• সাম্প্রতিক

    পরীর সাথে প্রেম - পর্ব ৪ (ভূতুম ভূতু)

    তাহলে কী ডাইনি আমায় সত্যি সত্যি ভালো করার জন্য এসব দিয়েছে? বুঝলাম না কিছু। আমায় এত মারধর করল আবার আমার সুস্থতার জন্য এত কিছু। তার কোন উদ্দেশ্য নেই তো? কী জানি ভাই, আমার অতসব ভেবে কাজ নাই, আমি শুধু তার থেকে মুক্তি চাই, আমি যে তাকে ভীষণ ভয় পাই, ভয়ে এখন কম কম খাই, মনে হয় পেটে কোন ক্ষুধা নাই।
    প্রায় ১৫ দিন কেটে যায়। আমি এখন ঘর থেকে মাঝে মাঝে বের হই ঠিক কিন্তু ওই রাস্তা দিয়ে আর যাইনা। বেশির ভাগ সময় ঘরেই নামাজ আদায় করি। কারো সাথে কথা নাই। কারো সাথে দেখা নাই।
    -
    রাতে ইন্টারনেট চালাচ্ছি। কাথার নিচে লুকিয়ে লুকিয়ে । কারণ আব্বা মাঝরাতে বাইরে বের হলে আমার রুমে উঁকি ঝুঁকি করে।গভীর রাতে গরম বাতাস অনুভব করলাম। আমার কলিজার পানি শুকিয়ে গেল। কারণ এই বাতাসের অনুভূতিটা আমার মুখস্ত। কিছু বুঝে উঠার আগেই শাই শাই করে ঘূর্ণিপাকে পড়ে গেলাম। কোথায় মোবাইল আর কোথায় আমি জানিনা। নাগর দোলা থেকে নিচে পরে যাওয়ার মত শা শা করে কোথায় যেন চলে আসলাম।
    -
    ধপ করে পরলাম। মনে হলো মাটি আর দূর্বাঘাসের উপর পড়ে আছি। চোখ খুললাম। আজও চাঁদনি রাত। তাকিয়ে দেখি আমি এক বিশাল জায়গায়। মনে হচ্ছে উঁচু কোন পাহাড়। ভয়ে গা ছমছম করছে। তবে আগের চাইতে কম। কারণ একই ঘটনা যখন বারবার ঘটে তখন আর সেটাকে ভয় মনে হয়না। আজ আর হাউ মাউ করে কান্না পাচ্ছেনা। যদিও একটু ভয় হচ্ছে- যে আবার কী অন্যায় করলাম! সামনে তাকিয়ে তাকে কোথাও দেখছিনা। পেছন ফিরে দেখলাম উনি দাড়িয়ে আছেন। চোখগুলো হিরের মত জ্বলজ্বল করছে। এভাবে তাকে কেউ দেখলে বুঝবেইনা যে সে এত ভয়ানক এক ডাইনি। বরং তার চোখ দেখেই অনেকে প্রেমে পড়ে যাবে। কিন্তু অবাকের বিষয় তার হাতে বই খাতা গুলো দেখা যাচ্ছে।
    -
    নিজেকে আজ তার সামনে সাহসীকতার সাথে দাড় করালাম। একদম ভয় পাওয়া যাবেনা। আর আমার মনেও হয়না যে তাকে ভয় পাওয়ার কোন কারণ আছে। ডাইনিটা কথা বলল:
    -
    - কেমন আছেন?
    = আলহামদুলিল্লাহ ভালো।
    - আমাকে জিজ্ঞেস করবেন না কেমন আছি?
    = আপনি তো ভালোই থাকেন সবসময়। ভূতেদের আবার খারাপ সময় যায় নাকি? জাদু করে সব অসাধ্যকে সাধ্য করতে পারেন। আমাদের মত কারো হাতে তো মার খেতে হয়না ভয়ও পেতে হয়না।
    - বাপরে বাপ । থামেন এবার। একটা ধাক্কা আর একটা থাপ্পর কে এভাবে মারামারি বলছেন?
    = হুমমম মারামারির চেয়ে আরো বেশি ছিল ওটা।
    - ওহ, আজ কিন্তু আমি মোটেও মারামারি করতে আসিনি।
    = তো আমাকে এভাবে ঘর থেকে কিডনাপ করে নিয়ে এলেন কেন? আর এটা কী ধরনের সিস্টেম ঘূর্ণিপাকের মত? ভালোভাবে আনলেই পারতেন।
    - হা হা হা। আপনার আজ সাহস অনেক বেড়ে গেছে দেখছি। কোথায় কান্নাকাটি করবেন তা না করে পাল্টা প্রশ্ন করছেন।
