• সাম্প্রতিক

    পরীর সাথে প্রেম - পর্ব ১০ (ভূতুম ভূতু)

    কথাটা বলেই আমার হাত ধরে শাই শাই করে সেই ঝর্ণার নিচে চলে গেল। তারপর কীভাবে যেন পানির নিচ দিয়ে চলতে লাগল। আমি আর কিছু দেখছিনা। জোরে জোরে নিশ্বাস নিচ্ছি। কয়েক সেকেন্ডে আমি পরীস্থান নামক সেই আজব দুনিয়ায় এসে পড়লাম।
    -
    বিশাল এক দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে থাকলাম। এ যেন এক রূপকথার রাজ্য। আমাদের সেখানে এখন রাত। আর এখানে এত আলো। তার মানে কী এখানে এখন দিন? এজন্যই মেহরিমা এসময় পড়তে যেত? কিজানি বাপু এতকিছু জানিনা। আমি শুধু অবাক হয়ে পরীস্থানের রহস্যময় সুন্দর্য দেখে যাচ্ছি। যেদিকে তাকাই ফুলের বাগান। মাটি গুলো গাঢ়ো সবুজ দূর্বাঘাসে ভরা। যেন ধূলা বালির কোন অস্তিত্বই নেই। সামনে গিয়ে অবাক হয়ে গেলাম, যখন দেখলাম বিশাল বড় বড় গাছ আর অট্টালিকা গুলো শূন্যের উপর ভাসছে। কী আশ্চর্য! এ কি সত্যি নাকি স্বপ্ন? এ যেন ভাবনাকেও হার মানায়। কী করে সম্ভব এটা?
    -
    সামনে যেতেই দেখলাম, হঠাৎ হঠাৎ অনেক সুন্দরি মেয়ে দেখা যাচ্ছে।আমি সেদিকে তাকালেই মেহরিমা ভ্রু কুচকে তাকায়। কখনো বা বিশাল দেহ বিশিষ্ট কিছু মানুষ। আমার কেমন যেন ভয় ভয় করছে। কারণ তাদের হঠাৎ দেখছি আবার হঠাৎ দেখছিনা। ডানদিকে একটা বিশাল অট্টালিকা দেখা যাচ্ছে। যার ভেতরটা পুরো খেলার মাঠের মত খালি। মনে হয় যেন কত গুলো বাচ্চা খেলাধূলা করছে। আমি সেদিকে তাকিয়ে আছি। মেহরিমা আমায় হেচকা টান দিয়ে সামনে বাড়ালো। খানিক বাদে কয়েকটা বাচ্চাকে দেখলাম আমার দিকে আসছে। আবার হুট করেই অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। একটু পর দেখি তারা আমার টি শার্টে টানাটানি করছে। কেউ গায়ে কাতুকুতু দিচ্ছে। কিন্তু আমি তাদের দেখছিনা। টি শার্ট আর পেন্ট পড়েই ঘুমিয়েছিলাম। মেহরিমা তো আমায় সে অবস্থায়ই নিয়ে এলো। মেহরিমা আমার অবস্থা দেখে হাসিতে লুটিয়ে পড়ছে। বোকা মেয়ে আমাকে আগে বললেই পারত যে আমাকে এখানে নিয়ে আসবে। একটু প্রস্তুতি তো নিতে পারতাম। এভাবে কেউ কাউকে কারো সাথে দেখা করাতে নিয়ে আসে?
