রাত সাড়ে দশটা বাজে। মেহরিমা বিছানায় বসে আছে । কেঁদেছে অনেক। এখন আর চোখে পানি নাই। মেহরিমার কাছে যাবার আগে আমার একটি কথা মনে পড়ে গেল। বিয়ের প্রথম রাতের জন্য অনেক আগে থেকেই একটা প্লান করে রেখেছিলাম। এটা যে আমাকে করতেই হবে। তাই দ্রুত বাইরে চলে আসলাম।
কেন জানেন? আমার বহুদিনের শখ ছিল বিয়ের প্রথম রাতে আমি ওর সাথে বিরিয়ানি খাব। খাওয়াটা আসল উদ্দেশ্য নয়। তার হাতে খাওয়াটাই আসল উদ্দেশ্য। রাস্তার মোড়ে একটা বিরিয়ানির দোকান আছে। সেখান থেকে ঝটপট বিরিয়ানি পারসেল করে নিয়ে এলাম। আরেকটা জিনিস অবশ্য এনেছি। মেহরিমা আমাকে দেখেই বলল-
- আচ্ছা কোথায় গিয়েছিলেন আপনি?
= এইতো বাইরে।
- আমাকে এখানে একা রেখে বাইরে? আমার ভয় করেনা?
= আপনার করে ভয়? আচ্ছা দুঃখিত।
- হুমমম যান অজু করে আসেন।
= এখন অজু করব কেন?
- বারে, আল্লাহ আমাদের স্বপ্ন পূরণ করল আর আমরা তার শুকরিয়া আদায় করবনা? যান অজু করে আসেন।
= ওহ আচ্ছা। ঠিকাছে।
অজু করে আসতে আসতে দেখি মোবাইলে বাসা থেকে ফোন। এই রাতের বেলা ফোন কেন আবার। বাবা ফোন দিয়ে বলল দাদি নাকি আমার সাথে কথা বলতে চায়। এই বুড়ির আবার রাত করে কি হলো?
= হ্যা দাদি? কী হয়েছে বলো।
- হোন বিয়া কইরা ত সারছস আমার লগে কতা ও কইলিনা দেহাও করলিনা।
= করব করব। এবার আসার সময় তোমার জন্য পান সুপারি নিয়ে আসব।
- আইচ্ছা। মাইরুমা কই?
= আরে কিসের মাইরুমা? মেহরিমা।
- হ মেইরিমা কী কান্তাসে?
= না না কাঁদবে কেন?
- হোন মাইয়াডারে কিছু কইসনা । মন টন ত ভালা না। আতাআতি পরে করিস।
= ধুর দাদি। তুমি অনেক লুচু । এসব কোন কথা?
- হ মুরুব্বি গো কতা হুনোন লাগে। দে মায়মুনারে দে । আমি কতা কমু।
= দেখো দাদি তুমি নামটাও কিন্তু ঠিক মত বলতে পারোনা। কতবার বলছি ওর নাম মেহরিমা মেহরিমা মেহরিমা। না বলতে পারলে পরী বলবা।
মেহরিমার কাছে ফোন দিলাম। এই বুড়ি মেহরিমা কে কী বলছে কে জানে। মেহরিমা মুচকি মুচকি হাসছে । নির্ঘাৎ দাদি তাকেও কোন লুচু লুচু কথা বলছে। এই বুড়ি গুলার আসলে লজ্জা শরম বলতে নাই। কথা শেষে মেহরিমাকে দেখলাম লজ্জায় লাল হয়ে গেছে। আমার কাছে মোবাইলটা দিয়ে নামাজের প্রস্তুতি নিল।
দুজন নামাজ পড়ে নিলাম। এটা হলো শুকরিয়ার নামাজ। নামাজ পড়ার পর মেহরিমা খাটে বসে পরল। কিছু ফুল নিয়ে কি যেন করছে। যেন ছোট্ট একটা বিড়ালের বাচ্চা। আমি আলতো করে তার পাশে গিয়ে বসলাম। তারপর পেছনে দুইটা বালিস দিয়ে হেলান দিয়ে ঠ্যাং লম্বা করে বসলাম।
= এই পরী....
- হুমমমম...
= আচ্ছা দাদি আপনাকে কী বলছে?
- বলব কেন?
= আরে বলেন না।
- ইশ আমার শরম করে।
= শরম? আমরা বিয়ে করছি তারপরেও শরম?
