেননি। সর্বাবস্থায় তিনি আল্লাহর জিকির ও ইবাদতে মগ্ন ছিলেন এবং ধৈর্যের কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে তাঁর রাজত্ব, ক্ষমতা, প্রাসাদ, প্রভাব, প্রতিপত্তি, বাগান, স্ত্রী-সন্তান, পরিবার-পরিজন, দাশ-দাসী সহ সবকিছু পুনরায় ফিরে পেয়েছিলেন। সুতরাং আপনাকেও যেকোনো দুর্যোগ মুহূর্তে ধৈর্যের কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
৬) কাফেরদের অত্যাচার জুলুমে অধৈর্য হয়ে আল্লাহর গজব থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য হজরত ইউনুছ নবী (আ:) আল্লাহর নির্দেশ ব্যতীত দায়িত্বের এলাকা থেকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য এক জাহাজে গিয়ে উঠেছিলেন। যা আল্লাহর কাছে পছন্দ হয়নি এবং নবী হিসেবে তাঁর জন্য কাজটি শোভনীয় ছিলনা। সংগ্রামের ময়দান ত্যাগের শাস্তি স্বরূপ এক বিরাট তিমি মাছের পেটে ৪১ দিন অবস্থান করে অবশেষে আল্লাহর ক্ষমা ও অনুগ্রহে পুনরায় দুনিয়ার বুকে বেরিয়ে আসলেন।
তাইতো আল্লাহ বলেন-
"কাজেই তুমি তোমার প্রতিপালকের হুকুমের জন্য ধৈর্য ধরে অপেক্ষা কর, আর মাছওয়ালা [ইউনুস (আ:)] এর মত (অধৈর্য) হয়ো না। (সুরা কলম-আয়াত:৪৮)
৭) ইয়াকুব নবী (আ:) পুত্র হারানোর অসহনীয় দুঃখ যন্ত্রণা ও ব্যথা-বেদনায় জর্জরিত হয়ে বছরের পর বছর কাঁদতে কাঁদতে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। তারপরও হারানো পুত্রকে ফিরে পাননি। কিন্তু যখনই ইয়াকুব নবী আল্লাহর পয়গম পেয়ে হারানো পুত্রকে আল্লাহর রাস্তায় কুরবানীর নিয়ত করলেন, এর পরপরই ৪০ বছর ধরে খুঁজে না পাওয়া হারানো পুত্র ইউসুফের সন্ধান পেয়ে গেলেন এবং এই খুশিতে তিনি আবেগ-আপ্লুত হয়ে অবনত চিত্তে সিজদায় লুঠিয়ে পড়লেন ও মহান রবের শুকরিয়া আদায় করলেন।
সুতরাং বর্তমানেও ফেরাউন নমরুদ ও জালিমদের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করে বিজয়ী বা সফল হতে চাইলে আপনাকেও চরম ধৈর্য এবং মূল্যবান সময়, সহায়-সম্পদ ও জান-মাল ইত্যাদির মাধ্যমে আল্লাহর রাস্তায় কুরবানি দিতে হবে। তবেই আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য তথা বিজয় বা সফলতা আপনার দরজায় এসে উপস্থিত হবে ইনশাআল্লাহ।
৮) ইউসুফ নবী (আ:) তাঁর ভাইদের পক্ষ থেকে হিংসা বিদ্বেষ ও জুলুমের শিকার হয়ে গহীন অন্ধকার কুপের ভিতর নিক্ষিপ্ত হয়েও আল্লাহ স্মরণ থেকে এক মূহুর্তের জন্যেও বিচ্যুত হননি এবং বণিকদের সাথে গোলাম হিসেবে মিশরে আসা, রাজমহলে বেড়ে উঠা, জুলেখার প্ররোচনা ও অত্যাচার সহ সর্বাবস্থায় আল্লাহকে ভয় করেছিলেন এবং পরিপূর্ণ ভাবে মহান রবের উপর ভরসা করেছিলেন। তাইতো কালক্রমে মিশরে গোলাম হয়ে আসা ইউছুফ-ই একদিন হয়ে গেলেন "আজিজে মিশর" অর্থাৎ মিশরের রাজা। এখানে ইউসুফ নবী অসীম ধৈর্য, আল্লাহর ভয়, চরম ত্যাগ-তিতিক্ষা, পরম ক্ষমা ও মহানুভবতার এক বিশাল দৃষ্টান্ত স্থাপনের মাধমে তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