    -
    জাদুময় এমন এক রাজ্যে হাঁটছি। কখনো দেখছি ছোট ছোট পুকুরের মত । নীল পানিতে ভরা। কখনো দেখছি পাহাড়। ঝর্ণাও আছে। কী আজব! পানির নিচে এত কিছু। এ যেন অন্য আরেক দুনিয়া। মেহরিমা আমায় বিশাল বড় এক সূর্যমুখী বাগানে নিয়ে গেল। তাকিয়ে দেখি সেখানে এক বৃদ্ধ লোক দাড়িয়ে আছে। গলায় মুক্তোর মালা। দাড়ি গুলো সাদা ধবধবে। মাথার চুলও সাদা। হাতে একটা লাঠি নিয়ে একটা দোলনার পাশে দাড়িয়ে আছে। আমাদের দেখেই ভ্রু কুচকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে। আমার কেমন ভয় ভয় করছে। বিব্রতও লাগছে।
    -
    মেহরিমা আমায় বলল এটাই তার দাদুজি। দাদুজির সামনে নিয়ে আমায় পরিচয় করিয়ে দিল। উনি যখন গম্বীর্যপূর্ণ সুরে আমায় এটা সেটা প্রশ্ন করছে আমি যেন জীবনের ভয়ানক কোন পরীক্ষার মঞ্চে দাড়িয়ে আছি এমন লাগছে। উনার প্রতিটা প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে আমি তোতলাচ্ছি। দাদুজি আমাকে প্রশ্ন করা শেষ করে দোলনায় গিয়ে বসলেন। তারপর একপাশে মেহরিমা আর আরেকপাশে আমাকে বসালেন। তারপর সুন্দর ভাবে বোঝাচ্ছেন আমাদের দুজনকে। উনার কথাগুলো এমন ছিল যে “আমরা শুধুই ভালো বন্ধু হতে পারব। এর বেশি কিছুনা। এটা কখনো সম্ভবনা। আমরা ভীন্ন জাতির। আর তাই কখনোই আমাদের বেশি কিছু ভাবার সুযোগ নেই। মেহরিমার মন খারাপ হয়ে গেল। সাথে আমারো। কিন্তু মেহরিমার মন একটু বেশিই খারাপ। সে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে। যেটা সহ্য করার ক্ষমতা আমার নেই।
    -
    দাদুজির কথা শেষ হলো। কোনভাবেই আমাদের বিষয়টি বোঝাতে পারলামনা। মেহরিমা রাগে আর ক্ষোভে আমায় ফিরিয়ে দিয়ে গেল। মেহরিমাকে আমি ভালবাসি। কখন থেকে তাকে ভালবাসতে শুরু করেছি তা আমি জানিনা। কিন্তু এটা বিশ্বাস করি যে ভালবাসা বলে কয়ে বা কোন কারণ দেখিয়ে হয়না। আমাদের জাত ভীন্ন, এটা অসম্ভব। কিন্তু ভালবাসা তো এসব বোঝেনা। আমাদের ভালবাসাটা জাদুর মত হয়ে গেছে। কেউ কাউকে কিছু বলিনি। কেমন যেন বোবা প্রেমের মত। হয়তো খাঁটি ভালবাসাগুলো এমনই হয়। কিন্তু খারাপ লাগার বিষয় হলো এই যে সেদিনের পর মেহরিমার আর কোন হুদিশ পাচ্ছিনা। এক দিন, দুই দিন, তিন দিন এমন করতে করতে চতুর্থ দিনের মাথায় আমি সন্ধ্যায় বাহিরে ছিলাম। একটা ছিমছাম রেডিমেট পাঞ্জাবী আর একটা জিন্সের পেন্ট পড়ে হাঁটছি। মাথার চুল গুলো সবসময় এলোমেলোই রয়ে গেল। আজ বাইরেই খেয়েছি । রাত প্রায় ১১ টার মত বাজে। শহরের রাস্তাগুলো এত রাতেও কত ব্যস্ত। বাসার দিকে রওনা হলাম।
    -
