মেয়েটা এইটে পড়লেও যথেষ্ট পেকে গেছে। এমন ভাবে কথা বার্তা বলে যেন সে কোন বিবাহযোগ্য কন্যা। নাইকাদের মত ঢং করে কথা বলে। কিন্তু মেয়েটা হয়তো আমাকে শিক্ষক হিসেবে মেনে নিতে পারেনি। আমাকে বিভিন্নভাবে বিদ্রুপ করে। আমি খুব হেংলা, চেহারা ভালো না আরো কত কি!
আজ যখন পড়াতে আসলাম তখন বলেই ফেলল-
- স্যার একটা কথা বলি?
= হুমমম বলো ।
- আমি না আপনার মতো এত ছোট টিচার দেখিনি আগে।
= কেন তোমাকে পড়াতে হলে কী আমায় বুড়ো পন্ডিত সাহেব হতে হবে? আমি তোমার চেয়ে যথেষ্ট সিনিয়র।
- স্যার আরেকটা কথা।
= খুব দরকারি না হলে বলার দরকার নেই।
- না স্যার শুনেন না।
= হুমম বলো।
- স্যার আপনি দাড়ি রাখছেন কেন? একদম হনুমানের মত লাগে।
-
তার এসব আচরণে আমার অনেক মেজাজ গরম হয়। কিন্তু বেশি কিছু বলতে গেলে আমার টিউশনটা থাকবেনা। আর টিউশনটা না থাকলে বেশিদিন ঢাকায় এভাবে সানির ঘারে চড়ে থাকতেও পারবনা। তাই সব সহ্য করে নিচ্ছি। ওদিকে সানি বলছে সে নাকি আরেকটা টিউশনির ব্যবস্থা করেছে আমার জন্য।
-
এভাবেই চলতে লাগল। কয়েকদিনের মধ্যে দুই তিনটা টিউশনির ব্যবস্থা হয়। কিছুটা ব্যস্ত হয়ে যাই । মেহরিমার কথা ভাবার সময় কিছুটা হলেও কমে আসে। মনে মনে জেদ কাজ করে। থাক, যে আমায় মনে করেনা, যার আমায় মনে পড়েওনা তার কাছে নিজেকে এত ছোট করে কী লাভ? আমি বরং তাকে ভুলে যাওয়ারই চেষ্টা করি।
-
আজ প্রায় ২০ দিন চলল।
“নীরা” আমার সেই পাকা ছাত্রীকে পড়াতে যাচ্ছি। যাবার সময় একটা দোকানের কলম দেখে চোখ আটকে গেল। বেশ সুন্দর একটা কলম। রোজ রোজ নীরার কাছ থেকে কলম নিয়ে খাতা দেখতে ভালো লাগেনা। তাই কলমটা কিনে নিলাম। কলমটা পাঞ্জাবীর বোতাম ঘরের পাশে আটকিয়ে চলতে লাগলাম।
-
= কী বেপার নীরা তুমি তো সব ভুল করে বসে আছো। এসব কী করেছো? (আমি)
- স্যার কালকে রাতে মাথা ব্যাথা ছিল।(নীরা)
= তুমি কিন্তু প্রচুর মিথ্যে কথা বলো। আমি খেয়াল করে দেখেছি।
- স্যার একটা কথা বলি?
= দেখো একদম আজাইরা কথা বলবেনা। পড়ার বিষয়ে কোন কথা থাকলে বলতে পারো।
- আচ্ছা পড়ার বিষয়েই বলি। আজ আইসিটি ক্লাসে স্যার রেম আর রম নিয়ে বোঝাচ্ছিল। আচ্ছা স্যার রেম আর রম দিয়ে কী করে?
= বইতে তো এর পূর্ণরূপ আছে। আর এর কী কাজ তাও আছে। পড়ে নাও।
- না স্যার ওটাতো মুখস্ত করেছি। কিন্তু ভালোমত বুঝিনাই । আপনি একটু বুঝিয়ে দেন না। এগুলা দিয়ে কী করে?