    = হুমমম আপনাকে এখন আর ভয় করিনা। মরন তো একদিন হবেই। সে যেভাবেই হোক।তাছাড়া আপনি একটা মেয়ে ভূত।
    - ওই কী বললি? দাড়া আজ তোর হাড্ডি গুরা করব আমি। (আমার দিকে তেড়ে আসতে আসতে)
    = এই না না একদম এমনটা করবেন না। আমি তো এমনি বলেছি। আসলে আমি এ কয়দিনে বুঝতে পেরেছি আপনি ভূত হলেও খারাপ নন। আমাকে মেরে ফেলতে চাইলে তো এত কিছু করতেন না।
    - হুমমমম ভালো।
    = তবে আমার একটা সন্দেহ আছে।
    - কী সেটা?
    = আলিফ লায়লাতে দেখেছি যে ডাইনিরা নায়ককে বলি দেয়ার জন্য ভালো মত এভাবে ভুলিয়ে ভালিয়ে নিয়ে যায়।
    - ওই আমি আপনাকে ভোলাচ্ছি?? আর কী নায়ক আসছে। যেইনা .....
    = শুনেন আমি দেখতে খারাপ কিন্তু এতটা ফেলনা নই। আপনার চোখে নায়ক না হলেও কেউ একজন হয়তো আসবে যার কাছে আমি তার নায়ক। আর আপনি আমায় ভোলাচ্ছেন না। কিন্তু ওইদিন এমন মারধর করলেন আর এখন এত ভালো আচরণ। আমায় ঔষধ দিলেন আবার কিডনাপ করে এনে এভাবে আমার খবর নিচ্ছেন।
    - তাহলে এখানে সন্দেহের কী হলো?
    = যদি এমনটা হয় যে ওই পৃষ্ঠাগুলো চুরি করার জন্য প্রতিশোধ হিসেবে আমায় এখন সুস্থ করছেন তারপর তিলে তিলে মারবেন।মোটা তাজা করে খেয়েও ফেলতে পারেন।
    - হাঃ হাঃ হাঃ...........
    (তার হাসিটা এত সুন্দর । আমি জীবনে কল্পনাও করিনি ডাইনিদের চোখ, কথাবার্তা, হাসি এত সুন্দর হতে পারে।)
    - কী হলো জনাব কী ভাবছেন? (ডাইনি)
    = কিছুনা। ভাবছি ভূতেরা যদি এত সুন্দর করে হাসতে জানে তবে এতদিন আমরা টিভিতে গল্পে কিসের ভূত দেখে এলাম?
    - আচ্ছা আপনি কথায় কথায় আমাকে ভূত বলেন কেন?
    = ও হ্যা তাইতো! মেয়েরা তো ভূত হয়না। মেয়েরা হয় পেত্নী।
    - আরে ধুর আমি ভূত বা পেত্নী কোনটাই না।
    = তাহলে কী? আচ্ছা আপনি কী ডাইনি বা রাক্ষুসি?
    - হাঃ হাঃ হাঃ আপনি আসলে শুধু ভীতুই না। অনেক হাস্যকরও।
    = আমি ভীতু ? তাহলে এত রাতে আমাকে এভাবে যে জাদু করে নিয়ে এলেন আমি কীভাবে নির্ভয়ে কথা বলছি?
    - হুমমম আজকে একটু অন্য রকম। এতদিন তো দেখলাম কতটা সাহসী।
    = আচ্ছা বলুন না আপনি কী? আপনার এমন শক্তি আর জাদু ক্ষমতা কেন?
    - হুমমমমমম। কখনো জ্বীন জাতি সম্পর্কে শুনেছেন?
    = ওহ আপনি জ্বীন? জ্বীন রা এমন হয়?
    - হুমমম হয়তো। কেন আপনি অন্যরকম জ্বীন দেখেছেন নাকি?
    = নাহ আমি তো জানতাম মেয়ে জ্বীনরা পরী হয়।
    - তো? আমি তো পরীই।
    = হাহ। একদম না। পরী হলে অবশ্যই ডানা থাকত।
    - ও মা কে বলল? আলিফ লায়লা?
    = হ্যা.... আর আলিফ লায়লা বলতে হবে কেন। ডানা না থাকলে পরীরা উড়বে কীভাবে?
    - ওহ আচ্ছা .. তো জ্বীনদের ডানা আছে?
    = না তাদের ডানা থাকবে কেন?
