• সাম্প্রতিক

    পরীর সাথে প্রেম - পর্ব ৩ (ভূতুম ভূতু)

    মোবাইলটা হাতে নিলাম। ফ্লাসটা জ্বালিয়ে তাকাতেই দেখি বোরকাওয়ালি মেয়েটা!!! আমি আর কিছু না ভেবেই ভয়ে চিৎকার করতে যাব অমনি মেয়েটা ঝড়ের বেগে এসে আমার মুখ চেপে ধরল। মনে হচ্ছে যেন চল্লিশটা টেপ পেঁচিয়ে কেউ মুখ বেঁধেছে। এক চিমটি শব্দ করতে পারছিনা। মেয়েটা আমায় বলতে লাগল-
    - চুপ একদম কোন কথা বলবেন না। আমি আপনাকে কিছু করবনা। কিন্তু কোন শব্দ করলে কিন্তু হাড্ডি একটাও আস্ত থাকবেনা বলে দিলাম।
    -
    কথাটা বলে ধীরে ধীরে আমার মুখ থেকে হাত সরালো । আমার সারা শরীর রিতিমত কাঁপছে। আমার সাহস আছে বটে কিন্তু এতটা ভয়ানক মুহুর্তে সাহস দেখানোর মত কোন যুক্তি দেখছিনা। এই মেয়ে এখানে এলো কী করে? তাও আবার এত রাতে। এটা কী স্বপ্ন? কোন রকমে বিরবির করে মেয়েটাকে বললাম-
    = আপনি এএএএ ...................
    আমি কিছু বলার আগেই মেয়েটা আবারো আমার মুখে আঙুল দিয়ে আমায় থামিয়ে দিল। তারপর বলল-
    - চুপ কোন কথা না। আমি কীভাবে এখানে আসলাম সেটা আপনার না জানলেও চলবে। এখন যা বলি মনোযোগ দিয়ে শুনেন। এইযে এই ছোট কৌটায় পানি আছে। এটা এখনি আমি চলে যাবার পর খাবেন । আর এইযে আরেকটা কৌটায় মলম আছে। কাল সকাল দুপুর আর রাতে তিনবার গালে মাখবেন। এভাবে দুই থেকে তিনদিনে গালের ব্যাথা আর দাগ চলে যাবে।
    = আরে কী আশ্চর্য... মা মামমমমমমমমমমম.....(বলতেই আবার মুখ চেপে ধরল)
    - ওই কথা বলতে নিষেধ করছিনা? এগুলো বিষ না বুঝলেন? এটা খেলে সুস্থ হয়ে যাবেন আর এটা গালে মাখলে ব্যাথা আর দাগ চলে যাবে। আমি যে এখানে আসছি তা যেন কেউ না জানে। আমার কথা আর এসবের কথা যদি দ্বিতীয় কেউ জানে তবে কিন্তু খুব খারাপ হবে বলে দিলাম। কারণ আপনি কী করেন না করেন তা আমি সবই জানব। যদি আমার কথার হেরফের করেন তবে কিন্তু চিরদিনের জন্য পঙ্গু করে দেব ।
    -
    কথা গুলো সাই সাই করে বলে আমার পাশ থেকে মোবাইলটা নিয়ে ফ্লাসটা বন্ধ করে বিছানায় উল্টো করে রাখল। সব অন্ধকার হয়ে গেল। তারপর আর কোন শব্দ পাচ্ছিনা। আমি ভয়ে ভয়ে হাতরাতে হাতরাতে মোবাইল টা নিয়ে ফ্লাস জ্বালালাম। তারপর মেয়েটাকে আর দেখছিনা। কী আশ্চর্য মুহুর্তের মধ্যে কোথায় চলে গেল? এ কী ভূত নাকি পেত্নী? আমার রুমের দরজাটা খোলাই আছে। যদিও আমি লাগিয়ে শুয়েছিলাম। আমি আমার অসুস্থ শরীর নিয়ে বের হলাম। ঘরের প্রধান দরজা আস্তে করে খুলে বাহিরে আসলাম। ভয়ে আমার সারা শরীর এখনো কাঁপছে। একে তো এই মেয়ের এমন অদ্ভূত কান্ড। আর দ্বিতীয়ত বাড়ির কেউ যদি জানে যে এত রাতে একটা মেয়ে আমার রুমে এসেছে তবে আমাকে নির্ঘাৎ ঝাড়ুপেটা করে বাসা থেকে বের করে দিবে। এসব কথাতো এমনিতেও কাউকে বলা যাবেনা। আবার তার উপর মেয়েটা যে হুমকি দিয়ে গেল তাও চারটেখানি কথা নয়!
