রাতে হঠাৎ কারো উষ্ণ স্পর্শে আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়। কিছুটা আতঙ্কিত হয়ে যাই। তারপর তাকিয়ে দেখি বোরকা পড়া সেই চিরচেনা পরী আমার মাথা থেকে হাত সরিয়ে নিল। আমি কিছু বলতে যাওয়ার আগেই আমার মুখে আলতো করে আঙুল রাখল যেন কোন কথা না বলি। আমি খেয়াল করে দেখলাম সে কাঁদছে।তার চোখের জল মোবাইলের ফ্লাসে চিকচিক করছে।
-
আমি নির্বাক দৃষ্টিতে শুধু তার চোখের দিকে তাকিয়ে আছি। কোন ভয় করছেনা। কিছু বলতেও পারছিনা। পরী আমার হাত থেকে মোবাইলটি নিয়ে নিল। ফ্লাসটা বন্ধ করে ফেলল। রুমটা অন্ধকার হয়ে গেল। আমার মনে হলো সে হয়তো চলে গেছে। আমি নড়ে চড়ে উঠতে চাইলাম। কিন্তু কারো হাত আমার কাঁধে স্পর্শ করে শুইয়ে দিল। বুঝতে পারলাম সে এখানেই আছে। অন্ধকার থেকেই শব্দ এলো-
-
- কেমন আছেন? (পরী)
= আলহামদুলিল্লাহ ভালো। আপনি ? (আমি )
- আলহামদুলিল্লাহ। শরীরের কী অবস্থা এখন?
= ভালোই তবে গরম তেলের ঠোসা গুলো একটা জ্বালাপোড়া করে।
- আমাকে মাফ করে দিন। আমার জন্যই এতকিছু হলো।
= নাহ । আমি কাউকে দোষ দেবনা। ভাগ্যে যা ছিল তাই হয়েছে। আর ভালোই হয়েছে, আমার পরিবার আর সমাজকে তো বুঝতে পারলাম।
- সেদিন যদি আপনাকে বাসায় দিয়ে যেতাম তবে আর এমন হতোনা।
= বাদ দিন না। এসব এখন বলে কী লাভ?
- বাদ কিভাবে দেব। গতকাল আমি ওস্তাদের কাছে যাওয়ার সময় যখন এই দৃশ্য দেখি তখন থেকে আর শান্তি পাচ্ছিনা। আমি আপনাকে বাঁচাতে পারতাম। কিন্তু তাহলে ওরা আবারো আপনাকে এভাবে কষ্ট দিবে তাই কিছু করিনি।
= হুমমম ঠিক বলেছেন।
- আপনি আমাকে যে শাস্তি খুশি দিন । আমি মাথা পেতে নেব। আমার ছোট একটি ভুলের জন্য আপনাকে কতইনা কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে।
= আরে বাদ দিন । ভুল তো ভুলই।
- নাহ এটাকে ভুল বলা যাবেনা। এটাকে অন্যায় বলা যায়। এসব যদি আমার রাজ্যে খবর পেত তবে আমায় কঠিন শাস্তি দেয়া হতো।
= আমি তো আপনাকে শাস্তি দিতে চাইনা।
- না না। শাস্তি আমাকে পেতেই হবে। আমি অনেক অন্যায় করেছি আপনার সাথে।
= আচ্ছা আমি যা শাস্তি দেব মেনে নিতে পারবেন?
- হ্যা পারব। আপনি বলুন।
= সত্যি তো?
- হ্যা সত্যি।
= কথা দিন।
- কথা দিলাম।
= এভাবে না ।
- তো?
= আমার হাত ছুঁয়ে ওয়াদা করতে হবে।
- আরে আমি বলেছিতো যা বলবেন তাই মেনে নেব। আর হ্যা আমি মিথ্যা বলিনা।
= এতসব বুঝিনা। আমার হাত ছুয়ে ওয়াদা করতে হবে।
- হাত ছুঁতেই হবে?