    - তাহলে তারা উড়ে কীভাবে?
    = ...................(আমি চুপ)
    - হাঃ হাঃ হাঃ...... (হাসতে হাসতে লুটিয়ে পরছে)
    = আমার না কিছুতেই এসব বিশ্বাস হচ্ছেনা। একটা পরী কেন আমার সাথে কথা বলবে? পরীরা কত দামি। তাদের তো চাইলেও দেখা যায়না।
    - হুমমম দেখা যায়না । কারণ আমরা দেখা দেইনা। কিন্তু ওইযে বললেন পরীরা দামি। আমরা মোটেও মানুষদের চাইতে দামি না। আল্লাহ মানুষদের সবচাইতে দামি করে সৃষ্টি করেছেন। আর হ্যা এমনিতে কিন্তু আমি আপনার সাথে কখনোই কথা বলা, দেখা করা বা এতকিছু করতাম না।
    = ওহ তাহলে কেন করছেন এত কিছু? আমি তো তাই বলি। একটা পরী কেন আমায় এত খোঁজ নিবে? মেরেছেন ঠিক কিন্তু সেটা তো আমার ভুলের জন্যই।
    - হুমমম তার অবশ্য রহস্য আছে।
    = রহস্য? কী সেটা?
    - আপনি প্রথম মানুষ যার উপর আমি হাত তুলেছি। এর আগে অনেক পিচ্ছি বাচ্চাকে ছুঁয়েছি। কিন্তু কোন ছেলেকে ছোঁয়া বা কাউকে থাপ্পর দেয়া হয়নি। আপনাকে আমি একদম মারতে চাইনি। কিন্তু সেদিন মেজাজটা এত গরম ছিল। কারণ আমার ওস্তাদের কাছে পড়া পারিনি। সবার সামনে লজ্জা পেয়েছিলাম। ছিঁড়েছেন তো ছিঁড়েছেন একেবারে ওইদিনের নোটগুলাই ছিঁড়লেন। কিন্তু আপনাকে মারার পর যখন দেখলাম আপনি আর ওই রাস্তা দিয়ে আসছেন না তখনই সন্দেহ হয়েছিল যে আপনার কোন সমস্যা হয়েছে। আর আমি জানি আমরা মানুষদের থাপ্পর দিলে সেটা ভয়ানক হয়ে দাড়ায়। আপনার এমন পরিস্থিতির জন্য নিজেকে অনেক অপরাধী মনে হয়েছে। তাই এতকিছু করা। নাহয় আমি মোটেও আপনার সামনে এতটা প্রকাশ হতামনা। আর তাছাড়া আপনি আমার ভয়ে এখন মসজিদে নামাজও পড়তে যান না। আমার কারণে একজন এভাবে ইবাদত থেকে গাফেল থাকবে এটা আমি চাইনা। তাই আপনার ভয় ভাঙ্গাতে এখানে নিয়ে আসলাম।
    = আল্লাহ কথা শেষ হইছে ? নাকি আরো আছে?
    - না নাই (মুখটা বাঁকা করে)
    = আচ্ছা আমি কী করি না করি সবই তো জানেন দেখছি। আমার বাড়ি চিনলেন কী করে?
    - হাহাহা এটা কোন বিষয় না। আমাদের জন্য এটা খুব সহজ। আর তাছাড়া যেদিন আপনাকে থাপ্পর দিলাম নোটগুলো আনার জন্য সেদিন আপনি বাড়িতে যাওয়ার সময় আমি পিছু নিয়েছিলাম।
    = কেন পিছু নিয়েছিলেন কেন?
    - বারে আপনি যদি না আসতেন? পরে আবার আমাকে ওস্তাদের বকুনি শুনতে হতো। তাই গিয়েছিলাম। না দিলে নিজেই নিয়ে আসতাম।
    = ও আচ্ছা। তাইতো বলি আমার এতকিছু কী করে জানেন। ঔষধ খেলাম কিনা খেলামনা সব জেনে যেতেন। নিশ্চই আপনি পরেও গিয়েছেন বাসায়?
    - হুমমম আমি তো রোজ রাতে পড়তে যাওয়ার আগে আপনার বাসায় যাই।
    = কই আমি তো দেখিনা।
    - দেখতে দিলেতো দেখবেন। দেখা দিলে আবার চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করবেন তাই প্রয়োজন মনে করিনি।
    = আর কী যেন বললেন পড়তে যাওয়ার আগে মানে?