    বাসায় এসে দেখি সানি ঘুমিয়ে আছে। আজকাল ওর শরীরটা নাকি তেমন ভালো নেই। আমি পাঞ্জাবীটা খুলব এমন সময় রুমের টেবিল থেকে কিছু একটা পড়ে যাওয়ার বিকট শব্দ পাই। সানি ঘুম থেকে লাফিয়ে উঠে। মুহুর্তে কে বা কারা আমায় ধরে ফেলে। কিন্তু কাউকে আমি দেখছিনা। তবে এখানে একজন নয় আরো বেশি হবে এটা বুঝতে পারছি। মেহরিমা তো কখনো এভাবে আমার কাছে আসেনা। ভাবার আগেই আমি কোথায় যেন ভেসে গেলাম। কিছু দেখছিনা শুধু উপলদ্ধি করতে পারছি। তারা বেশ শক্ত ভাবে আমায় ধরেছে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সেই পরীস্থানের রাজ্যে নিজেকে আবিষ্কার করলাম। তারা বাতাসের গতিতে আমায় নিয়ে চলছে। এখনো আমি কাউকে দেখতে পারছিনা। আমাকে এক বিশাল রুমে নিয়ে যাওয়া হলো। এ যেন কোন এক রাজবাড়ির বৈঠক খানা। তাকিয়ে দেখি অনেকগুলো চেয়ারে কতগুলো মানুষ বসে আছে। এদের মধ্যে কয়েকজন রাজাদের মত রঙ বেরঙের পোশাকে। আর মাত্র একজন আমাদের মত সাধারন পাঞ্জাবি টুপি। আমাকে একটি চেয়ারে নিয়ে বসিয়ে দেয়া হলো।
    -
    একজন সেই টুপি পাঞ্জাবী পড়া সাধারণ লোকটিকে বলে উঠল-
    “ওস্তাদজি এটাই সেই ছেলে”।
    উনি আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন। লোকটাকে কেমন চেনা চেনা লাগছে। মনে হয় কোথায় যেন দেখেছি। ওস্তাদজি নামক লোকটা বলতে থাকলেন-
    -
    - জ্বীন আর মানুষে সুসম্পর্ক হয় এটা নতুন কিছু নয়। কিন্তু বিয়ের বেপারটা সম্পূর্ণ আলাদা। এটা কোন সাধারণ বিষয় নয়। এখন আপনারা আপনাদের রিতিনীতি অনুসারে এর একটা ব্যবস্থা করেন । কিন্তু ছেলেটার যেন কোন ক্ষতি না হয় আর মেহরিমাও যেন কোন কষ্ট না পায়।
    -
    উনার কথার পর পাশ থেকে মধ্যবয়সী একজন দাড়িওয়ালা বলে উঠলেন-
    - ওস্তাদজি আমার মেয়েকে আপনি বহুদিন ধরে পড়াচ্ছেন। আপনার একটা মতামতের অবশ্যই মূল্য আছে। যেহেতু আপনি একজন মানুষ। আমাদের এখানকার নিয়ম হলো কেউ মানুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবার নয়। যদি কেউ শাস্ত্রের এই বিধান অমান্য করতে চায় তবে সে চিরদিনের জন্য তার সত্বা আর জাতীগত অধিকার হারাবে।
    -
    আমি এবার বুঝতে পারলাম এটাই মেহরিমার শিক্ষক। কিন্তু উনি এখানে? আর আজ এই আলোচনারই বা কারণ কী? কী এমন ঘটেছে। ওস্তাদজি আবারো বলতে লাগলেন-
    -
    - মেহরিমার এখন কী অবস্থা? (ওস্তাদ)
    = এখন একটু একটু সুস্থ আছে। তার মা সেবা করছে। কিন্তু মেয়েটা আমার বড্ড জেদি। জীবনে কখনো এমন ভাবে কিছু চায়নি। কিন্তু আজ এমন এক বিষয় নিয়ে পাগলামি শুরু করল যা দিতে আমরা অপারক। (মেহরিমার বাবা)
    {উনার কথায় বোঝা যাচ্ছে মেহরিমা নিশ্চই কোন পাগলামি করেছে। তবে কী সে নিজের কোন ক্ষতি করতে চেয়েছে?}
    - অপারক কেন বলছেন? এমন তো নয় যে তাদের বিয়ে দেয়া সম্ভবনা। সমাধান অবশ্যই আছে। হয়তো মেহরিমা তার সত্বা হারাবে। জাতীগত যে ক্ষমতা সব হারাবে। এই রাজ্যে প্রবেশের অধিকার হারাবে। কিন্তু এখন দেখার বিষয় সে এতসব হারিয়ে যদি সুখি হতে চায় তবে আপনারা কী করবেন? (ওস্তাদ)
    = আমার মেয়ের এমন দশা আমি কী করে মেনে নেই ওস্তাদজি? একে তো আমার মেয়েকে আমরা চিরদিনের জন্য হারাবো তার উপর এই রাজ্যে সারাজীবন আমাদের নিচু হয়ে থাকতে হবে। আর এর জন্য কত শাস্তি পেতে হবে আমাদের জানেন?