    -
    বাহিরে কোনরকম এদিক সেদিন অনেক খোঁজাখুজিঁ করলাম । কিন্তু নাহ কোথাও তাকে পেলামনা। চুপচাপ ঘরে এসে দরজা লাগিয়ে শুয়ে পড়লাম। এসব কথা ভাবতে ভাবতে কখন ঘুমিয়েছি জানিনা। সকালে ঘুম থেকে জেগেই বালিসের পাশে রাখা ওই মেয়ের দেয়া কৌটাগুলো চোখে পড়ল। হায় কপাল! এগুলো যদি না দেখতাম তবে নাহয় এটাকে দুঃস্বপ্ন হিসেবে ভেবে নিতাম। কিন্তু এসব যে সত্যি সত্যি আমার সাথেই ঘটেছে। কিন্তু তার দেয়া এসব কী আমি ব্যবহার করব? নাহ মোটেওনা। এই মেয়ে অনেক সাংঘাতিক। রাত বিরাতে ঘুরে বেড়ায়। আবার গায়ে যে শক্তি বাপরে নির্ঘাৎ কোন ডাকাতের মেয়ে হবে। মায়া দয়া তো বলতে নেই। এক থাপ্পরে আমায় বিছানায় শুইয়ে দিয়েছে তাও কিনা কয়েকটা পৃষ্ঠার জন্য। সে যে বিষ দিয়ে আমায় মেরে ফেলবেনা তার কী গ্যারান্টি আছে?
    -
    তার দেয়া এসব বিষ টিষ বিছানার নিচে রেখে দিলাম লুকিয়ে । সারাদিন চলে গেল। একা একা থাকছি। কাউকে কিছু বলতে পারছিনা। ওদিকে গালের ব্যাথা তো কমেইনি বরং দাগটা আরো কালো বর্ণ ধারণ করছে। কিন্তু এসব মাথায় নেই আমার। আমার শুধু চিন্তা একটাই। ওই ভূতুরে মেয়েটা। সে কীভাবে আসল আর কীভাবে কী করল তাই মাথায় ধরছেনা। শুনেছি ভূত বলে কিছু নেই। কিন্তু তাহলে এটা কী????
    -
    দিন ঘনিয়ে সন্ধ্যা আর সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নেমে এলো। আজ আমার ঘুম আসছেনা। কেমন যেন ভয় ভয় করছে। ঘরির কাটা টিক টিক করে রাত ১২ টা ছুঁই ছুঁই। আমি মোবাইল নিয়ে ফেসবুকে সময় কাটাচ্ছি। এমন সময় একটা গরম বাতাস অনুভব করলাম। কয়েক সেকেন্ডে ঘূর্ণিপাকের মত বাতাসের গতিতে সবকিছু নড়েচড়ে উঠল। মনে হচ্ছে যেন কেউ আমায় নাগরদোলা থেকে নিচের দিকে ফেলে দিচ্ছে। কয়েক সেকেন্ডে সব থমকে গেল। মাথাটা ঘোরাচ্ছে। কোথায় মোবাইল কোথায় আমি কোন খবর নেই শুয়ে আছি না দাড়িয়ে আছি তাও বুঝতে পারছিনা। কোন রকম চোখ খুলে দেখলাম আমার সামনে অনেক বড় বড় আর মোটা মোটা গাছ। ইন্নালিল্লাহ । এ কী হলো! আমি একটা গাছের সাথে বাঁধা । চাঁদের আলোয় স্পষ্ট বুঝতে পারছি আমি এখন শিমুল বাগে । কলিজা রিতিমত শুকিয়ে যাচ্ছে। মনে হয় আজরাঈল এসে গেছে। আমার মৃত্যুর আর সময় নেই। আমি কাঁপতে কাঁপতে কালিমা পড়তে থাকলাম। হঠাৎ দেখলাম পাশ থেকে আমার সামনে সেই চিরচেনা বোরকাওয়ালি হাজির।
    -
