সফলতা একদিন আসবেই
তিনি কাজ ফেলে ছুটে গেলেন। দেখলেন ছোট একটা ছেলে পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে। পানিতে হাত নাড়ছে আর আতঙ্কে চিৎকার করছে। কৃষক ফ্লেমিং ছেলেটাকে ডোবা থেকে উদ্ধার করলেন। নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেল ছেলেটা সেদিন।
পরদিন সকালে একটা চমৎকার গাড়ি এসে থামল কৃষকের বাড়ির সামনে। মার্জিত পোশাক পরা এক ভদ্রলোক গাড়ি থেকে নেমে এলেন। কৃষক ফ্লেমিং যে ছেলেটাকে ডোবা থেকে উদ্ধার করেছিলেন, ভদ্রলোক নিজেকে সেই ছেলেটির বাবা হিসেবে পরিচয় দিলেন।
ভদ্রলোক বললেন-
‘আমি আপনাকে প্রতিদান দিতে চাই। আপনি আমার ছেলের জীবন বাঁচিয়েছেন।’।
জবাবে কৃষক ফ্লেমিং বললেন-
"না, আমি যা করেছি তা নিজ দায়িত্ববোধ থেকে করেছি। সুতরাং আমি তার প্রতিদান নিতে পারব না। ক্ষমা করবেন।"
এ সময় ঘর থেকে বেরিয়ে এলো কৃষকের ছোট্ট ছেলেটি।
ভদ্রলোক জানতে চাইলেন-
"এটা কি আপনার ছেলে?"
কৃষক জবাব দিলেন, ‘হ্যাঁ, এ আমার ছেলে।’
ভদ্রলোকটি আবার বললেন-
"আমি আপনাকে একটি প্রস্তাব দিতে চাই। আমার ছেলের মতো আপনার ছেলেকেও পড়ালেখা করানোর সুযোগটা অন্তত আমায় দিন। কারণ আপনার সামান্য গুণও যদি ওর মধ্যে থাকে তবে নিশ্চয় একদিন সে এমন বড় মানুষ হবে- আমরা সবাই তাকে নিয়ে গর্ব করব।"
বাস্তবে সেটিই হল। কৃষক ফ্লেমিংয়ের ছেলেকে ভর্তি করানো হল দেশের সেরা স্কুলে। সময়ের গতির সাথে তাল মিলিয়ে কৃষকের ছেলেটি বেড়ে উঠতে লাগল।
যথাসময়ে ছেলেটি স্নাতক পাস করল লন্ডনের সেন্ট মেরিজ হসপিটাল মেডিকেল স্কুল থেকে। আর সে ছেলেটিই একদিন সারা দুনিয়াকে তাক লাগিয়ে দিয়ে মানব ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার #পেনিসিলিন আবিষ্কার করল। চিকিৎসা বিজ্ঞানের উপর নোবেল পুরস্কারটিও তুলে নিল নিজের ঘরে। বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করল
#স্যার_আলেকজান্ডার_ফ্লেমিং হিসেবে।
কয়েক বছর পরের কথা। কৃষকের সাহায্যে প্রাণে বেঁচে যাওয়া ভদ্রলোকের সেই ছেলেটি মারাত্মকভাবে নিউমোনিয়ায় ভুগছিল। তার অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে উঠল।
অবশেষে তার প্রাণ বাঁচল তার পিতার ঘরেই লেখাপড়া করে বড় হয়ে ওঠা সেই কৃষকের ছেলেটির আবিষ্কৃত পেনিসিলিনের বদলৌতে।
নিউমোনিয়া থেকে সুস্থ হওয়া ছেলেটির পিতা সেই ভদ্রলোকের নাম ছিল লর্ড রানডলফ চার্চিল। আর তার ছেলেটির নাম কি জানেন?
সেই ছেলেটির নাম স্যার উইস্টন চার্চিল।
সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী এবং বৃটেনের অন্যতম সেরা রাজনীতিক ও সফল প্রধানমন্ত্রী।
এক বৃন্তে দু'টি ফুল। এক ঘরে পৃথিবীর দুই সেরা মনীষী! সত্যিই !! মহান স্রষ্টা চাইলে কি না পারেন !!!
এই গল্প থেকে বুজা গেল ভালো কাজের ফল শেষ পর্যন্ত অবশ্যই ভালো হয়। সুতরাং ভাল কাজ করতে থাকুন-ভাল ভাবে চলতে থাকুন। প্রতিদান দেয়ার মালিক স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা। সফলতা একদিন আসবেই।
Source:
"What Goes Around Comes Around" & Wikipedia.
২৫/০৬/২০ ইং
ছবি-উইকিপিডিয়া।
বামে- স্যার আলেকজান্ডার ফ্লেমিং, ডানে-স্যার উইস্টন চার্চিল

No comments