    - হুমম তা ঠিকাছে। কিন্তু এখন আপনারাই ভেবে দেখেন কী করবেন। যদি মেহরিমাকে বোঝাতে পারেন তবে ঝামেলা শেষ। কিন্তু একটা কথা মাথায় রাখবেন, সে কিন্তু আপনাদেরই মেয়ে। আর তার উপর আপনারা এ দুই দিন যা করেছেন সেটাও ঠিক হয়নি। ভুল তো করতেই পারে। তাই বলে আপনারা এমন নিষ্ঠুর হয়ে উঠবেন?
    -
    উনাদের কথা চলছে। কিন্তু কোন সমাধান বের হচ্ছেনা। আমি এখন সব বুঝতে পারছি। নিশ্চিৎ মেহরিমা খারাপ কিছু করেছে। আর মেহরিমার পরিবার তার উপর অত্যাচার করেছে। আর তাই আজ এভাবে সভার আয়োজন । আমার বড্ড ইচ্ছে করছে মেহরিমাকে একটু দেখার। না জানি কী অবস্থায় আছে সে। কিন্তু জানি সে সুযোগ আমার হবেনা। ওস্তাদজি আমার সাথে কথা বললেন। অনেক কিছু জানলেন আমার বেপারে। তারপর কিছু জ্বীনদের মাধ্যমে আমাকে ফিরিয়ে দিয়ে গেল।
    -
    বাসায় এসে দেখি সানি জেগে আছে। বেশ চিন্তিত মনে হচ্ছে। আসলে সে এতদিন জানতো আমি ওসব এমনি এমনি বলি। আমার কথা গুলো সে পুরোপুরি বিশ্বাস করতনা। কিন্তু আজ সে নিজের চোখে এমন কিছু দেখে ভয় পেয়ে গেছে। সানিকে আমি সবই খুলে বলেছি। আজও বললাম। জানিনা সে কতটুকু বিশ্বাস করেছে। কিন্তু একেবারে অবিশ্বাস করারও সুযোগ তার নেই।
    -
    সকালবেলা বাসা থেকে ফোন আসে। দাদি নাকি ভীষণ অসুস্থ । আমি আর কিছু চিন্তা না করে গ্রামে চলে গেলাম। গিয়ে দেখি দাদি রুমে শুয়ে আছে। অসুস্থ মনে হচ্ছে তবে খুব বেশি মনে হচ্ছেনা যেমনটা ফোনে বলা হয়েছিল। আমার মনে কেমন যেন সন্দেহ ঢুকতে থাকে। আমি চলে আসতে চাইলাম। কিন্তু কেউ আসতে দিলনা। এতদিন পর এসেছি তাই। রাতে সবার সাথে খেতে বসলাম। সবার সাথে বহুদিন পর একসাথে খাওয়া হলো। দাদি খুব আদর করছেন আমায়। এসব ভালবাসা দেখলে এখান থেকে যেতে ইচ্ছে হয়না। রাতে আমার সেই বিছানায় পিঠ ঠেকালাম। আহা কতইনা আড়ামের সেই বিছানা। কিন্তু ভাগ্য আমার এতই মন্দ যে আড়াম টুকু বেশিক্ষণ সইলোনা। মাঝে মাঝে আমাদের প্রিয় মানুষগুলো আমাদের ভালো চাইতে গিয়ে আমাদের জীবনটাই শেষ করে দেয়। আমার পরিবারও হয়তো তেমনটাই চায়।
    -
    কী ভাবছেন? কী করল তারা? কী আর করবে। সেই ভয়টাই সত্যি হলো যা সন্দেহ করেছিলাম। আসলে গতরাতে সানি ভয়ে বাসায় ফোন করেছিল। আর তাই আজ আমাকে এখানে আনা। শেষ পর্যন্ত আমাকে আবারো শেরালি গাজীর হাতে ধরা পড়তে হলো। কিছু বোঝার আগেই আমায় অজ্ঞান করে ফেলল সে। আবারো সেই ভয়ানক কুটির। আমাকে এখানে আনার সাথে সাথে হাতে পায়ে সেই তাবিজ লাগিয়ে দেয়া হয় যেটা থাকলে মেহরিমা আমার কাছে আসতে পারেনা। যেখান থেকে হাজারো আর্তনাদ কারো কানে পৌঁছাবেনা। এবার শেরালি গাজীর চেহারাই বদলে গেল। এর আগে তার