এটা বলে মেহরিমা আমার হাতে কলমের বক্স আর ফুলের তোরা দিয়ে উধাও হয়ে গেল। যদিও তার কাজটি ভুল হয়েছে। কিন্তু তার এমন মলিন চেহারা আমার মোটেও ভালো লাগেনি। মেহরিমার জন্য এখন আরো বেশি খারাপ লাগছে। মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম নীরাকে আর পড়াবোনা।
-
হুমমম যেমন ভাবা তেমন কাজ। নীরার জন্যই যেহেতু এতকিছু তবে তাকে আর পড়ানোর দরকার নেই। যত যাই হোক মেহরিমা কষ্ট পায় এমন কিছু আমার দ্বারা করা সম্ভবনা। পরের দিন চলে গেলাম নীরাদের বাসায় । সাথে আগের দিন দিতে না পারা কলমের বক্স আর ফুলের তোরা সাথে নিলাম। নীরাদের বাসায় যাবার পর নীরা আমার হাতে এসব দেখে কিছুটা অবাক হয়।
- স্যার এগুলো কী? (নীরা)
= আসলে আমারই ভুল হয়েছিল। গতকাল তাড়াহুরোয় মনে হয় এগুলো না নিয়েই চলে আসছিলাম। ঘরেই পেয়েছি আবার ।(আমি)
- থেংকিউ স্যার।
= ওয়েলকাম। শুনো তোমার মাকে একটু ডাকো।
- আচ্ছা স্যার আপনি রুমে গিয়ে বসেন আমি মাকে ডাকছি।
= না আমি আজ পড়াতে আসিনি। যাও তোমার মাকে ডেকে নিয়ে এসো।
- কেন স্যার পড়াবেন না কেন?
= এত প্রশ্ন করোনাতো। যাও যা বলেছি তা করো।
- হু (মাথা নারিয়ে)
-
নীরা তার মাকে ডাকতে চলে গেল। আমি মনে মনে ভাবছি আন্টিকে কীভাবে কথাগুলো বলব। উনার সাথে আমার কথা বলতে কেমন যেন বিব্রতকর লাগে। উনাকে বলি আমি আন্টি বলে, আর উনি বলে আপনি করে। ভাবতে ভাবতে নীরার মা চলে আসল।
-
- কী বেপার স্যার ডেকেছেন?
= জ্বী আন্টি একটা দরকারি কথা ছিল।
- ওহ আপনার বেতন টাতো কালকেই দিয়ে দিতাম। ব্যস্ততায় মনে ছিলনা। মাস তো মনে হয় শেষ।
= না না আন্টি আমি এসব বেপারে কিছু বলতে আসিনি। আসলে আমি নীরা কে আর পড়াতে পারবনা। এটা বলার জন্যই আসা।
- পড়াতে পারবেন না কেন? কী সমস্যা বলুন?
= সমস্যা একটু অন্য জায়গায় । আমার আসলে এ সময়টাতে অন্য একটা কাজ পড়ে গেছে।
- তাহলে অন্য সময় আসেন।
= না না আমার তো আর সময় নেই।
- কী বলছেন এসব। আপনার পড়ানো খুব ভালো। নীরাকে যদি আপনি পড়াতেন তবে একটা ভালো রেজাল্ট করত। দেখেন না কোন ভাবে সময় বের করা যায় কিনা?
= সে আমি পরে পারলে জানাবো। এখন আর পারছিনা । সত্যি আমি দুঃখিত।
-
নীরা ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে । মনে হয় যেন কেঁদেই দিবে। ভাবতে অবাক লাগে। যে মেয়েটা কয়েকদিন আগেও আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করত, আমার দূর্বল দিক গুলো নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করত আজ সে আমাকে এতটা গুরুত্ব দিচ্ছে। আমার জন্য এত মায়া এসে গেছে তার। তার কী দোষ দেব। মানুষের মন তো এমনি। যেমনটা ঘটেছে আমার সাথে। কয়েকদিনে আর কয়েকবার সাক্ষাতে আমি মেহরিমার পাগল হয়ে গেছি।
-
নীরার মায়ের সাথে কথা শেষ করে চলে আসি। আসার সময় নীরার মা আমার হাতে বেতনটা দিয়ে দেয়। বেতনটা নিতেও কেমন কেমন যেন লাগছিল। আর সবচাইতে খারাপ লাগছিল নীরার মলিন ভাব। কিন্তু কী করব? এছাড়া ভালো কিছু তো আর দেখছিনা।
-
পরের দিন সকালের নাস্তা শেষ করলাম। সানি চলে গেল । আমার টিউশনে যেতে আরো ৩০ মিনিটের মত বাকি আছে। হঠাৎ দরজায় কে যেন কড়া নাড়ল। আমি দরজা খুলে অবাক হয়ে গেলাম। কী আশ্চর্য এসময় নীরা কোথেকে আসল?