= উফ.... আচ্ছা ঠিকাছে আমি আমার মত করে তোমাকে সহজভাবে বোঝাই।
- হুমমম স্যার।
= শোনো আগে রমের ব্যপারটা বলি। মনে করো কয়েকজন লোকের জন্য বিরিয়ানির আয়োজন করা হয়েছে। বিরিয়ানির জন্য বড় একটা হাড়ি আনা হলো। এইযে বিশাল বিরিয়ানির হাড়ি এটাই হলো রম। এখানে সব বিরিয়ানি গুলো মজুদ থাকে। দরকার অনুযায়ী এখান থেকে নেয়া হয় একটু একটু করে। ঠিক তেমনি মোবাইল বা কম্পিউটারের রম হলো এই বিড়িয়ানির বিশাল হাড়ির মত। যেখানে সকল ফাইল বা সফটওয়্যার মজুদ থাকে।
- আচ্ছা আর রেম দিয়ে কি করে স্যার?
= বলছি শোন, রেম হলো ওই ছোট ছোট বিরিয়ানির প্লেটের মতো। ছোট ছোট প্লেটে যতটুকু বিরিয়ানি করে নেয়া হবে ওটাই হলো রেম। হাড়ি থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী এক প্লেট বা দুই প্লেট বিরিয়ানি যেমন প্রয়োজন অনুযায়ী নেয়া হয় তেমনি মোবইল বা কম্পিউটারে যখন ওই রম থেকে একটা বা দুইটা সফটওয়্যার বা ফাইল নিয়ে কাজ করা হয় তখন সেটা প্লেটের মতো রেমের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়।
- স্যার............
= কী......
- সত্যি স্যার আপনি তো খুব ভালো বোঝান। আমি না এটা কখনোই বুঝতামনা আপনি না বোঝালে।
= হয়েছে আর হাওয়া দিতে হবেনা। এখন গতকালকের পড়াগুলো শেষ করো।
- আচ্ছা স্যার আরেকটা কথা বলি?
= উফ আর কোন কথা না। পড়ো।
- না স্যার শুনেন, আপনি বিরিয়ানি দিয়েই কেন উদাহরণ দিলেন? আপনি কী করে বুঝলেন আজ বাসায় বিরিয়ানি পাকানো হয়েছে?
= আরে কী আশ্চর্য । আমি কেন বুঝতে যাব। আমি তো একটা উদাহরণ দিলাম মাত্র।
- আচ্ছা স্যার আমি আসছি।
= আরে কোথায় যাও?
- আসছি ১ মিনিট।
-
হায় আল্লাহ, এই মেয়ে না জানি আমার ইজ্জত মারতে গেল। কেন যে বিরিয়ানির উদাহরণ দিতে গেলাম। এর চেয়ে ভালো পান্তা ভাত দিয়ে বুঝাইতাম। ভাবতে ভাবতে নীরা চলে আসল।
-
= এই কোথায় গিয়েছিলে তুমি?
- ওই একটু আম্মুর কাছে।
= কেন?
- এমনি স্যার।
= হুমমম লিখ তাড়াতাড়ি। সব অংক গুলো করে দেখাবে।
- আইচ্ছা।
= হুমমম।
-
নীরা অংক করছে আর আড়চোখে আমার দিকে বারবার তাকাচ্ছে। কয়েক মিনিট পর সে বলে উঠল-
- স্যার কলমটার কালি ভালো মত আসছেনা।
= কই দেখিতো।
- না স্যার দেখতে হবেনা। এটা ফেলে দেই।
কথাটা বলেই কলমটা জানালা দিয়ে ছুড়ে ফেলে দিল।
= আরে আরে কী করলে? ওটা তো ভালোই ছিল।
- না স্যার ভালো ছিলনা।
= তো এখন লিখবে কী দিয়ে ?
- কলম নাই তাই লিখবনা। আর আপনার কলমটা দিলে লিখব।
-
ও আচ্ছা। ফাজিল মেয়েটা আমার কলমের উপর নজর দিয়েছে। কেমন লাগে, কত শখ করে কলমটা কিনলাম। তার উপর নজর দিয়ে বসল। এখন এটা দিলে তো আর চাইতেও পারবনা। কী আর করা আমার কলমটাই তাকে দিলাম। সে অংক করল। একটাও হয়নি। তাকে বোঝালাম সব। একটু পর তার মা আসল বিরিয়ানি নিয়ে। যা ভেবেছিলাম তাই হলো। মেয়েটা আমার ইজ্জত পুরাই আরএফএলের প্লাস্টিক বানিয়ে ছেড়েছে। আন্টি চলে গেল।
-
= ..............
- স্যার খাবেন না?