ব্যবহারে কোন পিশাচসুলভ আচরণ না থাকলেও এবার তার উল্টোটা ঘটতে থাকে। সে আমাকে ব্যবহার করে অসাধ্য কিছু সাধন করতে চায়। আমাকে খালি গায়ে লোহার শিকলে বাঁধা হয়। তারপর একটা উত্তপ্ত ঘরে আমায় লোহার দন্ডের সাথে আটকানো হয়। আমার চারপাশে জলন্ত কয়লা । আমাকে মধ্যরাতে পিশাচের মত বেত দিয়ে সারা শরিরে আঘাত করা হয়। একটা মানুষ কে একেবারে মেরে ফেলা হয়তো ভালো। কিন্তু এটা তার চেয়ে বেশি কষ্টের।
    -
    আমার গায়ে উত্তপ্ত পানি ঢালা হয়। খেতে দেয়া হয় বিদঘুটে এক ধরণের হালুয়া। মৃত্যুর মুখে পরে আমায় নিজের অজান্তেই সেসব গিলতে হয়। জানিনা কী পাপ করেছি আমি মেহরিমাকে ভালবেসে। তার আর আমার মধ্যে পার্থক্য শুধুই জাতের। আর সেটাই এত বড় অপরাধ হয়ে গেল। একটা মানুষ আর তার মধ্যে কোনই তফাৎ নেই। আমাদের মন একে অপরকে মেনে নিয়েছে। কিন্তু এই অসভ্য সমাজ তা মানতে পারছেনা। তিনটা দিন ধরে শেরালি গাজীর এমন পৈশাচিক অত্যাচার চলে আমার উপর। আমি চিৎকার করে কলিজা ফেটে যাবার উপক্রম হলেও তার মনে দয়া হয়না। তিনদিন পর শেরালি গাজী লোহার বেরী তৈরি করে। যা আমার হাতে পায়ে লাগিয়ে দেয়া হলে আর কখনো খুলতে পারবনা।
    -
    সে এগুলো আমার শরীরে লাগাতে প্রস্তুত। এমন সময় মনে হলো আকাশ কাঁপিয়ে কে বা কারা আক্রমন করে। কিছু দেখছিনা শুধু দুর্যোগ দেখছি। চারিদিকে সব ভেঙ্গে চুড়ে ছাড়খার হয়ে যাচ্ছে। শেরালি গাজী তাড়াতাড়ি তার সাধনায় বসার চেষ্টা করে । কিন্তু তার আগেই কারা যেন তাকে ইচ্ছামত পেটাতে থাকে। তাকে মেরে আধমরা করে ফেলে। তার সমস্ত কুটির আর সাধনার উপকরণ যা আছে সব জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়। আমি আধমরা হয়ে পরে আছি। শরীরের তাবিজ গুলো কোথায় যেন হারিয়ে গেছে তা আর দেখছিনা। আমার সারা শরীরের রক্তাক্ত অবস্থা। আমাকে আবারো কে যেন ধরাধরি করে নিয়ে চলে। বুঝতে পারলাম আমাকে মেহরিমাদের রাজ্যে নেয়া হচ্ছে। জানিনা তারা কীভাবে আমার খোঁজ পেল।
    -
    আমার আর জ্ঞান নেই। কতক্ষণ জ্ঞান ছিলনা তা আমি জানিনা। জ্ঞান ফেরার পর দেখি আমি পরীস্থানের কোন এক অট্টালিকায় চিকিৎসারত অবস্থায় আছি। কারা যেন আমার সারা শরীরের ব্যান্ডেজ করছে আর ঔষধ লাগাচ্ছে। সাদা কাপর পরিহিত লোকগুলো। তারা অনেক দ্রুত কাজ করে যাচ্ছে। চিকিৎসা শেষে আমায় অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়া হয়। ভীন্ন একটি অট্টালিকা। বিছানায় শুয়ে আছি। সারা শরিরে ব্যন্ডেজ। নড়ার শক্তি নেই আমার। কিছুক্ষণ পর খেয়াল করলাম আবারো কেউ আসল রুমে। বেশ বুড়ো লোকগুলো। আমাকে কী যেন খাইয়ে দিল। আমি ঘুমিয়ে গেলাম।
    -