- হুমমমমম।
= হুমমম। আমার একটা ইচ্ছে ছিল। বিয়ের প্রথম রাতে বউকে নিয়ে বিরিয়ানি খাবো। তাই কিনে এনেছিলাম।
- তো খান।
= আমাকে আপনার খাইয়ে দিতে হবে।
- ইশ পারবনা।
= পারবেন না?
- না।
আমি জানি মেহরিমার মন ভালো নেই। তাই তাকে জোর করতে পারছিনা। কিন্তু আমার যে খুব শখ ছিল পরীটার হাতে খাবো। মনটা আমারো খারাপ হয়ে গেল। আর কিছু করার না পেয়ে খাটে হেলান দিয়ে সোজা হয়ে বসে মোবাইলটা নিয়ে ফেসবুকে ঢুকলাম। ভূতুম ভূতুতে কতদিন সময় দেইনা। আমি মুখটাকে আলুর মত করে ফেসবুকিং করছি। হুট করে একটা মেয়ে হাই দিল। আর টুন করে মেসেঞ্জারের রিংটোন বেজে উঠল।
মেহরিমা আড় চোখে তাকাচ্ছে। আমি জানি মেয়েদের রাগানোর উপায় এই একটাই। তাদের ভালবাসা সহজে প্রকাশ পায়না। একটু এদিক সেদিক নাড়াচাড়া দিলে তবেই হিংসায় জ্বলে পুড়ে ধাউ করে উঠে। মেহরিমাও তেমনটাই করল। আমার হাত থেকে বাঘের মত মোবাইলটা ছিনিয়ে নিল। তারপর বিছানার শেষ প্রান্তে ফেলে দিল। তারপর বলে উঠল-
- এই আপনাকে না বলেছি এসব ডিলিট করতে? এখনো করেন নাই?
= কোনসব? এটা ছাড়া আমার সময় কাটবে কী করে? আমার তো কেউ নাই।
- ও কেউ নাই? তো ফেসবুকে কে আছে শুনি?
= আছে তো অনেকেই। লাল পরী, নীল পরী, শেওলা কালার পরী....
- বেস বেস বেস আর শুনতে হবেনা। যান বের হোন রুম থেকে। পরীদের সময় দিন।
= কেন এত রাতে বাইরে যাব কেন?
- আমার একটু পারশোনাল কাজ আছে।
= ওহ আচ্ছা বুঝতে পেরেছি।
- হুমমম।
আমাকে বাইরে বের করে দিয়ে দরজাটা টপ করে লাগিয়ে দিল মেহরিমা। তার মনে মনে যে এমন কুবুদ্ধি ছিল কে জানত। কিসের পারশোনাল কাজ আর কিসের ঘরোয়া সাজ, উনি আমাকে বাইরে বের করেছে শাস্তি দেবার জন্য।
- আরে কী করলেন এটা ?
= এবার লাল পরীদের সাথে কথা বলেন। আর শেওলা কালার পরীকে বলেন ঘুরতে নিয়ে যেতে।
- আরে ওটা তো এমনি বলেছি। আচ্ছা ঠিকাছে আমি সব ডিলিট করে দেব। সত্যি বলছি।
= দরকার নেই।
একি হলো? মেহরিমা এটা কোন কাজ করল? মেয়েরা এমন কেন? বিয়ের আগে কত পাগল। আর এখন? হুহ বুঝছি এখন তো পেয়ে গেছে তাই আর গুরুত্ব নাই। যাহ, মেজাজটাই গরম হয়ে গেল। টানা বারোটা পর্যন্ত বাইরে বসে আকাশের তারা গুনছি আর বসে বসে চাঁদ দেখছি। অবশেষে মেহরিমা আসল। এসে আমার পাশে বসল।
- কী করেন? (মেহরিমা)
= ...................(আমি চুপ)
- এই কী হলো?
= ..................
- আচ্ছা বুঝেছি। রাজকুমার রাগ করেছে। শুনেন আমি না একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেটা হলো আপনাকে তুমি করে বলব। আর আমাকেও আপনার তুমি করে বলতে হবে।
= দেখেন এসব বলে পটানো যাবেনা। আমার মেজাজ এখন খারাপ। আমি কারো সাথে কথা বলতে চাইনা।
- ওরে বাবা। এত জেদ? কই আগে তো দেখিনি।
= ................ (চুপ)
- এই ভূতুম শোনোনা আমাকে একটা গল্প শুনাবে?