= তুমি খাও। আমি খাবোনা।
- স্যার আমিতো খাবোই। প্লেট তো দুইটা। আপনার একটা আর আমার একটা।
= আমারটা সহ তুমিই খাও। আমি গেলাম।
- স্যার স্যার স্যার এমন করবেন না। এইযে আমি কান ধরছি। এইযে দরকার হয় উঠবস করছি তাও এমন রাগ করবেন না।
= উফ তুমি কিন্তু অতিরিক্ত করো নীরা।
- স্যার এখন না খেলে সত্যি সত্যি সব জানালা দিয়ে ফেলে দেব।
= আরে কিসব আবল তাবল কথা । আচ্ছা খাচ্ছি ।
- হুমমমম (মুচকি হেসে শরীরটাকে ডানে বামে পুতুলের মত নাড়িয়ে)
-
আমি খাচ্ছি আর মেয়েটা ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে।
= কী বেপার খাচ্ছো না কেন?
- স্যার আপনি না খুব সুন্দর করে খান। আমারগুলোও খেয়ে ফেলেন আমি দেখি।
= দেখো তুমি যেসব আচরণ করছো তা কিন্তু এক প্রকার বেয়াদবি। ধুর আর থাকা যাবেনা। আমি কালকে তোমার বাবার সাথে কথা বলব। এভাবে কথা না শুনলে আর বেয়াদবি করলে আমি আর পড়াতে আসবনা।
-
আমি রুম থেকে বেরিয়ে চলে আসছি। নীরা ফেলফেল করে তাকিয়ে আছে। নীরার অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে এ কয়েকদিনে। প্রথম প্রথম আমাকে ঠাট্টা বিদ্রুপ করলেও এখন আর করেনা। আমার কথা বার্তা, পড়নোর ধরণ তার কাছে খুব প্রিয় হয়ে উঠেছে। তাছাড়া সেদিন তার ছোট বোনকে ছবি আঁকা শিখিয়েছিলাম। আমার আঁকা আঁকি দেখেও সে মুগ্ধ। সে এখন বুঝতে শিখেছে যে একজন মানুষকে কখনো বাইরের রূপ দেখে বিচার করা যায়না, বিচার করতে হয় তার চরিত্র, গুণ আর প্রতিভা দিয়ে।
-
কিন্তু নীরার চালচলন আজকাল মোটেও ভালো ঠেকছেনা। সে যেসব আচরণ করছে তা একটু অন্যরকম দিকে চলে যাচ্ছে। সন্ধ্যা হয়ে গেছে প্রায় । আমি রেল লাইনের পথ ধরে হাঁটছি। সামনে পেছনে কাউকে দেখা যাচ্ছেনা। চাঁদটা উঠবে উঠবে ভাব। এমন সময় আমার পেছন থেকে কেউ ডেকে উঠল-
-
- এই দাড়ান...... ।
তাকিয়ে দেখি মেহরিমা। আমার রূপকথার সেই পরী। আমার সারা শরীর যেন শিউরে উঠল। পশম গুলো সব দাড়িয়ে গেছে। মেহরিমা এভাবে আমার কাছে আসবে তা কল্পনাও করিনি। কিন্তু সে হঠাৎ কেন? তাও কিনা এতদিন পর।
-
- আপনি আর নীরা কে পড়াতে যাবেন না। (মেহরিমা)
= মানে কী? কী বলছেন এসব? পড়াতে যাবনা কেন? (আমি)
- যাবেন না মানে যাবেন না ব্যাস।
= আরে পড়াতে না গেলে কীভাবে হবে? সানিকে বলেছি একটা ছোট খাটো চাকরির ব্যবস্থা করতে। সময় লাগবে। এখন তার উপর বসে বসে খাবো নাকি? কয়েকটা টিউশনি করলেতো তাকে সাহায্য করতে পারি।
- সাহায্য করবেন ভালো কথা। কিন্তু ওই মেয়েকে আর পড়াতে যাবেন না।
= আচ্ছা কী হয়েছে বলেন তো? আর আপনি না আমার কাছে আর আসবেন না? তাহলে এলেন যে?
- এত কিছু বলতে পারবনা। নীরা কে পড়াতে যাবেন না এটাই চুড়ান্ত।
= কিন্তু কেন?
- কেন মানে? তাকে কী পড়াতে যান নাকি প্রেম করতে যান?
= আরে কী সব বলছেন?