    যখন জেগে উঠলাম। খেয়াল করলাম আমার শরীরে খানিকটা শক্তি ফিরে এসেছে। আমাকে একটা পালঙ্কের সাথে হেলান দিয়ে আধশোয়া অবস্থায় রাখা হলো। তারপর সবাই চলে গেল। মনে হচ্ছে সন্ধ্যা হয়ে গেছে। জানালা দিয়ে বাহিরে তাকালাম। দেখলাম এটা কোন সাধারণ অট্টালিকা নয়। শূন্যের উপর ভাসমান একটি অট্টালিকা। নিচের ফুলের বাগান গুলো দেখা যাচ্ছে। আমার গা শিউরে উঠল। এতক্ষণ স্বাভাবিকই ছিলাম। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে যদি পড়ে যাই। যদিও তেমনটা হবার নয়। তবুও মন মানেনা। খানিক বাদে দেখলাম রুমে দুজন আগমন করল। দাদুজি। আর তার সাথে আমার বেঁচে থাকার অবলম্বন মেহরিমা। এই মেয়েটাকে দেখলে আমি এখন বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা খুঁজে পাই। সে ছাড়া নিজের বাবা মাকেও আমি আর ভরসা করতে পারিনা। মেহরিমার চোখ গুলো ফুলে আছে। বোরকা পড়েনি। মুখটা মলিন। হয়তো সে আগেও আমার কাছে এসেছে কিন্তু আমি জেগে ছিলামনা। দাদুজি আমার কাছে এসে মাথায় হাত বুলাচ্ছে। মেহরিমা আমার পায়ের কাছে এসে বসে পড়ল। তারপর পায়ের সাথে মাথাটি লাগিয়ে কাঁদতে লাগল। কি থেকে কী হয়ে যাচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছিনা। কিন্তু যতই আমাদের সাথে এসব হচ্ছে মনে হচ্ছে দুজন দুজনকে ততই বেশি ভালবেসে ফেলছি। দেখা নেই কথা নেই ছোঁয়া নেই । কিন্তু যত সময় যাচ্ছে গভীর থেকে আরো গভীর ভালোবাসার জন্ম হচ্ছে একে অপরের প্রতি।
    -
    একজন কারুকার্যরচিত পোশাক পরিহিত লোক রুমে আসল। তারপর তিনি দাদুজিকে বললেন সভা কক্ষে যেতে। তাদের রাজ্যের জ্বীনদের সম্রাট নাকি আসবেন আজ। সে আরো জানালো আমার বাবাকে আর মেহরিমার ওস্তাদজিকে নাকি আনা হয়েছে। আমার বাবা নাকি এসেই অজ্ঞান হয়ে গেছে। জানিনা কী হবে আজ। তবে আজই চুড়ান্ত কিছু হতে যাচ্ছে এটা বুঝতে পারছি। দাদুজি চলে গেলেন। মেহরিমা কাঁদছে তো কাঁদছেই। মেহরিমাকে কাছে পেয়ে আমার সকল দূর্বলতা আর কষ্ট যেন দূর হয়ে গেল। মনে হয় শরীরে পূর্ণ শক্তি চলে এসেছে আর মনেও জোশ এসে গেছে। মেহরিমার কান্নাটা সহ্য হচ্ছেনা। আমার রশিকতা করে অভ্যাস আছে ছোট থেকেই। আমি বেশ ভালো হাসাতে জানি। মেহরিমার উপর আপাতত একটু দক্ষতা প্রয়োগ করলাম।
    -
    = এইযে সুভাসিনী উঠেন, আপনার চাঁদ মুখটা একটু দেখব। কতদিন ধরে মনটা উশখুশ করছে।
    মেহরিমা মাথাটা তুলে চোখের পানি মুছতে মুছতে আমার সামনে এসে বসল। তারপর মাথা নিচু করে আবারো কাঁদছে।
    = এইযে মহারানী এত কাঁদলে কিন্তু চোখের পানি সব শেষ হয়ে যাবে। তারপর চোখ শুকিয়ে একেবারে মরুভূমি হয়ে যাবে। পরে আমি কার চোখ দেখে পাগল হবো বলেনতো?