আল্লাহ বলেন-"হে মুমিনগণ, তোমরা ধৈর্য ধর ও ধৈর্য্যে অটল থাক এবং পাহারায় নিয়োজিত থাক। আর আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা সফল হও।"
(সুরা আলে ইমরান-আয়াত:২০)
৯) ঈসা নবী (আ:) কে অত্যাচারী ও জালিম রাজা তথা দাজ্জালের বংশধররা বন্দী করে ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করতে চেয়েছিল। কিন্তু ঈসা নবী সেই অবস্থায়ও আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা ও ঈমানের উপর অটল ছিলেন। যে কারণে আল্লাহ তায়ালা ঈসা নবীর উপর সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে আসমানে উঠিয়ে নিলেন এবং কেয়ামতের পূর্বে সেই দজ্জালের গোষ্ঠীকে ধ্বংস করার জন্য পুনরায় দুনিয়াতে পাঠাবেন। সুবহানাল্লাহ...!! কাজেই সংগ্রামের ময়দানে নিশ্চিত মৃত্যুর মূহুর্তেও আপনাকে সেরুপ ঈমানের উপর অটল থাকতে হবে।
অর্থাৎ "ভয় করিনা বুলেট বোমা; আমরা সবাই অমুক সেনা" শুধু মুখে মুখে বললে হবে না, বস্তবে তা প্রমান করতে হবে।
১০) বিশ্বনবী, বিশ্বনেতা মোহাম্মদ (স:) কুরাইশদের অত্যাচার ও জালিম কাফের মুশরিকদের সীমাহীন নির্যাতন ও দুঃসহ যন্ত্রণার বোঝা মাথায় নিয়ে বছরের পর বছর ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অবিচল ও অটল ছিলেন। ২৩ বছরের নবুয়াতি জিন্দেগীতে তিনি অন্যায় ও দুর্নীতির সাথে বিন্দুমাত্র আপোষ করেননি এবং এক মূহুর্তের জন্য ভেঙ্গে পড়েননি বা হতাশও হননি। অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে পাহাড়ের ন্যায় দৃঢ় ছিলেন। সংগ্রাম তথা যুদ্ধের ময়দানে তিনি ছিলেন বজ্রের মত কঠিন। তেমনি মানুষের সাথে ব্যবহার ও আচরণে ছিলেন শিশুর মত কোমল। পর্বতসম মহানুভবতা এবং বরফের মত হিমশীতল ভালোবাসাই ছিল তাঁর আদর্শের অনুপম বৈশিষ্ট্য। সবকিছু মিলিয়ে তিনি ছিলেন সারা দুনিয়ার মানুষের জন্য সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ। বস্তুতঃ মুহম্মদ (সা:) এর জীবন এক বিশাল ও বিস্তৃত ব্যাপার, কুলকিনারা হীন এক মহাসাগর।
বলা বাহুল্য, পৃথিবীর অনেক নামীদামি অমুসলিম কবি, লেখক, দার্শনিক, গবেষক, বিজ্ঞানী ও শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাগুরুরাও তাঁর মানবিক শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছেন। মহাকবি মিল্টনের ভাষায় তাঁর জীবন হচ্ছে- "beyond less bound less and bottom less sea" অর্থাৎ-"অপার সীমাহীন এবং অতল এক সমুদ্র"
আর এই বিষয়ের প্রতি ইংগিত দিয়েই পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন -"লাকাদ্দ কানা লাকুম ফী রাসুলিল্লাহি উসওয়াতুন হাসানা।"
অর্থ-‘‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহ (সা:) এর জীবনে রয়েছে শ্রেষ্ঠ আদর্শ’’ (সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ২১)