= হুমমমম।
-
পরী আমার হাতের উপর তার হাতটি আলতো করে রাখল। সে যে কি এক অনুভূতি। অসাধারণ। আমি আমার হাতকে উল্টে তার হাতটি ভালো মত ধরলাম। সে তার হাত শক্ত করে রেখেছে। যেরকম কেউ আমাদের বাহুতে ঘুষা দিতে চাইলে আমরা বাহুকে শক্ত করে রাখি ওইভাবে। সে প্রতিবাদ না করায় আমি তার হাতটা ধরেই বললাম।
-
= আমি চাই আপনি রোজ আমার কাছে আসবেন। আর এটাই আপনার শাস্তি।
- আচ্ছা কতদিন সেটা?
= যতদিন বেঁচে থাকব।
- আরে আমাদের পড়া তো কিছুদিন পর শেষ হয়ে যাবে। মাত্র মাসখানেক লাগবে আর। তারপর তো আর এখানে আসা হবেনা।
= আসা হবে কিনা হবেনা তা তো জানিনা। আমি চাই আমার কাছে আসতে হবে ব্যাস।
- যদি আসতে না পারি? আমাকে যদি আসতে না দেয়া হয়?
= তাহলে রাতের বেলা সেই শিমুল বাগের গাছের গোড়ায় বসে থাকব। আর তারপর আমার কী হবে তা তো জানেনই?
- উফ এটা কেমন শাস্তি? এটা পাল্টে দেয়া যায়না?
= না ।
- তাহলে কমিয়ে দিন । যতদিন এখানে আমি আসব ততদিন আপনার সাথে দেখা করি।
= আমি আর কিছু বলবনা।
- কেমন রে।
= এমনই। এতক্ষণ তো শাস্তির জন্য উঠেপরে লেগেছেন।
- তাই বলে এইরকম শাস্তি?
= শাস্তি কী কারো পছন্দের বা সুবিধা মত হয়?
- আচ্ছা দেখা যাক।
= পরী আপনাকে আরেকটা কথা বলব?
- মেহরিমা।
= মানে?
- আমার নাম।
= মেহরিমা?
- হুমমমমম।
= বাহ এত সুন্দর নাম। পরীদের নামও এত সুন্দর হয়?
- কেন আপনি কী ভেবেছিলেন? কেমন হবে?
= আমি তো ভেবেছিলাম গেউয়া টেউয়া হবে।
- হাঃ হাঃ হাঃ।
= আহা....
- কী????
= হাসি। অনেক সুন্দর ।
-
আর কিছু বলার আগেই মা দরজায় কড়া নাড়ল-
- শাহরিয়ান...... এই শাহরিয়ান ... তোর কী শরীর খারাপ লাগছে? দরজা লাগিয়েছিস কেন?
= না মা কিছু হয়নি । যাও ঘুমাও।
-
মা চলে গেল। আমি তো দরজা লাগাইনি। এটা নিশ্চই পরীর কাজ। ওহ না তার তো একটা সুন্দর নাম আছে “মেহরিমা” । এটা মেহরিমারই কাজ হবে। কিন্তু মা চলে যাওয়ার পর খেয়াল করলাম মেহরিমা নেই। হয়তো ভয়ে চলে গেছে। তার নিজের ভয়ে না হলেও আমার ভয়ে । কারণ সে তো জানে আমার মাঝে কেউ এদিক সেদিক দেখলেই আবার গেউয়া জ্বিনের ওঁঝা ডাকা হবে।
-
কিন্তু মেহরিমাকে তো বলাই হলোনা আমার একটা কথা কী। ধেৎ যাকগে আবার তো কাল আসবেই। এই প্রথম খারাপ সময়েও এত ভালো লাগছে। কেমন যেন একটা সুরসুরি লাগছে মনে। পরীর সাথে এমন একটা সম্পর্ক আহা। কয়জনের ভাগ্যেই বা হয়? উফ তাকে পরী বলতেও ভালো লাগে আবার মেহরিমা বলতেও ভালো লাগে।
-
কিন্তু সে আমায় ধোকা দিয়েছে। সে বলেছে রোজ আমার কাছে আসবে । কিন্তু পরের দিন থেকে তার কোন খবর নাই। এদিকে আমার নাওয়া খাওয়া কিছুতেই মন বসছেনা তার চিন্তায়। আমি যাই করি শুধু তার কথাই মাথায় আসে। কিচ্ছু ভালো লাগেনা। রাতের খাবার খেতে বসলাম সবার সাথে। মা, বাবা, দাদি, আর বড় ভাই ও ভাবি। ছোট্ট ভাতিজা ঘুমিয়ে গেছে আগেই। বাবা আমায় বললেন-
-
- শাহরিয়ান তোর লেখাপড়ার কী খবর?
