• সাম্প্রতিক

    কোনদিকে যাচ্ছে প্রিয় বাংলাদেশ

    সম্প্রতি প্রদীপের নিচের ঘন কালো আঁধার ঢাকতে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের উন্মত্ত চেতনার লেলিহান শিখায় পুলিশ বিভাগের কার্বনডাই অক্সাইড নিক্ষেপে জনমনের ধাবদাহ কিছুটা শীতল হচ্ছে বটে, কিন্তু কুমীরে খাওয়া বাপের সন্তানদের মনে ঢেঁকির ভয় যেন থেকেই যাচ্ছে।
    কারণ বাংলাদেশে এখন করোনা মহামারীর পাশাপাশি ধর্ষণ মহামারী ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন দেশের কোনোনা কোনো স্থানে ধর্ষণ বা দলবদ্ধ ধর্ষণের (Gang rape) ঘটনা ঘটেই চলেছে। এমন কোনও দিন নেই যেদিন ৪/৫ টি ধর্ষণের খবর সংবাদপত্রে প্রকাশিত হচ্ছে না।
    একটি বেসরকারী তথ্যমতে দেশে ক্ষমতাসীনদের অাশ্রয় প্রশ্রয়ে গত ৯ মাসে ধর্ষণের শিকার ৯৭৫ জন নারী, গণধর্ষণের শিকার ২০৮ জন নারী।
    একজন পরিচিত সাংবাদিকের কাছে গত ৮ মাসে ৮৮৯ জন ধর্ষিতার তথ্য আছে বলে ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানান। এর মধ্যে ৪১ জন নিহত হয়েছে।
    আবার একটি দৈনিক পত্রিকার সুত্র মতে শুধু অগাস্ট মাসেই ধর্ষণের শিকার হয়েছে ২৪৯ জন নারী ও শিশু। এরমধ্যে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৩২ জন।
    এসব হচ্ছে ইলেকট্রনিক্স বা প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত বিভিন্ন খবরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী মোটামুটি কিছু তথ্য। কিন্তু এর বাইরে যে, আরো কত নির্মম ও নৃশংস ঘটনার খবর সামাজিক মর্যাদাহানি বা লোক লজ্জার ভয়ে অথবা ক্ষমতাশীল ও প্রভাবশালীদের বলপ্রয়োগে নতুবা প্রশাসনিক ভয়ভীতি ও হয়রানির কারনে ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে তার হিসেব মেলা ভার !!
    আর মিডিয়ায় যেসব ঘটনা প্রকাশিত হয়, তাও হাতেগোনা কয়েকটি ব্যাতীত বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই আইনী জটিলতা এবং নানাবিধ তদবির ও লেনদেনের যাঁতাকলে সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। বিচারের গতি হয়ে যায় মন্থর। সংকুচিত হয়ে যায় আইনের পরিসর।
    গুটি কয়েকটি ক্ষেত্রে ধর্ষিতার পরিবারের বুকফাটা কান্না আর স্বজনদের আহাজারির আর্তি বড়জোর হয়তো মামলা পর্যন্ত গড়ায় কিন্তু তথৈবচ। "বিচারের বানী নীরবে নিভৃতে কাঁদে"-- এই প্রবাদের সত্যতা প্রমাণেই যেন অধিক মহল ব্যস্ত হয়ে উঠে।
    ধর্ষণ ঘৃণ্য অপরাধ। এর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। অথচ আমাদের দেশে এই ঘৃণ্য অপরাধটাই সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ নেই, প্রতিরোধ নেই, নেই কোনো কার্যকর আইনী ব্যবস্থা। ক্ষমতার দাপট, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং বিচার প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও
    জনবান্ধব করতে না পারাসহ সামাজিক ও রাজনৈতিক উদাসীনতার সুযোগে ধর্ষকরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
    সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, এই ঘৃণ্য অপরাধ ও অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে তথা এই সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে যাদের রুখে দাঁড়ানোর কথা, প্রতিবাদ করার কথা, সে যুব সমাজই আজ বড় বেশি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে।
    আপরদিকে যারা শুভঙ্করের খাটে শুয়ে আছে তারাও শুভঙ্করের ফাঁকিতে পড়ে সামাজিক দায়িত্ব ও নিরাপত্তাবোধ থেকে দিন দিন নির্লিপ্ত ও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছে।