(তাহার মুখে “তুমি” শুনিয়া আমার সর্বাঙ্গ যেন কাঁপিয়া উঠিল। তাহার এমন সৎ সাহস দেখিয়া আমি অবাক হইয়া গিয়াছি। মনের অজান্তেই মুচকি হাসি দিয়ে ফেলিলাম)
- এইতো রাজকুমারের মুখে এবার হাসি ফুটেছে। খুব ভালবাসা পিপাসু তাইনা? শুধু ঢং ঢাং ভালো লাগে।
= হুমমম ঢং ঢাংই ভালো লাগে। আর হ্যা আমি খুব ভালবাসা পিপাসু। পারবেন না ভালবাসায় ডুবিয়ে রাখতে?
- ভেবেছিলাম ডুবিয়ে কেন চুবিয়েই রাখব। কিন্তু আমার মনে হয় আপনি আমাকে সে সুযোগ দিবেন না।
= কেন ? এমন মনে হলো কেন?
- এইযে আমি মেয়ে হয়ে আগে তুমি বলতে চাচ্ছি। আর আপনি ?
= আসলে কখনো কাউকে বলিনি তো । হয়তো টুকটাক বলেছি কিন্তু তেমন অভ্যাস নেই। তুমি বলতে আমার কেমন যেন কাতুকুতু লাগে।
- ইশ আসছে লজ্জা কুমার।
= না সত্যি বলছি।
- হুমমমমম এসব ভনিতা টনিতা ছেড়ে এবার প্রেম কুমারের মত একটা গল্প বলো শুনি।
= আচ্ছা ঠিকাছে। একদম কাতুকুতু বাদ। এখন থেকে তুমি করেই বলব।
- হুমমমমম ।
= তোমার দেয়া নামগুলো ভালোই।
- কোন নাম?
= এইযে- রাজকুমার, লজ্জাকুমার, প্রেম কুমার।
- হাহাহা। আচ্ছা এবার বলোনা একটা গল্প।
= হুমমম বলছি তুমি আমার কাঁধে মাথা রেখে ওই চাঁদটার দিকে তাকাও। আমার দিকে একদম তাকাবেনা।
- কেন তোমার দিকে তাকালে সমস্যা কী?
= কারণ আমার গল্পটা সুন্দর, চাঁদটাও সুন্দর। সুন্দর কথা শুনবে সুন্দর জিনিস দেখবে তাহলে পূর্ণ মজা পাবে। আমার দিকে তাকালে ফিলিংস নষ্ট হয়ে যাবে।
- উফ দেখো এই সমস্ত কথা বললে কিন্তু আমি একদম চলে যাব বলে দিলাম।
= কোথায় যাবে?
- জানিনা।
= আচ্ছা যেতে হবেনা। কাঁধে মাথা রাখো।
- হুমমমম।
= এক দেশে এক রাজকুমার ছিল। একদিন সে শিকারে বের হলো। তারপর সে এক জঙ্গলে গেল। একসময় সে নিজেকে হারিয়ে ফেলল। হাঁটতে হাঁটতে সে এক বিশাল গুহা দেখল। তারপর গুহায় প্রবেশ করল। সে দেখল সেখানে রূপকথার রাজ্যের মত ভীন্ন আরেক জগৎ।
- বাহ, তারপর তারপর?
= সেখানে ছিল অনেক সুন্দর সুন্দর ফুলের বাগান, পাহাড়, ঝর্ণা, নদী আরো কত কি! হঠাৎ সে দেখল একটা সুন্দর পরীর মত মেয়ে তাকে ডাকছে। সে কাছে গিয়ে জানতে পারল সেই মেয়েটা এক রাজকন্যা । সে একবার বাবার সাথে শিকারে এসে জঙ্গলে হারিয়ে গেছে। তারপর এখানে।
- উফ সুন্দর। তারপর?
= সে মেয়েটাকে নিয়ে সেখানে ঘুরে বেড়ালো। একসময় তাদের দুজনের প্রেম হয়ে যায়। তারপর অনেক কষ্টে তারা সেখান থেকে ফিরে আসে আর তারপর তারা বিয়ে করে।
- বাহ। খুব ভালো। গল্প শেষ?
= আরে না তারপর কী হলো জানো?
- না কী হলো?
