একদিন সে তার জমিতে ঘুরতে গেল। ঘুরতে ঘুরতে খাবার সময় হয়ে গেল। সে একটি গাছের ছায়ায় বসে রুটি খাচ্ছিল। এসময় হঠাৎ একটি কাক উড়ে এসে তার হাত থেকে রুটিটি চোঁ মেরে নিয়ে গেল। সেও কাকের পেছনে পেছনে ছুটতে শুরু করল। রুটি মুখে নিয়ে কাকটি একবার এই গাছে আরেকবার অন্য গাছে বসতে লাগল। কিন্তু লোকটি নাছোড় বান্দা। সে কাকটি যেদিকেই বসছিল বার বার সেদিকে ঢিল ছুড়তে লাগল। লোকটির যন্ত্রনায় অতীষ্ঠ হয়ে কাকটি এক পর্যায়ে সামনের দিকে উডতে শুরু করল। লোকটিও কাকটির পেছনে পেছনে দৌড়াতে লাগল।
কাছে ছিল নদী। কাকটি উড়তে উড়তে একেবারে নদীর পাড়ে এসে নামল। এবার হয়তো রক্ষা পাওয়া গেল--এই ভেবে কাকটি নিশ্চিন্তে রুটিটি ঠুকরে ঠুক্রে খেতে লাগল।
কিন্তু কি আশ্চর্য! কিছুক্ষণ পর কাকটি দেখল, লোকটি লম্বা একটি বাঁশের কঞ্চি হাতে দৌড়াতে দৌড়াতে তার দিকে ছুটে আসছে। সে যখন একেবারে কাছাকাছি চলে আসল কাকটি এবার রুটিটি মুখে তুলে সোজা নদীর উপর দিয়ে উডাল দিল।
লোকটি তখন একেবারে হতাশ হয়ে গেল। সে উত্তপ্ত রোদে নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খুবই বিষন্ন চোখে অনেক্ষণ কাকটির উড়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখল। অবশেষে মনে মনে এই কথা বলে ফিরে আসল-- "যাক, রুটিটি আল্লাহর রাস্তায় দান করে দিলাম।"😕😕😕
আসলে, "আল্লাহর রাস্তায় দান" তো দূরের কথা, লোকটির দান কোনো দানই নয়। কেননা যে কোনো দান হতে হবে
স্ব-ইচ্ছায় ও আন্তরিকতার সাথে। সেটি দান হোক বা ত্রাণ হোক। অপারগতা বশত দান বা লোক দেখানো দান করার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।
বর্তমানে আমাদের সমাজে এধরনের দানবীরের অভাব নেই। কিন্তু প্রকৃত দান বা ত্রান হচ্ছে সেটি যা সেচ্ছায় এবং স্বপ্রণোদিতভাবে শুধুমাত্র আল্লাহকে খুশি করার জন্য করা হয়ে থাকে।
হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, "আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে আদম সন্তান, তুমি দান করতে থাক, আমিও তোমাকে দান করতে থাকবো।" (সহীহ বুখারীঃ ৭/৫৩৫২)।
মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সঠিক পন্থায় দান-ছদাকা করার সামর্থ্য দান করুন, আমীন।
রনা-আলী ইউছুফ
২৮/০৬/২০ ইং
(Ali Yousuf এর ফেসবুক আইডি থেকে সংগৃহীত)
Subscribe to:
Post Comments
(
Atom
)
Post Top Ad
ফেসবুকের গল্প তে আপনাকে স্বাগত। এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কোনো লেখা বা মতামতের জন্য 'ফেসবুকের গল্প' কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।
Post Bottom Ad

No comments