    তাকে দেখেই আমার চিৎকার করতে মন চাচ্ছে। কিন্তু কোন লাভ নেই। এখান থেকে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করলেও গ্রামের কেউ শুনবেনা। মানুষ তো দূরে থাক কুকুরের কানেও আমার আওয়াজ পৌঁছাবেনা। কিন্তু কী করবে? এই ভূতুরে মেয়ে মনে হয় আমায় মেরে ফেলতে এখানে এনেছে। সে যে ভূত তা বুঝতে আর বাকি নেই। আমার ভয়ে কান্না এসে পড়ল। সারা শরীর কাঁপছে। রাতে ঘুমানোর আগে হিশু দিয়ে শুয়েছিলাম পেটে পর্যাপ্ত পানিও নেই নাহয় এখনই নাপাক হয়ে যেতাম। আমি হাউ মাউ করে কান্না করে ভূতুরে মেয়েটার কাছে ক্ষমা চাইলাম-
    -
    = মাফ করে দেন, দয়া করে মাফ করে দেন। আমাকে মারবেন না। আমি বুঝতে পারিনি আপনি যে এত ভয়ানক ভূত। দয়া করে আমায় প্রাণে মারবেন না। আমায় যা বলবেন তাই করব। প্লি......ইইইইই
    - ওই চুপ। এখন আর একটা কথা বলবি তো তোর ডান গালটাও থাপরে দেব।
    = না না কিছু বলবনা। এইযে আমি চুপ হয়ে গেলাম। তবু আমায় ছেড়ে দিন। পায়ে পড়ি আপনার। আপনি আমার ধর্মের.............
    কথাটা বলে শেষ করার আগেই মেয়েটা তুফানের গতিতে আমার গলা চেপে ধরল। বাপরে বাপ হাত যথেষ্ট নরম আর কোমল কিন্তু এমন ভাবে ধরেছে যে নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
    - চুপ। আর একটা শব্দ করবি তো একদম মেরে ফেলব। তোর কত বড় সাহস। তোকে না বলেছি আমার কথার হেরফের না করতে? তাও তুই শুনিসনি ।
    = দেখেন বিশ্বাস করেন আল্লাহর কসম আমি আপনার কথা কাউকে বলিনি। কিচ্ছু বলিনি। জীবনে বলবওনা। আমায় ছেড়ে দেন..
    - হুমম কাউকে বলিসনি । কিন্তু তোকে গতকাল যা দিয়ে আসলাম তা ব্যবহার করলিনা কেন?
    = ভয়ে । বিশ্বাস করেন ভয়ে খাইনি।
    - কিসের ভয়?
    = আমি ভেবেছি ওসব আমাকে মেরে ফেলার জন্য দিয়েছেন। বিষ মনে করেছিলাম।
    - হাদারাম তোকে মারতে হলে আমার বিষ দিতে হবে কেন? তোকে তো আমি এমনি মারতে পারি। ওসব তোর ভালোর জন্যই দিয়েছি। আমি তোকে শেষবারের মত সময় দিচ্ছি। এরপর যদি আবার আমার কথা অমান্য করিস তবে আর সুযোগ দেবনা বলে দিলাম।
    = করবনা। একদম অমান্য করবনা। আল্লাহর কসম। আমি আজই ওই পানি খাবো। বিষ হলেও খাবো। মলম গালে মাখব। একদম তিনবার । আমায় ছেড়ে দেন দয়া করে।
    - হু মনে থাকে যেন।
    -
