• সাম্প্রতিক

    ইসলামীক ড্রেস কোড

    ইসলাম ধর্ম হচ্ছে একমাত্র ধর্ম যেখানে জ্বিন ও মানবজাতির জীবন ধারনের জন্য যাবতীয় বিধি-বিধান বা Code সরবরাহ করা হয়েছে। যা পৃথিবীর অন্যান্য ধর্মে একেবারেই অনুপস্থিত বললেও অত্যুক্তি হবেনা।
    ইসলামের ধর্মগ্রন্থ আল-কোরআনে সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য তথা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনা পর্যন্ত এমন কোন বিষয় নেই যা সন্নিবেশিত করা হয়নি।

    অর্থাৎ ইসলাম মানবজীবনের কোন খন্ডিত বিষয়কে নিয়ন্ত্রণ করেনা, বরং জীবনের পুরো বিষয়টাই নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এজন্য কোরআন হচ্ছে,"হুদাল্লীন নাস"- মানবজাতির জন্য পথনির্দেশ"।
    তাই যুগ যুগ ধরে শ্বাসত ও চিরন্তন প্রবাদ বাক্যের আদলে এই কথাটি মানবসমাজে অবাদে প্রচলিত হয়ে আসছে-Islam is a complete code of life অর্থাৎ "ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন বিধান"।
     
    এই কথাটি ১৪০০ বছরের মধ্যে কোন মহাপুরুষ বা মহাজ্ঞানী আজ পর্যন্ত অসার প্রমান করতে পারেননি। বর্তমান আধুনিক বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষতার যুগে এসে এটি নিয়ে কারো সাথে নতুন করে যুক্তিতর্কে লিপ্ত হওয়া বা চ্যালেঞ্জ করা মানে অযথা সময় নষ্ট করা এবং নেহায়েত বোকামী ছাড়া আর কিছুই নয়। বরং তা হবে ইসলাম বিদ্বেষীদের রঙ্গরসকে উৎসাহিত করার নামান্তর।

    কারন ইতিমধ্যে মানবজাতির জন্য পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান হিসেবে ইসলামের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল-কোরআন প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমানিত হয়ে গেছে। এটি মহাবিশ্বের মহাবিস্ময় মহাগ্রন্থ "আল কোরআন" হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে গেছে।

    কালের জ্ঞান পিপাসুদের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, সূঁচালো স্বর্ণের মন্দির, চাকচিক্য প্যাগোডা বা শুভ্র চার্চের মহাপন্ডিত, পূজনীয় পুরোহিত বা চিরকুমার পোপদের মত ধর্মীয় মহাগুরু বেষ্টিত গুটি কয়েক অনুষ্ঠান ও সংস্কৃতি চর্চার মত শুধুমাত্র একটি ধর্মের নাম ইসলাম নয়...!!
    অগণিত মহামনীষীর মহাবানীতেও ফুটে উঠছে যে, ঢাকঢোল পিটিয়ে সনাতনী কিছু রীতিনীতি বা অমাবস্যা ও পূর্ণিমা রাতে মোম আর আগরের ধোঁয়াচ্ছন্ন কোলাহলে আলো-আঁধারী খেলা অথবা "ইস্টার সানডে" ও "গুড ফ্রাইডে" বা বড়দিনের কেক কাটার মত নিছক কিছু আনুষ্ঠান সর্বস্ব ধর্ম ইসলাম নয়...!!!

    ইসলামের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ "আল কোরআন" সকল প্রকার বিতর্ক, সন্দেহ, সংশয় ও ত্রুটির উর্ধ্বে এটি আজ গোটা বিশ্বে সর্বজন স্বীকৃত বিষয়। এই গ্রন্থের শুরুতেই সমগ্র বিশ্ববাসীর সামনে মহা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলা হয়েছে-
    "এটি সেই পুস্তক, যাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ নেই।" (আল -বাকারা:২)

    "It is the best scripture, constitution and complete way of life of mankind."
    - এটি মানবজাতির সর্বোৎকৃষ্ট ধর্মগ্রন্থ, সংবিধান এবং পূর্নাঙ্গ জীবনব্যবস্থা।
    (ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড বুক নাম্বার-আইএসবিএন) Arthur Arberry, The Koran Interpreted, London 1956, ISBN p191. Wikipedia.