= আলহামদুলিল্লাহ ভালোই । শুনেছি কদিন পর রেজাল্ট বের হবে। তারপর মাস্টার্সে ভর্তি হবো।
- হুমমমমম। লেখাপড়া করছিস ভালো। কিন্তু এর সাথে সাথে কিছু চিন্তা করে রাখাও তো লাগবে। তোর বয়সি অনেকেই লেখাপড়ার পাশাপাশি কতকিছু করছে।
পাশ থেকে দাদি বলে উঠল-
- তোর আর তোর বাবার খাসালত একই । খাওনের সময় খালি পোলাপানরে এইডা সেইডা কস। নাতিডা খাইতাছে ভালো মত খাইতে দে। এহন কাজের টাজের কতা কওনের কি দরকার। (দাদি)
= আরে মা খাওয়ার সময় বাদে আর বলমু কখন? এয় কি সারাদিন আমার সামনে আসে? সারাক্ষণ একা একা থাকে। কারো সাথে কথা নাই বার্তা নাই। এই বয়সের ছেলেরা কত চটপটে জানেন? ওই যে সাকিলের ছেলে সুমন। কিসের যেন চাকরি করে। মাসে ১৮০০০ টাকা পায়। এ তো আমাদের শাহরিয়ানের সাথেই পড়ে।
- হউক। মাইনষের লগে জোড়া দিয়া আমাগো শাহরিয়ানরে কাম করান লাগতনা। আগে লেহাপড়া শেষ করুক। হেরপর দেহা যাইব কাম টাম।
-
দাদি বুড়িটা এমনিতে সেকেলের হলেও আমার পক্ষ টানে বটে। যদিও সেদিন উনার কারণেই আমায় এত নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। যাকগে সেসব আর ভাবতে চাইনা। খাওয়া শেষ হলো। আমার বাবা খারাপ কিছু বলেনি। আসলেই আমার বয়সি ছেলেরা লেখাপড়ার পাশাপাশি অনেক কিছুই করছে। আমারো কিছু করা উচিৎ। ভবিষ্যত নিয়ে কখনো ভাবা হয়নি। কিন্তু আজ কেমন ভবিষ্যত নিয়ে একটু একটু চিন্তা মাথায় আসছে। রাতে ঘুম আসছেনা। কেমন যেন লাগছে। ওদিকে মেহরিমার ধোকা আর এদিকে বাবার কথা দুটোই মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। এই দুই বিষয়ের ঘুরপাকের মধ্যে আরেকটা উষ্ণ ঘূর্ণিঝড় এসে আমায় হানা দিল।
-
সেই ঘূর্ণিঝড়টা কিসের আপনারা জানেন তো নাকি? হুমমমম এটা সেই ঘূর্ণিপাক। যার জন্য একটা সপ্তাহ ধরে অপেক্ষায় আছি। কোথায় এসেছি জানি না। তবে মনে হচ্ছে উঁচু কোন পাহাড় হবে। নিচের জলপ্রপাতের মিষ্টি শব্দ কানে আসছে। পাশে তাকিয়ে দেখলাম মেহরিমা দাড়িয়ে আছে। খুব সুন্দর একটা ড্রেস পড়েছে। পরীতো পরীই। একেবারে পরীর মতই লাগছে তাকে। যেমনটা মনে মনে ভাবতাম আগে।
-
- কেমন আছেন জনাব?(মেহরিমা)
= আপনি কেমন আছেন? (আমি)
- আগে আমার প্রশ্নের উত্তর দিন।
= আপনার প্রশ্নের উত্তর টা আপনারই ভালো করে জানা।
- ওমা কেন? আমি জানব কিভাবে?
