• সাম্প্রতিক

    ৪র্থ বিশ্বযুদ্ধ ও পাথর নিক্ষেপ

    আমরা জানি রাসুল সা. এর ভবিষ্যত বাণীতে বলা আছে, ঈমাম মাহাদি ও ঈসা আ. এর আগমনের সময় মানুষ তরবারির যুদ্ধ করবে। ঈসা আ. দাজ্জালকে বর্শার আঘাতে ধ্বংস করবেন। অনেকে মনে করেন এটা কিভাবে সম্ভব? যেখানে মানুষ মহাকাশে যাচ্ছে, মঙ্গলে বসবাসের চিন্তা করছে, বিমান রকেটের যুগ চলছে, ইলন মাস্ক তো এমন গাড়ি বানাচ্ছে, যেগুলা একসাথে সড়কে, আকাশে, এমনকি আন্ডারগ্রাউন্ড দিয়েও চলবে। 
    তাহলে কি ঈমাম মাহাদির আগমন আরও হাজার হাজার বছর পরে হবে? যখন এসব কিছুই থাকবে না?

    এটাও-বা কিভাবে সম্ভব? যেখানে মানুষ সময়ের ব্যবধানে শুধু উন্নতির দিকেই যাচ্ছে। সে হিসেবে তো আরো হাজার বছর পরে মানুষ কয়েকটি গ্যালাক্সিতে বসবাস এবং যাতায়াতের মতো শক্তি অর্জন করবে। তাহলে ঈমাম মাহদির আগমনের সময় পুনরায় ঘোড়ায় চড়া, তরবারি, বর্শা ইত্যাদির যুগ কেমনে আসবে? 
    এসব কনফিউশানের একটাই উত্তর ৩য় বিশ্বযুদ্ধ। 
     
    শতাব্দীর সেরা পদার্থবিজ্ঞানী আইন্সটাইনকে একবার প্রশ্ন করা হয়েছিলো "৩য় বিশ্বযুদ্ধে কি ধরনের অস্ত্র দিয়ে লড়াই হবে?" কারণ ২য় বিশ্বযুদ্ধে তো অলড়েডি এটোম বোমা ব্যবহার হয়ে গেছে। 

    উত্তরে আইন্সটাইন বলেছিলেন-"৩য় বিশ্বযুদ্ধ কি দিয়ে হবে জানি না, তবে ৪র্থ বিশ্বযুদ্ধে মানুষ একে অপরের দিকে পাথর নিক্ষেপ করবে। 
    কথাটির অর্থ হলো ৩য় বিশ্বযুদ্ধ মানব জাতির এই অগ্রযাত্রা ও আধুনিক সভ্যতার সবকিছু ধ্বংস করে দেবে এবং মানুষ ঐ পর্যায়ে চলে যাবে, হাজার বছর পূর্বে যে পর্যায়ে ছিলো। মানে নিউক্লিয়ার ওয়ার৷।
      
    এটা সকলেই এখন জানি, নিউক্লিয়ার ওয়ার মানেই সবকিছু ধ্বংস। তারপরেও তো প্রশ্ন থাকে!! "নিউক্লিয়ার ওয়ার হলেও কি মানুষ গাড়িতে চড়বে না? বিমানে উড়বে না? পরবর্তীরা কি এসব পুনরায় চালু করতে পারবে না...??   
          
    প্রথম কথা হলো,আমার ধারণা মতে; বর্তমান পৃথিবীতে যত ধরনের প্রযুক্তি আবিস্কার হয়েছে বা মজুদ, এর অধিকাংশই সবই শহরকেন্দ্রিক। বিজ্ঞানী বলেন আর প্রযুক্তিবিদ বলেন বা অনুরূপ জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব; সকলের বসবাস ও জীবনযাপন শহর কেন্দ্রিক। সকল ধরনের প্রযুক্তির সরঞ্জামও শহরে অবস্থিত। আর ৩য় বিশ্বযুদ্ধ হলে নিউক্লিয়ারগুলা পড়বেও এসব শহরে। আর একটি নিউক্লিয়ার একটি শহরে পড়া মানেই নিমিষেই ঐ শহরের সবকিছু শেষ !!!
          
    প্রশ্ন হচ্ছে, পৃথিবীর একটি উন্নত শহরও কি সেই যুদ্ধের সময় বেচে যাবে না?   
       
    নিউক্লিয়ার ক্ষমতা সম্পন্ন দেশ প্রথমত আমেরিকা, চীন, ইউরোপ, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইন্ডিয়া, ইসরাইল, কোরিয়া ও ইরান-(আংশিক) ইত্যাদি দেশগুলো। এদের ভৌগোলিক অবস্থান পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে। ৩য় বিশ্বযুদ্ধ মানে এরা প্রত্যেকে একে অপরের সাথে লড়াই করবে এবং সকলেই শত্রু দেশের শহরগুলা পরস্পর ধ্বংস করে দেবে । সেই ধ্বংসযজ্ঞ থেকে রেহাই পাবেনা কোনো পাওয়ার প্লান্ট, হবেনা কোনো বিদ্যুৎ সাপ্লাই, চলবেনা কোনো ল্যাবরেটরি, বাঁচবেনা কোনো বিজ্ঞানী বা প্রযুক্তিবিদ। শুধুমাত্র গ্রাম অঞ্চলের মানুষেরা অনেকে বেচে থাকবে। যাদের সেই শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকবেনা যে;  পুনরায় এসব চালু করতে পারবে। শুধুমাত্র বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলাও যদি ধ্বংস হয় এবং পুনরায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করার মতো মানুষ যদি না থাকে, তাহলে আলটিমেটলি সবকিছুই ধ্বংস বা অকেজো হয়ে পড়বে। বিদ্যুৎ ছাড়া আপনার হাতে বন্দুক থাকলেও আপনি বুলেট বানাতে পারবেন না। সড়কে গাড়ি থাকলেও মাটি থেকে তেল উত্তোলন করতে পারবেন না।
         