-
= একি তুমি?
- স্যার ভেতরে আসব?
= হ্যা আসো। কিন্তু তুমি এখানে। চিনলে কী করে ?
- আপনি ই একদিন বলেছিলেন মায়ের সাথে এই ঠিকানার কথা।
= ও আচ্ছা। তো কী বেপার হঠাৎ?
- স্যার আপনি কেন আমাকে পড়াবেন না? আমি বেয়াদবি করি বলে?
= আরে না তেমন কিছু না। তাহলে তো আমি বলতাম নাকি? আসলে আমার এ সময় একটু ব্যস্ত থাকতে হবে তাই যেতে পারবনা।
- মিথ্যে কথা । আপনি আমার জন্যই এমন করেছেন। স্যার আমি আর জীবনেও বেয়াদবি করবনা। যেভাবে বলবেন সেভাবেই পড়ব।
= আরে বোকা মেয়ে সত্যি তুমি যা ভাবছো তা নয়। আর চিন্তা করো না। তোমার জন্য ভালো একটা টিচার রাখবে দেখো।
- না না অন্য টিচার আমার লাগবেনা। আমার আপনাকে ভালো লাগে।
= অন্য টিচার কেও ভালো লাগবে। আমাকে তো প্রথমে দেখতেও পারোনি আর এখন আমার জন্য মন খারাপ করছো। দেখো এমন অন্য টিচারকেও ভালো লাগবে। যাও এখন বাসায় যাও । আমি বের হবো।
- না স্যার আমাকে আপনারই পড়াতে হবে। আমি আর কারো কাছে পড়বোনা। কাউকে আমার ভালো লাগবেনা।
= উফ পাগলামি করোনাতো। এখন আমি বের হবো।
- স্যার আপনাকে আমার একটা কথা বলার আছে।
= এখন না । একদিন তোমাদের বাসায় গিয়ে সব কথা শুনে আসব। এখন আমার সময় কম।
- না স্যার আমি এখনি বলব। স্যার আমি..........
(নীরা এতটুকু বলতে বলতে আমাকে আরো অবাক করে দিয়ে কেউ একজন রুমে প্রবেশ করে। বোরকাওয়ালি। এতো আমার মেহরিমা। কী আশ্চর্য! এমন সময় মেহরিমা এটা যেন স্বপ্নের মত লাগছে। এই প্রথম মেহরিমাকে দিনের বেলা দেখা। মেহরিমার উপস্থিতিতে নীরা কিছুটা অবাক হয়ে যায়। আমি অবাক হয়ে শুধু মেহরিমার দিকে তাকিয়ে আছি। নীরাও চুপ। আমাদের নিরবতা ভেঙ্গে দিয়ে মেহরিমা বলে উঠল)
-
- শাহরিয়ান তুমি এখনো বের হওনি? আমি বাইরে দাড়িয়ে থাকতে থাকতে শেষ পর্যন্ত এখান অবিদ চলে এলাম। (মেহরিমা)
= হ্যা ......... (আমি)
- স্যার ইনি কে? (নীরা)
- সে কি আমার কথা তোমার স্যার তোমাকে বলেনি? (মেহরিমা)
