• সাম্প্রতিক

    আন্দাজে কথা বলা


    ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে একটি বড় সমস্যা হলো, আন্দাজে কথা বলা, অমূলক সন্দেহ করা, পরের কান কথায় আপনজনকে অবিশ্বাস্য করা, আবার আপন জনের কথা বাছ-বিচার ছাড়াই বিশ্বাস করা ইত্যাদি। অথচ সমাজে এমন বহু কথা ছড়িয়ে পড়ে, যার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। এ ধরনের ভিত্তিহীন গুজব মানুষে মানুষে সম্পর্ক নষ্ট করে। পরিবার ও সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। তাই শোনা কথার সত্যতা যাচাই করা বিশেষ জরুরী।
    কথা মানুষকে বলতেই হবে। তাই বলে আন্দাজে কথা বলা যাবেনা। আর মিথ্যাতো বলাই যাবে না। অকারণে গীবত ও পরনিন্দা করা যাবে না। নিজের মত বা মতাদর্শকে অন্যের উপর জোরপূর্বক চাপিয়ে দেয়া যাবেনা। #সঠিক_কথা_সঠিক_পন্থায়_বলতে_হবে। অপরের সম্পর্কে বলার আগে বহুবার চিন্তা করতে হবে। ভাবতে হবে তার মধ্যে আসলেই সেই ত্রুটি বা দোষ আছে কিনা অথবা আমার মধ্যে সেই দোষগুলি বর্তমান কিনা। বস্তুতঃ ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা, শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার স্বার্থে সকলের উচিৎ আগন্তুকের খবর (Information) যাচাই বাছাই করা।
    ইসলামে খবরের সত্যতা যাচাইয়ে উপর জোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কুরআনে বলা হয়েছে, "হে মুমিনগণ, যদি কোনো পাপাচারী তোমাদের কাছে কোনো বার্তা নিয়ে আসে, তোমরা তা পরীক্ষা করে দেখবে। তা নাহলে তোমরা অজ্ঞতাবশত কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি করে বসবে এবং পরে যাতে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য তোমাদের অনুতপ্ত হতে না হয়।’
    (সুরাঃ হুজরাত- আয়াতঃ ৬)
    যাচাই না করে কোনো খবর প্রকাশ করা ও বিশ্বাস করা মিথ্যাবাদী হওয়ার নামান্তর। মহানবী (সা.) বলেছেন, "কোনো ব্যক্তি যা শুনেছে, তা-ই (যাচাই করা ছাড়া) বর্ণনা করা মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য যথেষ্ট।"
    (মুসলিম শরিফের ভূমিকাঃ ১/১০৭, আবু দাউদ, হাদিসঃ ৪৯৯২)
    যাচাই না করে কারো নামে কিছু চাউর করে দেয়া গর্হিত অপরাধ। হীনস্বার্থে কারো চরিত্রে কালিমা লেপন ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। ব্যক্তিগত আক্রোশে কাউকে হেয় করা বা হেয় করার মানসে কারো একান্ত ব্যক্তিগত তথ্য মানুষের সামনে তুলে ধরা ইসলামের দৃষ্টিতে গর্হিত কাজ।
    মহান আল্লাহ বলেন, "কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ কখনো যেন তোমাদের সুবিচার বর্জনে প্ররোচিত না করে।" (সুরাঃ মায়েদা-আয়াতঃ ৮)
    দুনিয়ার মোহে পড়ে বা অজ্ঞতা বশতঃ মানুষ নিজের মত বা মতাদর্শকে ঊর্ধ্বে রাখার জন্য অন্যের প্রতি মনগড়া, বানোয়াট, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপবাদ আরোপ করে থাকে। এটি কোনো সভ্য মানুষ বা জাতির কাজ হতে পারে না। সহনশীলতা, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও সহিষ্ণুতা না থাকলে সমাজে বিবাদ লেগেই থাকে। এতে সমাজের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়। তাই সত্য কথা বলতে হবে ও সত্য কথা শুনতে হবে এবং সত্যকে তুলে ধরার চেষ্টায় আপোষহীন হতে হবে।
    কুরআনে বলা হয়েছে, "হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো।"
    (সুরাঃ আহজাব-আয়াতঃ ৭০)
    দ্বীন-ধর্মের কথা বা আল্লাহকে ভয় করার কথা শুধু মুখে বললেই হবেনা, অন্তরের গভীরে লালন করতে হবে এবং বাস্তবক্ষেত্রে এর প্রয়োগ থাকতে হবে। জীবনের বিস্তীর্ণ অংগনে তাকে বাস্তবায়ন করতে হবে। অর্থাৎ আল্লাহর ভয়টা ভয়ের মতই হতে হবে। ভয়টা হতে হবে একান্ত অনুগত দাসের মত। আল্লাহ তায়ালা বলেন- "ইয়া আয়ুহাল্লাজিনা আমানুত্তাকুল্লাহা হাক্কা তুকাতিহী" অর্থাৎ -"হে ঈমান্দারগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যেভাবে ভয় করা উচিৎ।"
    (সুরাঃ আলে ইমরান-আয়াতঃ১০২)
    এখানে ভয় মানে তাকওয়া বা পরহেজগারি। অর্থাৎ তাকওয়া বা পরহেজগারিটা একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার জন্য একনিষ্ঠ এবং একান্তভাবে হতে হবে। কিছু ইসলামীক আর কিছু অনৈসলামিক তা হবেনা। পুরো জিন্দেগীটাই ভিতরে-বাইরে ইসলামিক হতে হবে।
    আর সেটাই হচ্ছে পরিপূর্ণতা, সত্য বা সততা এবং সঠিক আকিদা। যাকে বলা হয় "ঈমান-বিল্লাহ"। অন্যথায় ঈমান বা আকিদা পরিপূর্ণ হবেনা।
    আল্লাহ তায়ালা বলেন, "ইয়া আইয়ুহাল্লাজিনা আমানুদখুলু ফিসসিলমে কাফফা" অর্থাৎ -"হে ঈমানদারগণ! তােমরা ইসলামের ভিতর পুরােপুরিভাবে প্রবেশ কর।" (সুরা বাকারা-আয়াতঃ ২০৮)
    মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে জানার, বুজার এবং আমল করার তাওফিক দান করুন, আমীন।
    -আলী ইউছুফ
    ০৩/০৫/২০২১ ইং

    (Ali Yousuf এর ফেসবুক আইডি থেকে সংগৃহীত) 

    👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রায় সকল পোস্ট-ই ফেসবুক থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।] 

    No comments

    Post Top Ad

    ad728

    Post Bottom Ad

    ad728

    আমরা আপনাকে বিনামূল্যে আমাদের আপডেট গুলি পাঠাতে যাচ্ছি। প্রথমে আপনার অনুলিপি সংগ্রহ করতে, আমাদের মেইলিং তালিকায় যোগ দিন। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, অকেজো তথ্য প্রেরণ করে আপনাকে বিরক্ত করবো না। সুতরাং কোনও আপডেট মিস করবেন না, সংযুক্ত থাকুন!