= আমাকে এমন মিথ্যে না বললেও পারতেন।
- মিথ্যে মানে? কিসের মিথ্যে ?
= বাহ পরীরাও এমন অভিনয় পারে?
- আরে বলবেন তো কী হয়েছে!
= আপনি জানেন, এই একটা সপ্তাহ একটা রাতও ভালোমত ঘুমাতে পারিনি আমি। সারারাত অপেক্ষায় ছিলাম আপনার।
- কেন অপেক্ষায় ছিলেন কেন?
= কারণ কেউ একজন কথা দিয়েছিল যে সে রোজ আসবে।
- তো? সে তো রোজই এসেছে?
= মানে?
- হুমমমম।
= কই আমি তো দেখিনি।
- বা রে.... আপনি আমায় বলেছিলেন যেন আমি রোজ আপনার কাছে আসি। দেখা করতে তো বলেননি। কথা বলতেও বলেননি। তো আমি শর্ত মতই আপনার কাছে রোজ এসেছি আবার চলে গেছি।
= ওহ আচ্ছা। খুব ভালো। আসলে আমারই ভুল হয়েছে। আমার মত একটা নিকৃষ্ট মানুষ কিনা পরীকে শর্ত দিতে গেলাম। সেই বা আমার সাথে দেখা করবে কেন? তার কী এমন দায় পড়েছে। তার কাছে তো আমি একজন নগন্য মানুষ। ভুল হয়েছে আমার। এতটা আশা করা উচিৎ হয়নি আমার ..........
- এই থামেন থামেন । মাগো মা কত কথা জানে। এত রাগ?
= ওহ রাগ দেখিয়ে ফেলছি? আবারো ভুল করলাম। রাগ দেখানোর তো অধিকার লাগে। ক্ষমা চাচ্ছি মাফ করে দেন।
- উফ এবার থামাবেন এসব?
= আজকে আপনার পড়া নেই?
- আজকে কী বার?
= শুক্রবার ।
- আজ বন্ধ।
= ও তাহলে এসেছেন যে?
- আসলাম আপনাকে দেখতে। কেন চলে যাব? খারাপ লাগছে?
= শর্ত মতে শুধু আসলেই তো হতো। দেখা করার কী দরকার ছিল।
- আচ্ছা আমি দুঃখিত। কথা দিচ্ছি এখন থেকে রোজ দেখা করব। কিন্তু একটা সমস্যা। আর পনেরো দিন পর আমাদের পড়া শেষ হবে ওস্তাদের কাছে। তারপর থেকে রোজ রোজ আসাটা আমার জন্য কঠিন হয়ে যাবে।
= ওওও। আসতে না পারলে না আসবেন। কেউ তো আপনার জন্য অপেক্ষায় থাকবেনা।
- আহা তা তো দেখতেই পাচ্ছি।
= কঁচু দেখতে পাচ্ছেন।
- আপনি কঁচু খেতে পারেন? আমার না কঁচু ভালো লাগেনা।
= তাই নাকি? জ্বীন পরীরা আবার কঁচুও খায়?
- কেন খাবেনা? শুনেন আপনাদের আর আমাদের খাবার দাবার একদম এক। চলাফেরা এক। সব কিছুই এক। শুধু একটাই পার্থক্য- আপনারা মাটির তৈরি আর আমরা আগুনের। আরো কিছু কিছু জিনিস আছে যা আমরা পারি আপনারা পারেন না।
= মনের কথা বাদ দিলেন কেন? আমাদের মন ও তো আপনাদের চাইতে ভীন্ন।
- কেন মন ভীন্ন হবে কেন? মন তো একই।
= কই আমার তো তা মনে হয়না।
- কেন মনে হয়না?
= এইযে আপনার অবস্থা দেখে। যদি আমাদের মন আর আপনাদের মন এক হতো তবে নিশ্চই আমার মনের অবস্থা বুঝতেন। আর এভাবে এতদিন আমার কাছ থেকে লুকিয়ে থাকতেন না।
- হায় আল্লাহ এই মানুষটা পারেও । এখনো এটা মাথা থেকে যায়নি? মাফ তো চেয়েছি। এখন কি পায়ে পড়তে হবে?