    কথা শেষ করে আমাকে গাছের বাঁধন থেকে ছাড়ালো। তারপর আবার সেই ঘূর্ণিপাক। এক গরম বাতাসে মনে হলো নাগরদোলা থেকে পড়ে যাচ্ছি। কিন্তু কিছু দেখছিনা এমন কী চোখ খুলতেও পারছিনা। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ধপাস করে পরে গেলাম। ভয়ে ভয়ে চোখ খুলে তাকিয়ে দেখি আমার রুমে খাটের মাঝে আছি। কিন্তু রুমে আর কেউ নেই। খাটে আমার পাশেই মোবাইলটা পরে আছে। আমি দ্রুত পায়ের কাছ থেকে কাথাটা নিয়ে শারা শরীর ঢেকে কাথার মাঝে লুকিয়ে গেলাম। কোলবালিসকে ঝাপটে ধরে যত সূরা আর দোয়া পারি পড়তে লাগলাম। মা আর আব্বাকে ডাকতে ইচ্ছে করছে কিন্তু ভয়ের চেয়ে আমার জীবন বড়। ওই ডাইনি আমার সব খবর রাখে। আমি কী করি না করি সব দেখে। তার নিশ্চই মালেকা হামিরার মত জাদুর আয়না আছে। এদিক সেদিক করলে ওই ডাইনি আমায় মেরে ফেলবে। জানিনা এসব যে মনে মনে ভাবছি তাও জেনে যায় কিনা। আল্লাহ তুমি রক্ষা করো।
    -
    কখন ঘুমিয়েছি জানিনা। সকালে আজানের সুরে ঘুম ভাংল। জেগে এদিক সেদিক তাকিয়ে দেখছি সব ঠিক আছে কিনা। সারারাত ভয়ানক সব দুঃস্বপ্ন দেখেছি। হঠাৎ মনে পরে গেল ডাইনির দেয়া সেই পানি আর মলমের কথা। এটা না খেলে আর ব্যবহার না করলে আমার রক্ষে নেই। বিষ টিষের কাথায় আগুন। তাড়াতাড়ি ডগডগ করে কৌটার সব পানি খেয়ে নিলাম। তারপর মলমের কৌটা হাতে নিলাম। কিন্তু এখন মাখলে তো আবার অজু করতে পারবনা। কোন রকম উঠে অজু করে আসলাম। এসে মলম মাখলাম গালে । আহা সেকি সুন্দর সুঘ্রাণ। নামাজটা ঘরেই আদায় করলাম। কারণ আজ বাহিরে যাওয়ার সাহস হচ্ছেনা।
    -
    টানা দুইদিন বাসা থেকে কোথাও যাইনি। আর ডাইনির দেয়া জাদুর পানি খেয়ে শরীরের দূর্বলতা একেবারে কেটে গেছে। ওদিকে গালের ব্যাথা আর দাগ একেবারে নেই বললেই চলে। আরো একদিন মাখতে পারব। হয়তো বাকিটাও চলে যাবে। তাহলে কী ডাইনি আমায় সত্যি সত্যি ভালো করার জন্য এসব দিয়েছে? বুঝলাম না কিছু। আমায় এত মারধর করল আবার আমার সুস্থতার জন্য এত কিছু। তার কোন উদ্দেশ্য নেই তো? কী জানি ভাই, আমার অতসব ভেবে কাজ নাই, আমি শুধু তার থেকে মুক্তি চাই, আমি যে তাকে ভীষণ ভয় পাই, ভয়ে এখন কম কম খাই, মনে হয় পেটে কোন ক্ষুধা নাই।

    (ভৌতিক রহস্যময়ী ভূতের গল্প ফেসবুক গ্রপ থেকে সংগৃহীত।) 
    ৪র্থ পর্ব পড়তে  
     
     
    👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রায় সকল পোস্ট-ই ফেসবুক থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]

    No comments

    Post Top Ad

    ad728

    Post Bottom Ad

    ad728

    আমরা আপনাকে বিনামূল্যে আমাদের আপডেট গুলি পাঠাতে যাচ্ছি। প্রথমে আপনার অনুলিপি সংগ্রহ করতে, আমাদের মেইলিং তালিকায় যোগ দিন। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, অকেজো তথ্য প্রেরণ করে আপনাকে বিরক্ত করবো না। সুতরাং কোনও আপডেট মিস করবেন না, সংযুক্ত থাকুন!