- না তো। আপনি কে? (নীরা)
- আমি তোমার স্যারের অইটা হই । তুমি তো ছোট মানুষ এতকিছু বুঝবেনা। (মেহরিমা)
(আমি মেহরিমার কথা শুনে যেন আকাশ থেকে পড়লাম। )
- স্যার ইনি কী বলছে? সত্যিই কী........... (নীরা)
- আরে পাগল তোমার স্যারকে আবার কি জিজ্ঞেস করছো। আচ্ছা তোমাকে বুঝিয়ে বলছি। তোমার স্যার আমাকে অনেক ভালবাসে। আর আমি তোমার স্যারকে ভালবাসি। বুঝলে? আমাদের কদিন পর বিয়ে হবে।(মেহরিমা)
-
এবার মনে হয় আমি অজ্ঞান হয়ে যাব। এসব কী বলছে মেহরিমা? আজ এমন সময় সে এখানে এইভাবে চলে আসল। আবার হুরমুর করে এসব বলে যাচ্ছে। আমি কী স্বপ্ন দেখছি নাকি সত্যি? এদিকে ভয় হচ্ছে কেউ না আবার চলে আসে। আমি এসব ভাবতে ভাবতে দেখি নীরা আর কিছু না বলে রুম থেকে বের হয়ে চলে গেল। এটুকু মেয়ের কী অভিমান বাবা। এ মেয়ের এখনি এ অবস্থা ? বাকি দিন যাবে কী করে? এখন কী আমাকেও বলতে হবে? যে প্রেম ভালবাসা বয়স বুঝে আসেনা?
-
নীরা চলে যাবার পর মেহরিমা নিচের দিকে তাকিয়ে আছে। মুখটা মলিন। কোন এক অজানা কারণে আমি মুচকি হেসে দিলাম। মেহরিমা আমার দিকে তাকিয়ে অবাক নয়নে আমায় বলল-
- ওই আপনি হাসেন কেন?
= নাহ এমনি ।
- এমনি না । সত্যি করে বলেন কেন হাসছেন?
= খুব সুন্দর একটা বিরহের মুভি দেখলাম তো-- তাই হাসছি।
- ইশ ।
= আমি না এখনো বিশ্বাস করতে পারছিনা । এটা কি সত্যি আমার সামনে ঘটছে? আকাশের পরী এমন দিনে দুপুরে আমাদের বোকা বানিয়ে চলে আসল? কীভাবে সম্ভব?
- কেন দিনে আসতে পারবনা? নাকি আপনার সমস্যা করে দিলাম। আমি না আসলে খুব সুন্দর রোমান্টিক মুভি হয়ে যেত তাইনা?
= মানে কী?
- মানে কিছুইনা। আমার যখন খুশি তখন আসব। যা খুশি তা করব। যা ইচ্ছা তাই করব। কোন সমস্যা?
= নাহ নাহ নাহ। কোন সমস্যা নেই। কিন্তু একটা কথা জানতে চাই।
- কী?
= নীরাকে যা বলছেন তা কি সত্যি?
- জানিনা।
= পরীরাও মিথ্যে বলে?
- ওই আমি মিথ্যে বলিনি।
= তাহলে সত্যি?