    - কান্না ছাড়া কী করব আর? যা কখনো কল্পনাও করিনি তাই যে হলো। আপনাকে কষ্ট দিবনা বলে এতদূর। আর শেষ পর্যন্ত আপনি আমার জন্য মৃত্যুর মুখে। আমার জন্য আপনার জীবনটা নষ্ট হয়ে গেল।
    = আপনি কী সবসময় উল্টা বোঝেন? জীবন তো নষ্ট হয়েছে আপনার। আচ্ছা শুনলাম আপনি নাকি আমাকে বিয়ে করতে চান? আমার মতামত নিয়েছেন একবারো?
    - হুমমম নিয়েছি মনের কাছ থেকে।
    = এসব কাব্য কথায় তো কাজ হবেনা।
    - কেন কাব্য রচনা করা তো আপনার প্রিয় কাজ।
    = ওহ । তাই বলে সরাসরি বিয়ে ? একবার প্রোপোজ তো করতে পারতেন। কয়েকটা দিন প্রেম করতাম।
    - হুমমম আমাকে কী ছাত্রী পেয়েছেন ? নাকি ফেসবুকের বান্ধবী পেয়েছেন?
    = আহহারে এই পরীদের মনেও কত হিংসা।
    - হুমমম হিংসাই। এই হিংসা না থাকলে কখনো বুঝতামইনা আপনাকে যে এত ভালবেসে ফেলেছি।
    = তাই নাকি?
    - হুমমমম।
    = বাসেন?
    - কী?
    = ভালবাসেন?
    - সন্দেহ আছে?
    = নাহ তা নাই। জিজ্ঞেস করলাম আরকি।
    - হুমমম ভালো।
    = তাহলে হয়ে যাক?
    - কী?
    = প্রোপোজ!
    - সারা শরীরে আঘাত পেয়েও মনে খুব আনন্দ তাইনা?
    = আনন্দের বাক্স সামনে থাকলে কাঁদব নাকি?
    - কিহ ? আমি বাক্স?
    = আরে না না । তা বলিনাই। আসলে সত্যি খুব শুনতে মন চাচ্ছে। বলেন না।
    - কী?
    = ওই কথাটা।
    - কোন কথা?
    = যেটা করেন আমায়।
    - পারবনা।
    = উফ বলেন না।
    - না। আচ্ছা শুধু আমি করি? আপনি আমায় করেন না?
    = কী?
    - Love
    = করিতো।
    - তাহলে আপনি বলেন ।
    = আমি তো বলতেই চাই। কিন্তু আমার তো কাতুকুতু লাগে।
    - ইশ ঢং।
    = শুনেন ছেলেরা ঢং করেনা। বলেন না একবার।
    - কেন ওটা বলাই লাগবে? না বললে হয়না?