= ছিঃ ছিঃ কি বলেন এসব! আচ্ছা আপনার পরিবারে কে কে আছে?
- আমার পরিবারে আমি, বাবা, মা।
= ব্যাস? আর কেউ নেই?
- নাহ। আপনার পরিবারে কে কে আছে?
= তা আর বলে কী হবে? আপনি তো সবই জানেন।
- হি হি হি । না তাও আপনার মুখ থেকে শুনি।
= আমার মুখ থেকে শুনার কী হলো?
- নাহ এমনি। ভালো লাগে।
= আমার কথা শুনতে ভালো লাগে? এও কিনা আমি বিশ্বাস করব?
- কেন কেন বিশ্বাস করবেন না কেন?
= বাদ দিন।
- একটা কথা বলি?
= জ্বি।
- আমি না কোনদিন কোন ছেলের সাথে এত কথা বলিনি বা সময় কাটাইনি। তাও কিনা আবার একটা মানুষ ছেলে।
= হু।
- আচ্ছা আপনি কী এখনো রেগে আছেন?
= আরে না রাগবো কেন? ওটার অধিকার তো নাই । এমনি মন খারাপ।
- কি জন্য মন খারাপ জানতে পারি?
= একটা কারণ আছে সেটা বলতে চাইনা। আরেকটা কারণ হলো বাবা আজ বলছিল আমার কিছু করা দরকার। কাজ কর্ম আরকি।
- হুমমম ঠিকই তো বলে । আপনি বড় হয়েছেন কদিন পর বিয়ে করবেন। টাকা লাগবে। কাজ তো করতেই হবে।
= হুমমম তা ঠিকাছে।
- তাহলে ? মন খারাপ কেন?
= কিজানি জানিনা কিচ্ছু।
- আচ্ছা বুঝেছি আমি আসাতে মন খারাপ। আচ্ছা চলুন আপনাকে দিয়ে আসি।
= হুমমম ভালো বুঝেছেন।
- আচ্ছা এরকম কেন করেন? কোথায় একটু হাসবেন কথা বলবেন ভালো করে। আমি কত ফাঁকি ঝুকি দিয়ে আসলাম।
= পরী আমার না আপনাকে একটা কথা বলার আছে। সেদিনই বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু আপনি তো চলে গেলেন।
- হুমমম বলুন আর হ্যা আপনি মনে হয় আমার নামটা ভুলে গেছেন।
= কেন পরী ভালো লাগেনা শুনতে?
- ভালো লাগে । কিন্তু কেমন যেন লাগে। আপনি আমাকে মেহরিমা ই বলবেন।
= আচ্ছা ।
- হুমমমম বলুন এবার ।
= আমার না খুব শখ পরী দেখার। জীবনে কত শুনেছি। দেখার কত স্বপ্ন। আপনাকে এত কাছে পেয়েও যদি দেখতে না পারি তবে যে মরেও শান্তি পাবনা।
- ধেত কিসব বলেন।
= হুমমম।
- দেখতে পারবেন। তবে আজ না।
= তাহলে কবে?
- যেদিন আমাদের এখানে শেষ দিন পড়ার সেদিন সবাই আমরা সেজে গুজে আসব। ছোট করে বিদায় পালন করব।
= ওহ আপনারাও.....
- কি?
= কিছুনা। আচ্ছা ঠিকাছে সেদিনের অপেক্ষাতেই রইলাম তাহলে। মিস মেহরিমা।
- হুমমমমমম জনাব শাহরিয়ান।
-
মেহরিমার সাথে কথা শেষ হলো। রাতে মেহরিমা আমায় বাড়ি দিয়ে আসল । কোলবালিসকে জড়িয়ে ঘুমিয়ে রইলাম। আর রাতভর মেহরিমাকে ভাবতে লাগলাম। মনে হয় যেন তাকে নিয়ে যুগযুগ ভাবলেও শেষ হবেনা।
(ভৌতিক রহস্যময়ী ভূতের গল্প ফেজবুক পেজ থেকে সংগৃহীত)
৭ম পর্ব পড়তে
👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রায় সকল পোস্ট-ই ফেসবুক থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]
No comments