- হুমমম।
-
আমি আর কিছু বলার আগেই শাই করে কোথায় যেন উধাও হয়ে গেল। বাপরে আরেকটুর জন্য স্ট্রোক করতাম। এভাবে দিনের আলোয় এমন দৃশ্য । লজ্জা পেয়েছে ভালো কথা তাই বলে এভাবে ভয় দেখাবে? কিন্তু সেটা তো কোন বড় কথা নয়। মেহরিমার কথায় তো আমার ভেতরে সব এলোমেলো হয়ে গেল দেখছি। এবার তো সত্যি সত্যি আমি পাগল হয়ে যাব।
-
চলে গেলাম টিউশনিতে । ছাত্রকে বই পড়াতে গিয়ে মনে হয় বইতে মেহরিমা লেখা। কয়েকবার পড়াতে গিয়ে মেহরিমা বলে ফেলছি ভুলে। কলম ধরি তাতেও যেন মেহরিমার নাম দেখি। লিখতে গেলে মেহরিমা চলে আসে। পানির গ্লাস হতে নিয়েও মেহরিমার কথা মনে হয়। পানি মুখে দিয়ে মেহরিমার কথা মনে করে হাসি দিয়ে ফেলি। তারপর মুখের সব পানি ছাত্রের মুখে। সেকি লজ্জাস্কর কান্ড। মান ইজ্জত বুঝি আর থাকলনা।
-
বাইরে বের হয়ে যখন রাস্তায় হাঁটি । তখন রাস্তায়, গাড়িতে, রিক্সায় সব খানে যত বোরকা পড়া মেয়ে দেখি মনে হয় মেহরিমাকে দেখছি। কতবার যে গাড়ির নিচে পড়তে গেছি হিসেব নেই। কত মুভি দেখলাম মানুষ প্রেমে পড়লে এমন হয়। আমার সাথে তো সত্যি সত্যি হচ্ছে। তাও আমার সাথে আরো বেশি। আমি গান শুনিনা তবু যেন কানে গান বেজে যাচ্ছে। আমি নাচতে জানিনা তবু যেন শরীরে নৃত্যের ঝংকার বাজছে। আহা সেকি মুহুর্ত। জীবনে এত আনন্দ মনে হয় কখনো হয়নি।
-
রাতের বেলা শুয়ে শুয়ে ফেসবুক চালাচ্ছি। আমার ভূতের একাউন্ট মানে ভূতুম ভূতু তে সুন্দর একটা কবিতা লিখলাম। তাও পরীকে নিয়ে। ওদিকে এক মেয়ে তো কবিতা পড়ে মহা খুশি। সে “ওই ভূতুম” বলে মেসেজ দিল। আমার মনও ফুরফুরা। তাই আমি তার সাথে ছন্দ আকারে কথা বলতে শুরু করলাম। কথাগুলো ছিল এমন-
-
- ওই ভূতুম (ফেসবুক বন্ধু)
= জো হুকুম । (আমি)
- কবিতা টা ভালো লাগছে খুব।
= তাই তো আমি হয়ে গেছি চুপ।
- হা হা হা তুমি তো কবি হয়ে গেলে।
= আহা আমি নইতো কোন সাধারণ ছেলে।
- হুমমম তা তো বুঝতেই পারছি।
= আমিও তা আন্দাজ করছি।
- এই তোমার বাড়ি কোথায় বলোতো?
= বলতে মানা আছে আলতো।
- উফ বাবা বলোনা।
= প্রশ্নটা ফেলোনা।
- ফেলবো কেন ?
= করবো ব্যান।
- না না ব্লক করোনা।
= তাহলে ছাড়োনা।
- আচ্ছা ছেড়ে দিলাম।
= ওকে নিয়ে নিলাম।
- আচ্ছা তোমার নামটা কী?
= খুব ভালো ছবি আঁকি।
- আহহা তুমি না....
= করছি কী ছলোনা?
- যাও তোমার সাথে আড়ি।
= রাস্তা দিয়ে চলছে অনেক গাড়ি।
- বুঝছি তুমি দুষ্ট।
= সেটাইতো কষ্ট।
- ওই ভূতুম ভূতু।
= লাগে ভীষণ কাতুকুতু।
- উফ কেমনটা লাগে।
= বলেছিতো আগে।
- আচ্ছা বাই।
= আমি তবে যাই।
- উহহোহ শোনোনা।
= যন্ত্রনা করোনা।
-