    = হয়না কে বলছে। আমাদের তো হয়েই গেছে । তাও একটু আধটু না। একেবারে জীবন মরন ইতিহাস। কিন্তু একটু সুন্দর করিয়া শুনাইলে মনটা চাঙ্গা হইতো আরকি।
    - না পারবনা বলতে। আমারো কাতুকুতু লাগে।
    = তাই ? আপনার শরীরেও কাতুকুতু আছে?
    - হুমম থাকবেনা কেন? আপনার থাকলে আমার থাকবেনা?
    = নাহ মানে আমার তো কাতুকুতু লাগে মনে। আপনার তো শরীরে লাগছে।
    - জ্বীনা আমারো মনেই কাতুকুতু লাগছে। আর হ্যা শরীরেও কাতুকুতু আছে।
    = তাই??? আসেন একটু কাতুকুতু দেই।
    - ছিঃ শয়তান । বিয়ের আগে বদমাশি।
    = হায়রে বিয়ে ... কে জানে হবে কিনা।
    - হুমমম হবে। বেঁচে থাকলে হবে।
    = যদি না হয়?
    - মরে যাব।
    = ধুর এভাবে কেন বলেন? একদম কলিজায় লাগে।
    - আচ্ছা আর বলবনা । আল্লাহর কাছে দোয়া করেন যেন আমাদের আশা পূর্ণ হয়।
    = হুমমমমম তা তো করবই। আসেন না একটু কাতুকুতু দেই।
    - ওই নড়াচড়া করার শক্তি নাই আবার নষ্টামি করার শখ হইছে তাইনা? এখন কিন্তু মেরে আরো আধমরা করে দেব।
    = সমস্যা নাই । আপনি মারলে এবার আপনি ই মালিস করে দিবেন সারা শরীর।
    - হুমমম দেব। কিন্তু এখন না । বিয়ের পর।
    = হায়রে বিয়ে..... কবে হইব?
    - হুমমম আপনি কবে হইব কবে হইব জপতে থাকেন। আমি গেলাম।
    = এই আমি একা থাকব? ভালো লাগেনা।
    - জ্বি একাই থাকেন। বাবা জানলে সমস্যা হবে। আমি যাই।
    = শুনেন।
    - কী?
    = একবার বলে যান না ওই কথাটা।
    - ইশ পারবনা।
    = আচ্ছা না বললে নাই।
    - হু। গেলাম।
    = শুনেন।
    - ইশ আবার কী?
    = একটু হাসি দেন তো ৩২ দাঁত বের করে। একটু চাঁদ মুখটার হাসি দেখে কল্পনা করতে থাকব।
    - হিহিহি। এই হলোতো?
    = হলো আর কই? দাঁত তো আঠারোটা দেখলাম।
    - আমার দাঁত আঠারোটাই। ৩২ দাঁত দেখতে মন চাইলে আয়নায় নিজের দাঁত দেখেন।
    -
    মেহরিমা চলে গেল। যাক বাবা। মেয়েটাকে একটু হাসাতে চেয়েছিলাম। একদম ১০০% কাজ করেছে। ইনশাআল্লাহ যদি আল্লাহ ওকে আমার করে দেয়, সারাটা জীবন এভাবে হাসিয়ে যাব। এক মুহুর্তও মন খারাপ করে থাকতে দেবনা।

    (ভৌতিক রহস্যময়ী ভূতের গল্প ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত)

    পর্ব -১১ পড়তে 

    এখানে ক্লিক করুন



    👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রায় সকল পোস্ট-ই ফেসবুক থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]

    No comments

    Post Top Ad

    ad728

    Post Bottom Ad

    ad728

    আমরা আপনাকে বিনামূল্যে আমাদের আপডেট গুলি পাঠাতে যাচ্ছি। প্রথমে আপনার অনুলিপি সংগ্রহ করতে, আমাদের মেইলিং তালিকায় যোগ দিন। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, অকেজো তথ্য প্রেরণ করে আপনাকে বিরক্ত করবো না। সুতরাং কোনও আপডেট মিস করবেন না, সংযুক্ত থাকুন!