= রাজকন্যা কেমন যেন পাল্টে গেল। সে ছেলেটাকে আর আগের মত ভালবাসেনা। আদর করেনা। শুধু ঘর থেকে বের করে দেয়।
- এই তুমি কী এসব আমাকে নিয়ে বললে?
= কই না তো।
- হুমমম আমাকেই বলছো। যাও তোমার সাথে আড়ি।
= এই দেখোনা চাঁদটা কত সুন্দর।
- হুমমম অনেক।
= কিন্তু চাঁদটাতো ভোরের আগেই হারিয়ে যাবে।
- হুমমমমম।
= তুমি কখনো হারাবে নাতো?
- যদি মরে না যাই তবে কোনদিন হারাবোনা। সুপার গ্লুর মত লেগে থাকব।
= উফ এভাবে বলোনাতো। ভাল্লাগেনা।
- আচ্ছা বলবোনা।
= এই আমার না একটা শখ আছে।
- কি?
= তোমাকে কাতুকুতু দেয়ার।
- কিহ?
= হ্যা কাতুকুতু। জানো এই শব্দটা আমার অনেক ভালো লাগে।
- তাই না? দাড়াও তোমাকে দিচ্ছি কাতুকুতু।
= এই না একদম না । আমার কাতুকুতু খুব বেশি। প্লিজ এমন করোনা।
- আমাকে কাতুকুতু দেয়ার শখ হইছে তাইনা? দাড়াও আজ কোন ছাড় নেই।
মেহরিমার হাত থেকে আমাকে আর বাঁচায় কে? একেবারে ধরা পড়ে গেলাম। আমাকে হাসাতে হাসাতে জীবন শেষ। আমি হাঁপিয়ে উঠেছি তার কাতুকুতু খেয়ে। তারপর ১ টার দিকে রুমে আসলাম। কী আজব চোখে বিন্দু মাত্র ঘুমের রেশ নেই। যেন সারারাত কাটিয়ে দেয়া যাবে এভাবেই। রুমে এসে খাটে বসলাম। তারপর টেবিলে রাখা বিরিয়ানির দিকে নজর গেল। দৌড়াদৌড়ি করে তো পুরাই ক্ষুধা লেগে গেছে। তাই এখনি খাওয়ার উপযুক্ত সময়।
= এই পরী, আমার না খুব ক্ষুধা পেয়েছে। (আমি)
- তাই ? তো কী করবে? (মেহরিমা)
= কী করব মানে? খাইয়ে দিবে। বিরিয়ানি এনে রেখে দিছি।
- তো খাও নিজে নিজে খাও। আমাকে বলো কেন? তুমি কী বাচ্চা মানুষ?
= ওহ দিবেনা ? যাও আর বলবোনা। এগুলো খাওয়ার দরকার নেই কারো। এখুনি ফেলে দিয়ে আসছি।
- আরে আরে কেমন করে রে? এত রাগ কেন শরীরে?
= রাগের কিছুনাই । আমি ছোট থেকে ভেবে রেখেছি বাসর রাতে বিরিয়ানি খাবো বউয়ের হাতে।
- ওহ পিচ্ছি বয়স থেকেই মাথায় বাসরঘর নিয়ে টেনশন। কেমন দুষ্টু।
= হুমমম। কেন দুষ্টুমি তোমার ভালো লাগেনা? না চাইলে আর করবনা।
- তুমি না খুব রাগ করতে পারো।
= তুমি রাগ ভাঙাবে বলেই তো আমি রাগ করি।
- হুমমম যদি না ভাঙাই?
= তাহলে আর রাগ করবেনা।
- নাহ থাক রাগ করো মাঝে মাঝে। আমিও কিন্তু রাগ করব?
= হুমমম তুমি রাগ করলে তার ঔষধ আমার কাছে আছে।
- কি?
= একটু দুষ্টুমি করলেই তো হবে।
- হ্যা বলছে আপনারে।
= জ্বী বলছেই।
- আচ্ছা আসো খাইয়ে দেই।
= হুমমম এভাবে না।
- তো কীভাবে?
= দুজন খাটে হেলান দিয়ে বসব ঠ্যাং দুইটা লম্বা করে। তারপর খাইয়ে দিবে।
- ইশ ঢং। তুমি বসো ঠ্যাং লম্বা করে। আমি খাইয়ে দিচ্ছি।
= আহ তোমরা মেয়েরা না একদম রোমান্টিকতা বুঝোনা।
- হুমমম বুঝতে হবেনা। দেখি আ.....