    - হুমমম আমরা কয়েকজন একজন ওস্তাদের কাছে আরবী পড়ি। বাকিরা অন্য জায়গার। আমরা রোজ ২ টা থেকে ৪:৩০ পর্যন্ত ওস্তাদের কাছে পড়ি। আর মাত্র কয়েকদিন পর আমাদের পড়া শেষ হয়ে যাবে। তারপর আর পড়া হবেনা।
    = ওহ তাইতো বলি এত রাতে কেন আসেন আর ভোরেই বা কোথায় যান। আমি তো ভাবতাম ভোরেই পড়তে যান।
    - না না ভোরের আগে আমাদের রাজ্যে ফিরি।
    = ওস্তাদ টা কী জ্বীন নাকি পরী?
    - না না উনি তো মানুষ। একজন বড় আলেম।
    = কী বলেন ! কে তিনি? নাম কী?
    - তা তো বলা যাবেনা।
    = ওহ বুঝছি আপনাদের জ্বীন পরীদের তো আবার কত নিয়ম কানুন। আচ্ছা আপনি তো অদৃশ্য হতে পারেন। উড়তেও পারেন। তার পরেও কেন এভাবে হেঁটে হেঁটে দৃশ্যমান হয়ে চলাফেরা করেন?
    - আপনার কী মনে হয় উড়তে খুব ভালো লাগে? ভোরের এত সুন্দর পরিবেশে হাঁটতে যে কী ভালো লাগে তা বোঝাতে পারবনা। আর হ্যা দৃশ্যমান হয়ে হাঁটতে বেশি ভালো লাগে। নিজেকে শুধু শুধু লুকিয়ে রাখব কেন? আমি খুব দরকার না পড়লে অদৃশ্য হইনা। মানুষ দেখলে অদৃশ্য হয়ে যাই অথবা লুকিয়ে যাই। আবার কখনো কখনো হইনা। কারণ কেউ তো বোঝেনা যে আমি জ্বীন। এছাড়া অদৃশ্য হতে আমার একদম ভালো লাগেনা।
    = হুমম বুঝলাম.. পরীদের মধ্যেও কিছু ঢংগি আছে তাহলে।
    - ওই কী বললেন?
    = কিছুনা । আমাকে এবার যেতে দিন। বাবা মা যদি টের পায় যে আমার রুমে আমি নাই তবে কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে।
    - ইশ আমার মনে হয় দায় পড়েছে আপনাকে আটকে রাখার? শুনেন আপনার সাথে কথা বলার বিন্দু মাত্র ইচ্ছে বা প্রয়োজন আমার নাই। শুধু অপরাধ করেছি বলে এতকিছু।
    = হুমমম এটা বলে কী বোঝালেন? কথায় কথায় আপনি আমায় ছোট করছেন। কে বলেছে এতকিছু করতে? যান গিয়ে সুন্দর কোন রাজপুত্রের জন্যই এতকিছু করেন। আমার খোঁজ নিতে কে বলছে!
    - ধেত যত্তসব আজাইরা কথা।
    -
    এটা বলেই ডাইনি ... ওহ না পরী আমায় আবার ঘূর্ণিঝড়ের মাধ্যমে আমার কোলবালিসের কাছে ফেরত দিয়ে গেল। আহা এ যেন রূপকথার কোন স্বপ্ন। সারাজীবন কত গল্প পড়লাম। কত সিনেমা কাহিনী দেখলাম। আজ আমার সাথে এমন বাস্তব ঘটনা ঘটল।
    -
    আচ্ছা পরীর কী কোন নাম নেই? নিশ্চই আছে? পরীদের নাম কেমন হয়? তাদের নামও কী মানুষের মতই? আজ ভয়ের বদলে উল্টো তাকে দেখার বাসনা জাগছে। ইশ তাকে কী যদি দেখতে পারতাম! তাকে তো একবার বললেও পারতাম যে আমি তাকে একটু দেখতে চাই। এটা বললে কী সে আমায় আবার থাপ্পর দিত? কিজানি। কিন্তু মনে হয়না সে আমাকে আর মারত। কেমন যেন তার থেকে ভয়টা একদম কেটে গেছে।কিন্তু সে বারবার আমায় নিয়ে ঠাট্টার মত কথা বলছিল। আর করবেই তো , কোথায় সে এক সুন্দরী পরী আর কোথায় আমি একটা অসুন্দর সাধারণ গেঁয়ো ছেলে। আচ্ছা সে কী আবার আমায় দেখা দিবে? তার তো এখন কাজ শেষ। আমায় মেরেছে আবার তার প্রায়শ্চিত্ত ও করেছে। হয়তো তাকে আর কোনদিন দেখবনা।