    বরং যুব সমাজের অধিকাংশই আজ নানাবিধ অনাচার ও অবক্ষয়ের দিকে বেশী ধাবিত হচ্ছে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরাই এই অবক্ষয়, অনাচার এবং নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের আগুনে বেশী তাপ যোগাচ্ছেন। নিজেরাই ধর্ষক হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছেন। নীতিনির্ধারকরাই নীতিহীনতার আবর্তে জড়িয়ে যাচ্ছেন। উন্নত বিশ্বের প্রায় সকল দেশেই ASBO (anti-social behaviour order) ফলো করা হলেও বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের "টপ টু বটম" কোথাও "অ-সামাজিক আচরণবিধি"র কোনোরূপ চর্চা নেই।
    আমি এখানে কোনো ঘটনার ফিরিস্তি টেনে পাঠকের ধৈর্যচ্যুতি ঘটানোর পক্ষপাতী নই!
    কারণ, ইতিমধ্যে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের নানাবিধ দুষ্কৃতীমূলক কর্মকান্ড, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, ভূমিদখল, ক্যাম্পাস দখল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খুন, ক্যাসিনো, শেয়ার কেলেঙ্কারি, হলমার্ক কেলেঙ্কারি, ব্যাংক কেলেঙ্কারি, রিলিফ চুরি, চাল চুরি, ডাল চুরি, তেল চুরি, ত্রানের টাকা চুরি, রিজেন্ট শাহেদ-ডাক্তার সাবরিনার করোনা-দুর্নীতি, স্বাস্থ্যখাতে ধ্বস তথা স্বাস্থ্য মহাপরিচালকের ড্রাইভার সমাচার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্ষণ সেঞ্চুরি, থার্টিফার্স্টের বাঁধন কেলেঙ্কারি, কোটা আন্দোলনের উপর আক্রমণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীর উপর আক্রমণ, শীতলক্ষ্যার সাত খুন, আবরার হত্যা, নুসরাত হত্যা, তনু হত্যা, মেজর সিনহা হত্যা, ২/৩ সন্তানের জননী নিয়ে ছাত্রলীগ নেতা উধাও, প্রবাসীর স্ত্রী নিয়ে যুবলীগ নেতা উধাও, তিন সন্তানের জননী নিয়ে আওয়ামীলীগ নেতা উধাও, খদিজার উপর আক্রমণ, ম্যাজিস্ট্রেট পরিবারের ওপর হামলা, নারী নেত্রীর কেলেঙ্কারি, ছেলেধরা আওয়ালীগ নেত্রী, ছাত্রলীগ সভাপতি কর্তৃক স্কুল শিক্ষিকা ধর্ষণ, মা-মেয়েকে ধর্ষণ, এমপি-ডিসি-এসপিদের গোপন প্রণয়ের শর্টফিল্ম সহ অসংখ্য অযাচিত, অবাঞ্চিত, রোমহর্ষক ঘটনা অহরহ প্রত্যক্ষকরণে জাতি হিমশিম খেয়ে উঠেছে। কি নেই আওয়ামী লীগে...??
    তদুপরি সম্প্রতি এমসি কলেজের আলোচিত মর্মান্তিক ও ন্যক্কারজনক ঘটনা এবং সারাদেশে ম্যারাথন ধর্ষণে সমগ্র জাতি ভীষণভাবে আতংকিত হয়ে পড়েছে, যা পাঠক মাত্রেই অবগত।
    বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের কর্মীদের দ্বারা বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ ক্যাম্পাসে ধর্ষণ বা দলগত ধর্ষণের ঘটনা বছরের পর বছর ধরেই ঘটে চলেছে যা সকলেরই জানা। করোনা ভাইরাসের চেয়েও ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের ধর্ষণ ভাইরাস। এদের পশুত্ব কোনো কোনো ক্ষেত্রে বনের হিংস্র হায়েনাকেও ছাড়িয়ে গেছে। সরকার বিরোধী দলের বক্তব্য মতে ছাত্রলীগের ধর্ষণের ঘটনা একাত্তরের হানাদার বাহিনীকেও হার মানিয়েছে...!!!
    কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, ক্ষমতায় থাকা একটা দলের কেউ যখন খুন-ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ করে, তারপরও ক্ষমতাশীন দলটি লজ্জিত হয় না। কোনো অনুতাপও দেখা যায় না। তাছাড়া দলে যেন এ ধরনের অপরাধীরা স্থান না পায়, সে ব্যাপারে কোনো সতর্কতা ও কঠোর অঙ্গীকারও দেখা যায় না। বরং যখনই কারো কোনো অপরাধের খবর ফাঁস হয়ে যায়, তখন বলা হয়, সে আসলে আমাদের দলের কেউ নয় অথবা অনুপ্রবেশকারী। বলা হয় অপরাধী বিএনপি অথবা জামাতের লোক। পান থেকে চুন খসলেই বলা হয় এটি বিএনপি-জামাতের কাজ। এভাবে অবিরাম মিথ্যাচারের উপর ভর করে রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে ক্রমাগত ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কুল কিনারাহীন এক অতল গহবরের দিকে। একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্রকে শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থে বানানো হচ্ছে একটি অকার্যকর রাষ্ট্র। ভাবতে অবাক লাগে.! আটারো কোটি জনসংখ্যার একটি স্বাধীন জাতি চোখের সামনে অবলীলায় মেরুদন্ডহীন জাতিতে পরিণত হচ্ছে, অথচ এ ব্যাপারে সরকারের নিম্ন পর্যায় থেকে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত সকলে কেমন নিরব-নির্বিকার !! এটা নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার চরম বহিঃপ্রকাশ.!!
    বস্তুতঃ আমাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থাটাই যেন পচে গেছে। যে রাজনীতি মানুষকে স্বপ্ন দেখাবে, সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাবে, মানুষের পাশে থাকবে—তাদের মধ্যেই রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ঢুকে পড়েছে। তারাই সুদ, ঘুষ, মিথ্যাচার, দূর্নীতি, খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজির মতো গুরুতর অপরাধ গুলো সংঘটিত করছে। আসলে পুরো রাজনীতিটাই বর্তমানে দুর্বৃত্ত কবলিত হয়ে পড়েছে। দূর্নীতিবাজ আর অপরাধীদের প্ল্যাটফরম হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন গুলো। বিশেষ করে ক্ষমতাশীন দলের ক্ষেত্রে বিষয়টি বেশী লক্ষ্য করা যায়।
    সেদিক থেকে বর্তমান ক্ষমতাশীন দল আওয়ামীলীগ যেন অপরাধীদের অভয়ারণ্য এবং দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। ক্ষমতার দাপটে এ দলটির ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ইদানিং যেভাবে ভাদ্র মাসের পাগলা কুকুরের চেয়েও বীভৎস হয়ে উঠেছে-- তা যদি সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়, একথা অনস্বীকার্য যে, স্বাভাবিকভাবেই দেশের মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে বাধ্য হবে। এ অবস্থা শেষমেষ গৃহযুদ্ধে রূপ নিতে পারে। কারণ জনগণের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে।
    দেশপ্রেমিক বিজ্ঞ ও বিদ্বজনদের এখন একটাই ভাবনা...এহেন কঠিন পরিস্থিতি, ক্রমাগত ধর্ষণ, উন্মত্ত সন্ত্রাস, সুদ, ঘুষ, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দূর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, বিচারহীনতা, একপেশে রাজনীতি, নতজানু পররাষ্ট্রনীতি, দমননীতি, রাষ্ট্রীয় মিথ্যাচার, ইতিহাস বিকৃতি, অপসংস্কৃতির দৌরাত্ম্য সব কিছু মিলিয়ে আজ কোনদিকে যাচ্ছে প্রিয় বাংলাদেশ....???
    রচনা-আলী ইউছুফ
    ০৪/০৯/২০২০ ইং

    (Ali Yousuf এর ফেসবুক আইডি থেকে সংগৃহীত)

    👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রায় সকল পোস্ট-ই ফেসবুক থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]

    No comments

    Post Top Ad

    ad728

    Post Bottom Ad

    ad728

    আমরা আপনাকে বিনামূল্যে আমাদের আপডেট গুলি পাঠাতে যাচ্ছি। প্রথমে আপনার অনুলিপি সংগ্রহ করতে, আমাদের মেইলিং তালিকায় যোগ দিন। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, অকেজো তথ্য প্রেরণ করে আপনাকে বিরক্ত করবো না। সুতরাং কোনও আপডেট মিস করবেন না, সংযুক্ত থাকুন!