অন্যত্র আল্লাহ বলেন-
"ওয়াইন্নাকা লায়ালা খুলুকিন আজীম"
অর্থ-"নিশ্চয়ই আপনি শ্রেষ্ঠ চরিত্রের উপর প্রতিষ্ঠিত।"
অতএব প্রিয় ভাই-বোনেরা, আপনার ব্যক্তি পরিবার সমাজ সংসার ও রাষ্ট্র পর্যন্ত সমস্ত বিষয় এমনকি আন্দোলন সংগ্রামের ক্ষেত্রেও নবী-রাসুলদের হেকমত ও আদর্শ গুলো চর্চা করতে হবে। সর্বোপরি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব মুহাম্মদ (সা:) এর শ্রেষ্ঠ আদর্শ তথা তাঁর উন্নত কর্ম-পন্থা-পদ্ধতি-কলা-কৌশল ও শিক্ষা ইত্যাদি মনেপ্রানে ও বাস্তবে অনুসরণ, অনুকরণ ও অনুশীলনের মাধ্যমে প্রতিটি কাজ করতে হবে বা করার চেষ্টা করে যেতে হবে। তবেই দেখবেন, আপনার আন্দোলন সংগ্রামের চূড়ান্ত বিজয় বা আপনার যে কোনো কাজের সার্থকতা বা সফলতা দ্রুত আপনার ঘরের দরজায় এসে কড়া নাড়বে ইনশাআল্লাহ! সুতরাং হতাশ বা নিরাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। বলা বাহুল্য, আল্লাহর দয়া থেকে নিরাশ হওয়াও অনেক বড় পাপ।
যেখানে মহা দয়াময় সর্বশক্তিমান আল্লাহতায়ালা স্বয়ং আপনাকে নিরাশ বা হতাশ হতে বারণ করছেন এবং সুস্পষ্ট আশার বাণী শুনাচ্ছেন; সেখানে আপনার হতাশা বা ভয় কিসের...??
যেমন আল্লাহ বলেন-
“এবং তোমরা আল্লাহর দয়া হতে নিরাশ হয়ো না, কেননা, অবিশ্বাসীরা ছাড়া অন্য কেউ আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয় না।” (সূরা ইউসুফ-আয়াত:৮৭)
“পথভ্রষ্টরা ছাড়া আর কে তার প্রভুর দয়া হতে নিরাশ হয়?” (সূরা হিজর-আয়াত:৫৬)
“অবশ্যই আল্লাহর দয়া সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী।"
(সূরা আল আরাফ-আয়াত:৫৬)
“তুমি জাননা, আল্লাহ হয়তো নতুন কোনো উপায় করবেন।”
(সূরা আত তালাক-আয়াত:১)
অবশেষে বিদ্রোহী কবি নজরুলের ভাষায়
বলতে চাই-
"দুর্গম গিরি কান্তার-মরু দুস্তর পারাবার
লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি নিশীথে যাত্রীরা হুশিয়ার!"
..............
"অসহায় জাতি মরিছে ডুবিয়া, জানেনা সন্তরণ,
কান্ডারী! আজ দেখিব তোমার মাতৃমুক্তিপণ!"
...............
"ফাঁসির মঞ্চে যারা গেয়ে গেল জীবনের জয়গান,
আসি’ অলক্ষ্যে দাঁড়ায়েছে তারা, দিবে কোন বলিদান?
আজি পরীক্ষা জাতির অথবা জাতের করিবে ত্রান?
দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, কান্ডারী হুঁশিয়ার!"
-আলী ইউছুফ
২০/১১/২৩ ইং
👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রায় সকল পোস্ট-ই ফেসবুক থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]
Subscribe to:
Post Comments
(
Atom
)
Post Top Ad
ফেসবুকের গল্প তে আপনাকে স্বাগত। এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কোনো লেখা বা মতামতের জন্য 'ফেসবুকের গল্প' কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।
Post Bottom Ad

অত্যন্ত গুরুতবপূর্ণ ও তথ্য সমৃদ্ধ লেখা, ধন্যবাদ,
ReplyDelete