এতটুকু বলতে না বলতেই মোবাইলে এক হেচকা টান। এই হলোতো ? দিল আমার কাব্য রচনার বারোটা বাজিয়ে । কত ভালো লাগছিল মেয়েটার সাথে কথা বলতে। কতদিন কবিতা লিখিনা। আমি এসব ভাবতে ভাবতে সেই ঘূর্ণিপাক। নাগর দোলা থেকে বা উঁচু কোন ব্রিজ থেকে নিচের দিকে নামার সময় যেমন লাগে সেই অনুভূতি। আজ বহুদিন পর আবার। এভাবে। একেবারে গিয়ে পড়লাম এক পাহারের চুড়ায়। দূর থেকে ঝর্ণার শব্দ আসছে। জানিনা এটা কোথায়। এমন একটা চাঁদনি রাতে এ যেন এক অসাধারণ উপহার। অবশ্য মেহরিমা আমাকে বেশির ভাগ চাঁদনি রাতেই এভাবে কিডনাপ করে। মেহরিমাকে খুঁজছি। কিন্তু পাচ্ছিনাতো। পেছনে তাকিয়ে ভয়ে লাফিয় উঠলাম। বুকে থুতু দিয়ে নিজেকে সামলে নিলাম।
-
বাপরে বাপ এ কী মেহরিমা নাকি কোন রাজকন্যার বিয়ের লগন? এত সুন্দর শাড়ি পড়া এমন ভাবে সাজা। ও খোদা আমি তো মরেই যাব। এ আমি কাকে দেখছি। অপ্সরিরা কী তবে এমনই হয়। সে মেহরিমা তো? চোখের দিকে ভালো মত তাকালাম। কারণ মেহরিমার চোখ ছাড়া তো আর কিছু আমি দেখিনি কখনো। হ্যা আলবত এটা মেহরিমা। সুবহানাল্লাহ। পরীর মত পরী । আহা এটা আমার পরী । হ্যা আমার পরী । ইশ খুশিতে নাচতে ইচ্ছে করছে। সারা দুনিয়ার সুন্দর সুন্দর ছেলে গুলো যদি মেহরিমার সুন্দর্য দেখতো তবে নির্ঘাৎ আমার সাথে হিংসায় মরে যেত। কিন্তু মেহরিমার মুখ এমন ভার কেন? কেমনযেন রাগে ফোস ফোস করছে। আমি সুন্দর করে মুখ খুললাম-
-
= সুবহানাল্লাহ। এটাই কী মেহরিমা??
- হে মেহরিমা। (রেগে)
= কী ভাগ্য আমার । আজকের পর মরে গেলেও আমার আফসোস নেই।
- চুপ একদম কথা বলবেন না। বদমাশ।
= আস্তাগফিরুল্লাহ। এসব কী কথা? মনে পেলাম ভীষণ ব্যথা। বললেন আমায় যা তা।
- এখন কিন্তু একটা থাপ্পর দিব। আসছে কবিতা বলতে।
= আচ্ছা আজ আমাকে এত বড় একটা সারপ্রাইজ দিয়ে এভাবে বকাবকির মানে হয়? আমি কোন দোষ করেছি?
- না না তা করবেন কেন? আপনি তো রোমান্টিক হুজুর। নামাজ পড়ে দাড়ি রেখে দিনভর ছাত্রীদের সাথে প্রেম। আর রাতভর ফেসবুকে প্রেম। ইশ আইডির নাম দিয়েছে “ভূতুম ভূতু”। আবার মেয়েদের মুখে নাম শুনতে কাতুকুতু লাগে তাইনা? তখন শুধু চুপচাপ দেখেছি। ইচ্ছে করছিল শেষ পর্যন্ত দেখার । কিন্তু আর এসব সহ্য করতে পারিনি।
= ছিঃ ছিঃ পরী। এ আপনি বলতে পারলেন? আমি দিনভর ছাত্রীদের সাথে প্রেম করি? আর আমার কবিতা আপনার কাছে ভালো লাগলোনা?
- ঘোড়ার ডিমের কবিতা। মেয়েদের মেসেজ পেলে হুশ থাকেনা তাইনা? আর আপনি কিসের ভূতুম ভূতু? আজই একাউন্ট ডিলিট করবেন। যত্তসব আজাইরা কাজ।
= শুনেন একদম আজাইরা কাজ না। কয়জন পারে কবিতা লিখতে বলেন?
- পারা লাগবেনা। এসব মেয়েদের সাথে টাংকি মারার ধান্দা। আমি সবই বুঝি। কাল থেকে যেন আর এসব না দেখি এতটুকুই বলে দিলাম।
= আচ্ছা এইযে কান ধরছি। আর করবনা। যদিও আমার কোন অপরাধ নেই। তবুও এমন সুন্দরীর কাছে হার মানতেও আমি রাজি।
- ওই আবার ফাজলামু হচ্ছে।
= নাহ নাহ খোদার কসম। এমন সুন্দরী কখনো দেখিনি।
- হুহ।
= আচ্ছা এমন সেজেছেন কেন আজ?