= আ মানে?
- আরে আ... করো।
= ওহ এবার বাচ্চাকুমার বানিয়ে দিলে?
- হাহাহা। হুমমম দিলাম। আরো অনেক কিছুই বানিয়ে দিব।
= আচ্ছা ।
(মেহরিমার হাতে খাওয়ার মজাই আলাদা।)
- এই আমাকে খাইয়ে দিবেনা? শুধু তুমিই খাবে?
= কেন তোমার ক্ষুধা লাগছে নাকি?
- তো ? তুমি একা দৌড়াইছো ? আমি দৌড়াইনাই?
= আমি খাইয়ে দিব এক শর্তে।
- কী শর্ত?
= তোমাকে কাতুকুতু দেব।
- এই না না না মাফ চাই এটা বলোনা।
= আচ্ছা বলবনা। সরাসরি দিব।
- না না আমার খুব ভয় লাগে। কেমন কেমন যেন লাগে। এমন করোনা।
= আচ্ছা আগে তোমাকে খাইয়ে দেই।
- হুমমম দাও কিন্তু ওসব করা চলবেনা।
= সে দেখা যাবে। আগে নাও খাও। হা করো।
- হা
সে কি মুহুর্ত আহা! খাওয়ার পর মেহরিমাকে কাতুকুতু দিয়ে একেবারে কাঁদিয়ে ফেলেছি। তারপর সে রাগ করলো। আমি তার জন্য বাইরে থেকে চকলেট এনেছিলাম।
= এই পরী।
- একদম ডাকবানা ।কথা নাই।
= আরে শুনোনা।
- শুনবনা।
= আমি না তোমার জন্য চকলেট এনেছিলাম।
- তুমিই খাও।
= আমি একা খেতে পারবনা। তুমি সাহায্য করলে খাবো।
- চকলেট খাইয়ে দিতে হবে নাকি তোমাকে?
= হুমম আমি তো সিদ্ধান্ত নিয়েছি আজ থেকে সারাজীবন আমি তোমাকে খাইয়ে দেব আর তুমি আমাকে ।
- ইশ শখ কত!
= কেন দিবেনা?
- দিব। কিন্তু আমাকে কষ্ট দিলে দিবনা।
= আচ্ছা কষ্ট দিলে আমিই তোমাকে খাইয়ে দেব।
- আহা।
= হুমমম।
- জানো আমার না একটা স্বপ্ন আছে।
= কী স্বপ্ন?
- তোমার আর আমার ছোট্ট একটা ঘর হবে। বারান্দা থাকবে একটা ছোট। ঘরের সামনে ছোট্ট একটা উঠোন। এক কোনে ফুলের বাগান থাকবে। তুমি আর আমি যখন চাঁদনি রাতে বারান্দায় বসব। তখন সেই ফুলের গন্ধে আমাদের মাতাল করে দিবে।
= আচ্ছা মাতাল হয়ে কী আমরা ইংরেজদের মত ড্যান্স করব?
- উফ তুমিনা। যাও আবার রাগ করলাম তোমার সাথে।
= আচ্ছা আচ্ছা। আর এমন করবনা। এবার আমার স্বপ্নের কথা শুনবে?
- হুমমমম।
= আমার খুব শখ তোমাকে একটি সুন্দর বাড়ি উপহার দেবার। প্রতিটা কাজ তুমি আর আমি মিলে করব। রোজ রাতে আমি যখন বাইরে থেকে আসব, আমি দেখব তুমি সুন্দর করে সেজে আমার জন্য বসে আছো। চাঁদনি রাতে যখন বারান্দায় দুজন পাশাপাশি বসে থাকব, তখন তোমার চুলগুলো আমার মুখে উড়ে উড়ে আসবে বাতাসে। সেই চুলের গন্ধে আমি হারিয়ে যাব তোমাতে। রাতে তোমায় কানে কানে গল্প শুনাবো। তুমি আমার বুকে মাথা রাখবে। কান পেতে শুনবে আমার হৃদপিন্ডের স্পন্দন। জড়িয়ে নিবে আমায় আদরের চাদরে। খুব ভোরে যখন আমরা জেগে উঠব। সূর্য মামা জাগার আগে তুমি আর আমি বের হবো শিশিরগুলো পায়ে মাখতে। একটা চাদরে দুজন লুকাবো। তুমি যখন খুব রাগ করবে, তখন তোমাকে কিছু না কিছু উপহার দিয়ে আর দুষ্টুমি করে রাগ ভাঙাবো। এই তুমি কী ঘুমিয়ে গেছো?