    -
    রোজ ফজরের নামাজ পড়তে শিমুল বাগের রাস্তা দিয়ে যাই। আনমনে এদিক সেদিক তাকে খুঁজি। কিন্তু আর তার দেখা পাইনা। রোজ রাতে অপেক্ষায় থাকি সে এলো কিনা। একটু পর পর মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে তার অস্তিত্ব খুঁজি। কিন্তু তাকে পাইনা। কেন জানি মনে হয় সে আমার আশেপাশে আছে।
    -
    প্রায় এক মাস কেটে যায়।তাকে খুব মনে পড়ে। একদিন পাগলের মতই খাতার কাগজ ছিঁড়ে অনেক গুলো টুকরো করলাম। তারপর সেখানে রঙিন কলম দিয়ে লিখলাম “পরী” । সেই কাগজের টুকরো গুলো শিমুল বাগের রাস্তায় ফেলে রাখি। পরেরদিন গিয়ে দেখি কাগজগুলো বাতাসে সব উড়ে গেছে এদিক সেদিক। এদিক দিয়ে তেমন মানুষ জন ও আসেনা। মনে মনে ভাবলাম এভাবে হবেনা। আরো বেশি বেশি লাগবে। বাজার থেকে প্রায় শতাধিক রঙিন কাগজ কিনে আনলাম। বড় বড় করে প্রতিটা কাগজে লিখলাম “পরী”। তারপর ছোট ছোট পিন কিনে আনলাম। সেগুলোকে শিমুল বাগের সব গাছে লাগিয়ে দিলাম। ডানে বামে উপড়ে নিচে সামনে পেছনে সর্বত্র।
    -
    রাতের বেলা আমি ফেসবুক চালাচ্ছি। মন ভালো নেই। সত্যিকারের পরীর বিরহ ভুলতে ফেসবুকে পরী খুঁজছি। একটা মেয়ের সাথে চ্যাটিং করছি। আপাতত তাকেই পরী বলে ডাকছি। চ্যাটিং করার এক মুহুর্তে আমার হাত থেকে মোবাইলটা কে যেন ছিনিয়ে নিল। আমি লাফিয়ে উঠলাম। একদিকে ভয়। আর আরেকদিকে অজানা এক সুপ্ত আশা । এ কী সেই পরী? সে কী এসেছে আবারো?
    -
    আমায় গরম বাতাস ঘিরে ধরল। চারিদিক ঝাপসা হয়ে গেল। নাগর দোলা থেকে পড়ে যাচ্ছি।
    ধপাস। আউ বাপরে বাপ। এ কিসে ফেলল। এত ব্যাথা। চোখ খুলে তাকিয়ে দেখি আমি এক বিশাল গাছের উপর ঝোপড়ালো ডালে আটকে আছি। ইন্নালিল্লাহ । আরেকটু হলেই তো পড়ে যেতাম। এখান থেকে পড়লে তো নির্ঘাৎ মরন। আমার হৃদপিন্ড ধুকপুক ধুকপুক করছে। কোন রকমে ডালকে ঝাপটে ধরলাম। সামনে তাকিয়ে দেখি পরী শূন্যের উপর দাড়িয়ে আছে।

    (ভৌতিক রহস্যময়ী ভূতের গল্প ফেসবুক গ্রপ থেকে সংগৃহীত।) 

    ৫ম পর্ব পড়তে


    👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রায় সকল পোস্ট-ই ফেসবুক থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]

    No comments

    Post Top Ad

    ad728

    Post Bottom Ad

    ad728

    আমরা আপনাকে বিনামূল্যে আমাদের আপডেট গুলি পাঠাতে যাচ্ছি। প্রথমে আপনার অনুলিপি সংগ্রহ করতে, আমাদের মেইলিং তালিকায় যোগ দিন। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, অকেজো তথ্য প্রেরণ করে আপনাকে বিরক্ত করবো না। সুতরাং কোনও আপডেট মিস করবেন না, সংযুক্ত থাকুন!