- জানিনা।
= ওহ তাহলে আজকেই সেই দিন? মানে পড়া শেষ? আচ্ছা কাল থেকে আর আসবেন না? আসতেই হবে। না আসলে আমি মরে যাব বলে দিলাম।
- চুপ । আমার জন্য মরতে হবে কেন? ভূতু ভূতু করার জন্য মেয়ের অভাব নাকি?
= এইযে ওয়াদা করছি। ভূতু ভূতু করুক আর কুতুকুতু করুক । আর কথা বলবনা। কবিতা লিখবনা। একদম না। মাফ চাই।
- হু।
= ধন্যবাদ আপনাকে।
- কেন?
= এইযে আপনাকে দেখার মত সুযোগ করে দিলেন।
- হুমমমম।
= আচ্ছা আমরা কোথায় আছি?
- এটা আমাদের রাজ্যে যাওয়ার পথ।
= মানে ? এখানে তো কোন পথ দেখছিনা।
- ওইযে দূরে ঝর্ণার শব্দ শুনছেন। ঝর্ণার পানি গুলো যেখানে প্রবাহিত হচ্ছে সেখান দিয়ে যেতে হয়।
= মানে সেখান দিয়ে তো পানির নিচে যাওয়া লাগবে।
- হুমমমম পানির নিচেই আমাদের রাজ্য।
= কী বলছেন এসব? আমি তো জানতাম পরীস্থান আকাশের উপর থাকে।
- কে বলছে ? আলিফ লায়লা? (মুচকি হেসে)
= হ্যা। না মানে পানির নিচে কেমনে কী?
- গেলেই বুঝতে পারবেন।
= গেলেই বুঝতে পারব মানে?
- আপনাকে আজ আমার দাদুজির কাছে নিয়ে যাব। তিনি আমাদের পরিবারের মুরুব্বি। আমার দাদি নেই।
= কিন্তু উনার কাছে আমাকে কেন নিবেন?
- দাদুজিকে আপনার কথা আমি বলেছি। আমার দাদুজি আমাকে সবচেয়ে বেশি ভালবাসে। আমার কোন চাওয়া তিনি অপূর্ণ রাখেন না। আমি আমার দাদুজির জীবন।
= হুমমম। কিন্তু আমার কী কাজ?
- সেটা গেলেই বোঝা যাবে শাহরিয়ান।
= এই এখন যাব?
- হুমমমম।
= আমার ভয় করছে।
- কেন খেয়ে ফেলব? নাকি বলি দেব?
= না না তা নয়। কিন্তু কেমন যেন। পানির নিচে নিশ্বাস নিব কিভাবে?
- হাঃ হাঃ হাঃ।
= আপনি হাসছেন? আমি সত্যি বলছি। আমার ভয় করছে।
- ওরে আমার ভীতুর ডিম চলেন আগে। মেরে ফেলবনা। আর শুনেন দাদুজির সাথে সুন্দর করে কথা বলবেন সাহস নিয়ে । যা জানতে চায় তা বলবেন। আর হ্যা দাদুজিকে বলবেন আপনি আমায় ছাড়া একদম বাঁচবেন না । কেমন?
= আমি কী সত্যি সত্যি যাব?
- উফ। ভূতুম ভূতু ভীতুর ডিম চলেন আগে।
= আচ্ছা জাদু করে একটা অক্সিজেন এনে দেন। মুখে বেঁধে নেই।
- হুম দিচ্ছি আপনাকে অক্সিজেন।
-
কথাটা বলেই আমার হাত ধরে শাই শাই করে সেই ঝর্ণার নিচে চলে গেল। তারপর কীভাবে যেন পানির নিচ দিয়ে চলতে লাগল। আমি আর কিছু দেখছিনা। জোরে জোরে নিশ্বাস নিচ্ছি। কয়েক সেকেন্ডে আমি পরীস্থান নামক সেই আজব দুনিয়ায় এসে পড়লাম।
(ভৌতিক রহস্যময়ী ভূতের গল্প ফেসবুক আইডি থেকে সংগৃহীত)
👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রায় সকল পোস্ট-ই ফেসবুক থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]
No comments