- আর না। থামলে কেন? বলোনা.... শুনতে অনেক ভালো লাগছে। তোমার স্বপ্ন গুলো এত সুন্দর!
= হুমমমম আমার স্বপ্ন গুলো অনেক সুন্দর। কিন্তু এই আমিটাই যে সুন্দর না।
- এই এসব কী হ্যা? তোমাকে না বলছি এসব কথা না বলতে? তুমি আমার রাজকুমার। আমার নিশ্বাস। পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর তুমি। আমি তোমাকে ভালবাসি ভালবাসি ভালবাসি। এর পরও যদি এসব কথা বলো তবে আমি কিন্তু সত্যি সত্যি হারিয়ে যাব।
= যাক বাবা শেষ পর্যন্ত তোমার মুখ থেকে শুনলাম এই দুর্লভ বাণী। কলিজাটা ঠান্ডা হয়ে গেল।
- কী করব তুমি তো বলোনা। তাই আমাকেই বলতে হলো।
= হুমমম চকলেট খাবেনা?
- হুমমম দাও।
= এভাবে না।
- কীভাবে আবার? দেখো এখন কিন্তু ঠ্যাং লম্বা করে বসতে পারবনা।
= আরে না। সেটা না।
- তো কী?
= চকলেট তো লম্বা। তুমি একদিক দিয়ে খাবে। আর আমি আরেকদিক দিয়ে। দেখবো কে আগে আগে বেশি খেতে পারে।
- এটা আবার কেমন?
= এটা এমনি। চলে শুরু করি।
- আচ্ছা।
মেহরিমা আর আমি একটা চকলেটের দুই প্রান্তে থেকে খাওয়া শুরু করলাম। এভাবে খাওয়াটা অবশ্য আমারই প্লান। উদ্দেশ্য হলো তার নিশ্বাসটা কয়েক সেকেন্ডের জন্য বন্ধ করা। তাই করলাম। খেতে খেতে যখন মেহরিমার ঠোঁটের কাছে চলে গেলাম তখন মেহরিমা সরে যাওয়ার আগেই তার ঠোঁটদ্বয় আমার দখলে নিয়ে নিলাম আর নিশ্বাসটুকু কিনে নিলাম। মেহরিমা একদম চুপ হয়ে গেল। লজ্জায় চোখ খুলতে পারছেনা। আমি তার কানে কানে ফিসফিসিয়ে বললাম-
= এই ছেলেটা তোমাকে অনেক ভালবাসে। ঠোঁট গুলো বিক্রি করবে? এত মিষ্টি যে একবারে তৃপ্তি মেটেনি। আমি বারবার এ মধু আহরণ করতে চাই।
-
মেহরিমা কিছু বলছেনা। আমি জানি সে অনেক লজ্জা পাচ্ছে। আমি আবারো প্রশ্ন করলাম-
= কী হলো কিছু বলবেনা?
-.............
= এই পরী...
-............
= আচ্ছা যাও। লাগবেনা বিক্রি করা।
এটা বলে এপাশ হয়ে শুয়ে পড়লাম। কিছুক্ষণ পর মেহরিমা আমার কানে কানে এসে বলল-
- “শুধু ঠোঁট নয়, এই আমিটাকেই তোমার কাছে বিক্রি করে দেব। কিনবে আমায়? বিনিময়ে কিন্তু সারাজীবনের জন্য মৌয়াল হয়ে থাকতে হবে।”
আহা । সে এক স্বর্গসুখের মুহুর্ত। পৃথিবীর কোন কিছুর সাথে এর তুলনা হয়না। আমি আর মেহরিমা এভাবেই সুখের সাগরে হারিয়ে যাই। জানিনা কবে নাগাদ আমাদের খোঁজ পাওয়া যাবে।
“সমাপ্ত”
Subscribe to:
Post Comments
(
Atom
)
Post Top Ad
ফেসবুকের গল্প তে আপনাকে স্বাগত। এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কোনো লেখা বা মতামতের জন্য 'ফেসবুকের গল্প' কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।
Post Bottom Ad

No comments