- চুপ! আমি সব দেখি সব জানি।
= হুমম তা তো বুঝতেই পারছি। আমায় ছেড়ে চলে গিয়ে আবার সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে দিয়েছেন।
- এসব শুনতে চাচ্ছিনা।
= আরে নীরার বয়স কম। কত আর হবে। চৌদ্দ কি পনেরো। ওর আচরণ গুলো আমারো একটু অন্যরকম লাগে। সমস্যা নেই ঠিক হয়ে যাবে। আর কদিন যাক একদিন বুঝিয়ে বলব।
- না কিছু বোঝাতে হবেনা। এই নিন আপনার কলম।
= একি! এটা আপনার কাছে এলো কি করে? এটা তো নীরা কে দিয়ে আসলাম।
- দিয়েছেন ভালো করেছেন। ওকে আর কিছু দিবেন না। কলম ধরবেন নাকি ফেলে দিব?
= আচ্ছা এখন এটা দিয়ে কী করব বলেন তো? কলমটা যদি নীরা আবার আমার কাছে দেখে তাহলে কী ভাববে?
- ওহ নিবেন না? ঠিকাছে ।
-
কথাটা বলেই কলমটা একেবারে নদীর মাঝখানে ফেলে দিল। কী জেদ রে বাবা। আমার কাছে নাকি আর আসবেনা। এখন আবার হিংসায় জ্বলে যাচ্ছে। জানিনা কী কারণে মেহরিমার এই কাজটি আমার কাছে এত্ত ভালো লাগছে। তবে কী মেহরিমাও আমায়.....???? উফ ভাবতেই কেমন কাতুকুতু লাগে।
-
বাসায় গিয়ে রাতের খাবার খেয়ে আমার ফেসবুক একাউন্টে একটা সুন্দর কবিতা লিখে পোস্ট করলাম। আমার একটি ভূতুরে একাউন্ট আছে। ভূতুম ভূতু। হাহাহা। সানি পাশে নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে। আমি ফেসবুক চালাচ্ছি। একটা মেয়ে ওই ভূতু বলে মেসেজ দিল। আমি রিপ্লাই দিলাম। খুব মজা করছি তার সাথে। হঠাৎ হাত থেকে কে যেন মোবাইলটা হেচকা টান দিয়ে নিয়ে গেল। আরে কী আশ্চর্য এসব কি? আমার তো বুঝতে বাকি নেই এটা কার কাজ। শেষ পর্যন্ত আমাকে ফেসবুকেও গার্ড দিয়ে রাখবে? নাহ মোবাইলটা আর পেলামইনা। বৃথা চেষ্টা করে আর লাভ নাই। তাই খুশি মনে ঘুমিয়ে পড়লাম। সারারাত মেহরিমার কল্পনায় কাটল। তার এসব কর্মকান্ড আমার হৃদয়ে ঢেউ তুলে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে তার প্রতি আরো দূর্বল হয়ে যাচ্ছি।আমি তো চাই সে প্রতিটা মিনিট আমার খেয়াল রাখুক। আজকাল তাকে নিয়ে অন্যরকম চিন্তা ভাবনা কাজ করে। যা আগে হয়নি। কেমন অসম্ভব অসম্ভব চিন্তাধারা।
-
সকালে ঘুম থেকে জেগে দেখি মোবাইলটা পাশেই টেবিলে রাখা। মোবইলটা হাতে নিয়ে মুচকি মুচকি হাসছি। সানি বলে উঠলো-
- কিরে পরীর সাথে কথা বলছিস নাকি? এত খুশি কেন?
= আরে না না। এমনি । একটা সুন্দর স্বপ্ন দেখেছিতো তাই।
- ও আচ্ছা । তোর স্বপ্ন বলে কথা। যতই হোক পরীর প্রেমিক।
= হাহাহা।
-
সকালে নাস্তা শেষ করে একটা টিউশনিতে চলে গেলাম। সারাদিনে চারটা টিউশনি করি। সকালে একটা । দুপুরে একটা। বিকেলে একটা। আর সন্ধ্যায় নীরাকে পড়াই।
-
আজ সন্ধ্যায় যখন নীরাকে পড়াতে গেলাম তখন দেখি পড়তে বসে নীরা কোন কথা বলছেনা। মন খারাপ করে গাল ফুলিয়ে বসে আছে।
= কী বেপার নীরা ? এভাবে গাল ফুলিয়ে বসে আছো কেন? কী হয়েছে?
- কিছুনা।
= আরে পড়ার সময় এভাবে মন খারাপ থাকলে হবে? কোন সমস্যা থাকলে বলো? মাথা ব্যথা করছে?
- না ।
= তাহলে?