    সুচনাতেই এমন দৃঢ কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়া ব্যক্তব্য সম্বলিত কোনো পুস্তক এই পৃথিবীর বুকে ২য় আরেকটি নেই...!!! তবে, অবতরণের পর হতে সর্বযুগেই কিছু ইসলাম বিদ্বেষী বিরুদ্ধবাদী নাস্তিক ছাড়া আর কেউই এই পবিত্র কোরআনের কোন কথা বা তথ্য ভুল প্রমানিত করার বৃথা চেষ্টার দূঃসাহস করেনি। বলাবাহুল্য, শেষ পর্যন্ত ফলাফল গাঁজার ভান্ডার ছাড়া আর কিছুই মেলেনি এবং কেয়ামত পর্যন্ত আর কিছু মিলবেওনা।

    সেই ১৪০০ শত বছর পূর্ব হতে আজ পর্যন্ত কিছু তথাকথিত নাস্তিক্যবাদী কুলাঙ্গার আর বর্তমান যুগের মুক্তচিন্তার লেবাসধারী তথা প্রগতিশীল নামক কিছু "ইভিল সমাজ" (Evil society) ব্যতীত আর কেউই ইসলাম ধর্ম বা পবিত্র কোরানের সমালোচনা করেছে এমন কোনো ইতিহাস পাওয়া যায়না।

    যুগে যুগে এরাই এবং এদের প্রজন্ম ও দোসররাই ঘুরেফিরে ইসলাম ধর্ম এবং কোরআনের শাশ্বত চিরন্তন বাণীকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা করবে এতে অবাক হবার কিছু নেই। অনুরুপ ভাবে "ইসলামী ড্রেস কোড, সেটা আবার কি ??"- এরূপ প্রশ্নকারীও একই গোত্রের অংশ এতে কোন সন্দেহ নেই।
    ইসলামের ধর্মগ্রন্থ আল-কোরানে জ্বিন ও মানব জাতির কল্যাণে সবকিছুর বিধান বা Code বর্ণিত হয়েছে অত্যন্ত সুচারু এবং স্পষ্টভাবে। সুতরাং এই গ্রন্থে Dress code বা পোষাক কোড থাকবেনা এমনতো হতে পারেনা...!! আল্লাহতায়ালা বলেন- 
    "এমন কিছুই নেই যা আমি কোরআনে লিপিবদ্ধ করিনি"। (আনআম: ৩৮)

    ইসলামে পোষাকের বিধানঃ
    ====================
    #ইসলামীক_ড্রেস_কোড-(Islamic dress code)
    আল্লাহতায়ালা বলেন: “হে আদম সন্তান, যে জিনিস গোপন করা উচিত তা গোপন করার জন্য আপনাকে পোশাক দান করেছি ও সূক্ষ্ম সাজ-সজ্জা হিসাবে এবং ধার্মিকতার পোশাকটি সর্বোত্তম।”
    (আল-আরাফ:২৬)

    আল্লাহ এখানে পোশাকের কারণ উল্লেখ করেছেন: দেহকে ঢেকে রাখা এবং প্রকাশ্যে প্রকাশিত হওয়া উচিত নয় এমন বিষয় গোপন করা এবং শরীরকে সুন্দর করে তোলা যাতে মানুষকে আরও দৃষ্টিনন্দন দেখায়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে ইসলামে পোশাকের বিধান বা "ডেস কোড" মানব সৃষ্টির গোড়া থেকেই দেয়া হয়েছে।

    পবিত্র কোরানে নবী (স.) কে উদ্দেশ্যে করে আল্লাহ তায়ালা বলেন- “হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীগণ ও কন্যাগণ এবং মুমিনদের মহিলাগণকে তাদের বাহ্যিক পোশাক (জিলব্ব) কে নিজের চারপাশে জড়িয়ে রাখতে বলুন। যাতে তাদেরকে ধার্মিক মহিলা হিসাবে চেনা যায় এবং তারা উপদ্রবের শিকার হবে না।
    (আল আহযাব: ৫৯।)

    কোরানে অন্যত্র নবী (স.) কে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে- "হে নবী.... এবং তারা যেন তাদের মাথা ও বুকের উপর (খুমুর) ওড়নার আঁচল ব্যবহার করে। তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তাদের সামনে ছাড়া-তাদের স্বামী, পিতৃপুরুষ, স্বামীর পিতৃপুরুষ, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভাই বা ভাইয়ের ছেলেরা বা তাদের বোনের ছেলেরা…..” (আন-নূর আয়াত: ৩১)

    এই আয়াতে গুরুত্বপূর্ণ শব্দগুলি হল: وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَىٰ جُيُوبِهِنَّ
    বাংলা উচ্চারণ: "ওয়াল-ইয়াদরিবনা বি-খুমুরি হিন্না আ'লা জুইউবি হিন্না" এখানে স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে এটি একটি আদেশ (আদেশের লামের কারণে)। তাই এর অর্থ: "এবং তারা তাদের পর্দা করবে ..." এই আয়াতে পর্দার জন্য আল্লাহ 'খিমর' (খুমুর-বহুবচন) শব্দটি ব্যবহার করেছেন। বাংলা ভাষায় এই শব্দের অর্থ: স্কার্ফ বা ওড়না।

    জগৎ বিখ্যাত ইসলামিক স্কলার, আরবি ব্যাকরণ ও কুরআনের আইনবিদ, ভাষাবিদ, পন্ডিত শায়খ ইবনে উথাইমিন বলেছেন, "এটি এমন একটি কাপড় যা দিয়ে একজন মহিলা তাঁর মাথা ঢেকে রাখেন।"
    (তাফসীর সূরা আন-নুর,পৃষ্ঠা ১৬৭,আল-বাঘাওয়ী) কোরআনের এই স্কলার বলেন, "এই আয়াতে 'জুইউব'(জায়েব-একবচন) শব্দটি তাদের বুক, চুল, গলা এবং কান বোঝায়।"
     