    আমার কনফিউশান, আদৌ কি ৩য় বিশ্বযুদ্ধ হবে...??? 
    যেখানে সবাই জানে এই যুদ্ধ অর্থাৎ "নিউক্লিয়ার ওওার" মানেই সবকিছু ধ্বংস...!!      
        
    দ্বিতীয়; বিশ্বযুদ্ধের পর পৃথিবীতে আরো বহু যুদ্ধ হয়েছে, ভিয়েতনাম, কিউবা, আফগানিস্তান, আরব বিশ্ব, আফ্রিকা ইত্যাদিতে। এসব দেশে নিউক্লিয়ার শক্তিধর দেশগুলা একে অপরের বিরুদ্ধে অবস্থান করে প্রক্সি লড়াই করেছে। কোনো দেশে একপক্ষ জয়ী হয়েছে তো কোনো দেশে অন্যপক্ষ।  কিন্তু কখনোই তারা নিজেদের মধ্যে সরাসরি লড়াইয়ে নামেনি। তারাও জানে নিজেরা সরাসরি লড়াই করা মানেই ৩য় বিশ্বযুদ্ধ। কিন্তু যেসব দেশে যারা এতবছর প্রক্সি লড়েছে, সেগুলা হলো ইউরোপের বাহিরে। কিন্তু লড়াইটি যখন ইউরোপের ভিতরে শুরু হয়ে যায়, সেটা অবশ্যই চিন্তার বিষয়। প্রথম এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনাও হয়েছিলো ইউরোপের ভিতর থেকে। 
     
    ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মান, স্পেন ইত্যাদি পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলা হাজার হাজার বছর ধরেই পৃথিবীর শক্তিশালী দেশ। কেউ কখনো সুপারপাওয়ার ছিলো, কেউ কখনো মোস্ট পাওয়ার। আর দুটি বিশ্বযুদ্ধ এরাই লড়েছে পূর্ব ইউরোপের দেশগুলার কনফ্লিক্টে প্রক্সিতে জড়িয়ে। এবারও পূর্ব ইউরোপের দেশ আক্রান্ত হয়েছে, প্রক্সিতে আসতেছে পশ্চিম ইউরোপ। রাশিয়া নিজেকে একা দেখে নিউক্লিয়ারের ব্যবহার এবং মহাকাশ স্টেশন ধ্বংসের হুমকি দিচ্ছে৷ 
    এই কনফ্লিক্ট যদি অতি দ্রুত শেষ না হয় এবং এটি যদি বাড়তেই থাকে, আর সমগ্র ইউরোপ ও আমেরিকা এতে সরাসরি জড়িয়ে যায়, তাহলে আশংকা একেবারে উড়িয়ে দেবার মতো নয়।
     
    কিছু কিছু আলেম-ওলামা যে প্রায়ই বলে্ন, ঈমাম মাহাদির আগমন অতি সন্নিকটে, কেয়ামত অতি সন্নিকটে, এসব কথাও একেবারে হেলায় উড়িয়ে দেবার মতো নয়। আল্লাহই ভালো জানেন এই বিশ্বের ফিউচার কি হবে, কেমন হবে বা কিভাবে হবে!
       
    বর্তমান কনফ্লিক্টের বিভিন্ন নিউজ ফলো করতে করতে এসব কথা মাথায় ঘুরতেছে। ভাবলাম কিছু লিখে ফেলি, তাই এই গুটিকয়েক লাইন লিখলাম। এসব কথা নিতান্তই আমার নিজস্ব চিন্তাধারা বা কৌতূহল; নিশ্চিত দলিল নয়। সুতরাং কারো পরামর্শ থাকলে কমেন্টে জানাবেন আশা করি। 
    ধন্যবাদ।     
     (Ali Yousuf এর ফেসবুক আইডি থেকে সংগৃহীত)

    👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রায় সকল পোস্ট-ই ফেসবুক থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]

    No comments

    Post Top Ad

    ad728

    Post Bottom Ad

    ad728

    আমরা আপনাকে বিনামূল্যে আমাদের আপডেট গুলি পাঠাতে যাচ্ছি। প্রথমে আপনার অনুলিপি সংগ্রহ করতে, আমাদের মেইলিং তালিকায় যোগ দিন। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, অকেজো তথ্য প্রেরণ করে আপনাকে বিরক্ত করবো না। সুতরাং কোনও আপডেট মিস করবেন না, সংযুক্ত থাকুন!