- আম্মু বকেছে।
= কেন? আম্মু বকলো কেন?
- ইরা কে মেরেছি তাই।
= ইরাকে কেন মারলে?
- স্যার কালকে যে আপনি কলমটা দিলেন সেটা ইরা কোথায় যেন হারিয়ে ফেলছে।
(এইযা এবার সেরেছে)
= ও আচ্ছা। ইরা হারালো কীভাবে? তুমি কী নিশ্চিৎ?
- ও না হারালে কে হারাবে? ঘরে আর কেউ আছে নাকি?
= তাও ঠিক। কিন্তু নিশ্চিৎ না হয়ে ইরাকে এভাবে মারা উচিৎ হয়নি। আচ্ছা তোমাকে আরেকটা কলম কিনে দেব।
- সত্যি?
= হুমমম , আচ্ছা এবার দেখি বাড়ির কাজ দেখাও।
- স্যার একটা কথা বলি?
= ওহ আল্লাহ । তোমার এই অভ্যাসটা কবে যাবে বলোতো?
- আহা শোনেননা।
= হু বলোহ.........।
- আগামি ২৭ তারিখ আমার জন্মদিন । আমি চাই সেদিন আমকে একটা কলম গিফট করবেন। আর সাথে ফুল।
= আউচ্ । উপহার কেউ চেয়ে নেয়?
- আহা, আপনি বলছেন একটা কলম দিবেন তাই বললাম একেবারে জন্মদিনেই দিয়েন। শুধু শুধু দুইবার খরচ করার কী দরকার?
= ওরে বাপরে.... পকেট আমার আর চিন্তা তোমার । আচ্ছা ঠিকাছে এসব পরে দেখা যাবে। এখন বাড়ির কাজ দেখাও।
- করিনাই।
= করোনাই মানে? রাতে কি করেছো।
- রাতেই তো মা বকলো।
= বাপরে, সেই রাতের বকার গাল ফুলানি আজ সন্ধ্যা অবদি চলছে? নাকি এটা শুধু আমাকে দেখানোর জন্য?
- স্যা আ আ আ আ আ আ র.........(মেয়েরা মাঝে মাঝে এভাবেই ঢং করে স্যারদের ডাকে)
= আচ্ছা ঠিকাছে এখন সবগুলো বাড়ির কাজ আমার সামনে করবে।
-
নীরা কে পড়ানো শেষ করলাম। আসার সময় সে আবারো তার জন্মদিনের তারিখটি মনে করিয়ে দিল। পুরাই পাগল একটা মেয়ে। তার জন্মদিনের আর মাত্র ৭ দিন বাকি।
-
এ কয়দিন আর মেহরিমা আমার কাছে আসেনি। তবে তার উপস্থিতি টের পেয়েছি বহুবার। রাতে কারো সাথে চ্যাট করতে গেলেই সে মোবাইটা ছিনিয়ে নেয়।
-
৭ দিন পর আজ নীরার জন্মদিন। রাত ১০ টায় কেক কাটার আয়োজন করা হয়েছে। সন্ধ্যায় সেই দোকান থেকে চার-পাঁচটা কলম কিনে সেগুলোকে র্যাপিং পেপার দিয়ে মুড়িয়ে নিলাম। তারপর একটা বড় দেখে ফুলের তোরা কিনলাম। নীরা কে এর চেয়ে বড় কিছু দেয়ার ইচ্ছে ছিল। কারণ একটা জন্মদিনের দাওয়াত খেতে যাব সেখানে এই ছোট্ট উপহার একদম যায়না। তাছাড়া আমি তার শিক্ষক। যদিও আমাকে শিক্ষকের মত লাগেনা। একটু বয়স কম, কিন্তু তাও শিক্ষক তো। আমি এতটুকু নিয়েই চললাম। নীরাদের বাসায় গিয়ে দেখি বেশ ভালো লোকজন এসেছে। একটা টেবিলে অনেক উপহার দেখা যাচ্ছে। সম্ভবত সবার উপহার এখানেই রাখা। আমার কলমের বক্স আর ফুলের তোরা টেবিলের উপর রেখে ভেতরে চলে গেলাম।
-
নীরা একটা গাঢ়ো সবুজ রঙের শাড়ি পড়েছে। শাড়ি পড়লে মেয়েদের আসলেই অনেক বড় বড় লাগে। নীরা আমাকে দেখে মুচকি হাসছে। যথারীতি সাধারণ ভাবেই কেক কাটা শেষ হয়ে গেল। নীরা অবশ্য এখানেও পাগলামি করে ফেলেছিল। সে কেক এনে আমাকে খাইয়ে দিতে চেয়েছিল । আমি তার হাত থেকে কেক নিয়ে আমার হাতেই খেয়ে নেই। নাহয় সবার চোখে বেপারটা কেমন যেন দেখাতো। সবাই কী ভাবতো জানিনা। তবে আমার চোখে বেপারটা ভালো লাগতোনা। অনুষ্ঠান শেষে চলে আসব। তখন নীরা পেছন থেকে ডাকল-
- স্যার........