    শায়খ ইবনে উথাইমিন আরও বলেছেন, "কুরআনের পন্ডিতগণ বলেছেন, এর অর্থ হ'ল তারা তাদের মাথা, ঘাড়ে এবং বুকে একটি স্কার্ফ দিয়ে ঢেকে রাখবে।" (আল-বাঘাওয়ী, পৃষ্ঠা ১৬৮)
    বস্তুতপক্ষে এটিই হলো ইসলামী পোষাকের বিধান বা #ইসলামীক_ড্রেস_কোড

    উদাহরণস্বরূপ : সম্প্রতি ঢাকার পল্টন মাঠের ছবিটির কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। যেখানে দেখা যায়, আপাদমস্তক হিজাব পরিহিতা এক মমতাময়ী মা ও আদরের সন্তানের ক্রিকেট খেলার এক নয়নাভিরাম দৃশ্য, যা ইতিমধ্যে দুনিয়া জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এ দৃশ্য তথাকথিত প্রগতিশীল নারী বাদীদের চোখে বৃদ্ধাঙ্গুলি ঠেঁসে দিয়ে বহুগুনে বাড়িয়ে দিয়েছে তাদের অন্তরজ্বালা। দৃশ্যটি বজ্রনিনাদে জানান দিয়ে গেল সমাজ পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ আভাস।

    অনুরূপভাবে ইসলামে পুরুষদের জন্যেও "ড্রেস কোড" দেয়া রয়েছে। পুরুষদের ব্যাপারে নির্দেশ হচ্ছে এভাবে- "হে নবী! মুমিন পুরুষদেরকে বলুন তারা যেন নিজেদের চোখ নীচু রাখে এবং ব্যভিচার থেকে নিজেকে রক্ষা করে। এটা তাদের জন্য পবিত্র বিধান। (আন-নূর আয়াত: ৩০)

    পুরুষদের ঢিলেঢালা পোশাক পরিধানের জন্য আদেশ দেয়া হয়েছে যাতে তাদের নাভি এবং হাঁটুর মধ্যেকার অঙ্গ প্রকাশ না পায়। পুরুষদের ক্ষেত্রে নীচের পোশাক যেমন প্যান্ট, ট্রাউজার বা লম্বা শার্ট (যেমন থাওব) ইত্যাদি হাটুর নীচে এবং পায়ের গোড়ালির উপরে থাকার কোড দেয়া হয়েছে।

    যেমন নবী (স.) আদেশ করেছেন, "পোষাক পায়ের গোড়ালির উপরে হতে হবে, গোড়ালির নীচের পোশাকের তলে আগুনে থাকবে"। (আল-বুখারী, নং ৭৯৯৩,)
    এভাবে পোষাক বা পর্দা সম্পর্কে আরো অনেক তত্ত্ব ও নিয়মাবলী ইসলামে রয়েছে।
    নারী-পুরুষের পোষাক সম্পর্কিত কোরান-হাদীসে বর্ণিত এসব বিধানকেই "ইসলামী পোষাকের বিধান" বা #ইসলামীক_ড্রেস_কোড" বলা হয়। যা ইতিমধ্যে পরিষ্কার হয়েছে আশা করি।
    ইসলাম যেহেতু "কমপ্লিট কোড অফ লাইফ" অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান, সেহেতু মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সকল কিছুর বিধান বা #কোড এই ধর্মে থাকাটাই স্বাভাবিক। এটি না বোজার ভান করা চরম হীনমন্যতা ছাড়া আর কিছুই নয়।
    মহান আল্লাহতায়ালা আমাদের সকলকে জানার ও মানার সামর্থ্য দান করুন, আমীন।

    -আলী ইউছুফ
    -১৬/০৮/২০ ইং

    রেফারেন্সঃ 
    ১. Understanding the Muslim Dress Code: Modesty for Men and the Hijāb for Women (Islam 4.5 & 4.6) www.abukhadeeja.com
    ২. Islamic clothing- Wikipedia-https://rb.gy/ivtcyl
    ৩. The Islamic Dress Code | Masjid al-Muslimiin,

    (Ali Yousuf এর ফেসবুক আইডি থেকে সংগৃহীত)

     👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রায় সকল পোস্ট-ই ফেসবুক থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।] 

    No comments

    Post Top Ad

    ad728

    Post Bottom Ad

    ad728

    আমরা আপনাকে বিনামূল্যে আমাদের আপডেট গুলি পাঠাতে যাচ্ছি। প্রথমে আপনার অনুলিপি সংগ্রহ করতে, আমাদের মেইলিং তালিকায় যোগ দিন। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, অকেজো তথ্য প্রেরণ করে আপনাকে বিরক্ত করবো না। সুতরাং কোনও আপডেট মিস করবেন না, সংযুক্ত থাকুন!