= হুমমমম ।
- আমাকে কেমন লাগছে?
= উমমমমম.....একদম পরীর মত।
- আচ্ছা স্যার আমার গিফট কই?
= ওইযে টেবিলের উপরই রেখেছি।
- ওখানে কেন? আমার হাতে দিন।
= আহা। আচ্ছা দাড়াও দিচ্ছি।
-
কী আজব। আমার দেয়া কলমের বক্স আর ফুলের তোরা তো দেখছিনা। কোথায় গেল? পাশের ছেলেটাকে জিজ্ঞেস করলাম সেও নাকি একটু আগেও দেখেছিল কিন্তু এখন আর দেখছেনা। এ কেমন কথা? কোথায় যাবে এগুলো। হঠাৎ আমার মনে পড়ে গেল মেহরিমার কথা। তাহলে কী এটা তার কাজ? হ্যা নিশ্চিৎ তারই কাজ হবে। কিন্তু সে এটা নিয়েও এমন একটা কাজ করল? এটাকি খুব বারাবারি নয়? নাহ একদম মেনে নিতে পারলামনা। নীরার কাছে শিক্ষক হিসেবে ছোট করে দিল আমায়। নীরার মনটা খারাপ হয়ে গেছে।
-
নাহ এভাবে আমাকে বেইজ্জত না করলেও পারত। আজ বড্ড বেশি খারাপ লাগছে। মেয়েটা অবুঝ । তার বয়স কম। সে তো এত কিছু বোঝেনা। আবেগ কদিন পরই কেটে যাবে। কিন্তু মেহরিমা এমনটা করল কীভাবে? সে একদিকে আমার থেকে দূরে সরে থাকে আবার আমার সাথে কাউকে সহ্যও করতে পারেনা। কী অদ্ভূত!
-
রাতে আমার মন খারাপ । সানি বলছে ডিনার করতে কিন্তু আমি কিছু খেলামনা। মন খারাপ করে একা একা বাড়ির ছাদে গিয়ে দাড়িয়ে রইলাম। যদিও বাড়ির ছাদে আসা নিষেধ। কেউ নেই তাই এসেছি। মেহরিমা আমার প্রতি দূর্বল তা আমি বুঝতে পারছি। জানিনা সে কীভাবে এতটা পরিবর্তন হলো। কিন্তু তার এই বাচ্চামিটা না করলেও পারত আজ। স্তব্ধ আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি। কিছু তারা দেখা যাচ্ছে। হঠাৎ পেছনে কেউ একজনের শব্দ পেলাম। ভেবেছিলাম সানি বা বাড়ির কেউ হবে।
-
কিন্তু তাকিয়ে দেখি মেহরিমা। আধো আলোয় চোখগুলো দেখা যাচ্ছে। ছলছল করছে চোখগুলো। তার হাতে কলমের বক্স আর ফুলের তোরা। সে আমার কাছে সেগুলো এগিয়ে দিয়ে বলল-
- মাফ করবেন। আমার ভুল হয়ে গেছে। আমি বুঝতে পারিনি। এমনটা আর হবেনা। এই নিন এগুলো কালকে নীরা কে দিয়ে দিয়েন। আর বলবেন একটা চোর এগুলো চুরি করেছিল।
-
এটা বলে মেহরিমা আমার হাতে কলমের বক্স আর ফুলের তোরা দিয়ে উধাও হয়ে গেল। যদিও তার কাজটি ভুল হয়েছে। কিন্তু তার এমন মলিন চেহারা আমার মোটেও ভালো লাগেনি। মেহরিমার জন্য এখন আরো বেশি খারাপ লাগছে। মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম নীরাকে আর পড়াবোনা।
(ভৌতিক রহস্যময়ী ভূতের গল্প ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত)
৯ম পর্ব পড়তে
👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রায় সকল পোস্ট-ই ফেসবুক থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]
No comments