একদিন এক ইহুদি মুসাফির এসে একজন সভ্রান্ত মুসলমানের কাছে রাতে আশ্রয় চাইলেন। মুসলমান ব্যক্তিটি সানন্দে তাকে মেহমান হিসেবে নিজের ঘরে নিয়ে গেলেন। তাকে খুব আন্তরিকতার সাথে সেবা শুশ্রুষা ও মেহমানদারী করলেন। তারপর অতি যত্ন সহকারে মেহমানকে রাতে ঘুমানোর ব্যবস্থা করে দিলেন। মাঝরাতে কোন প্রয়োজন হলে তাঁকে যেন ডাক দেন-এই কথা বলে মুসলমান ব্যক্তিটি নিজের ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে গেলেন।
ভোরে ঘুম থেকে উঠেই মুসলমান ব্যক্তিটির মেহমানের কথা মনে পড়ে গেল। চিন্তা করলেন, রাতে ঐ মেহমানের কোন কিছুর প্রয়োজন হয়নি তো...! কোন অসুবিধা হয়নি তো...! একথা ভেবে মুসলমান ব্যক্তিটি খুবই বিচলিত হলেন। তড়িঘড়ি করে মেহমানের ঘরে গেলেন। গিয়ে দেখলেন ইহুদী মেহমানটি ঘরে নেই, বিছানা-পত্র আলুথালু অবস্থায় পড়ে আছে। এদিক সেদিক অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার দেখা মিললনা।
অবশেষে মুসলমান ব্যক্তিটি বিছানা-পত্র গুছানোর জন্য মেহমানের ঘরে গেলেন। গিয়ে দেখলেন এক বিশ্রী কান্ড!! ঘর থেকে ভীষণ দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। দেখলেন মেহমানটি পায়খানা প্রস্রাব করে বিছানাপত্র একেবারে লেপটে দিয়ে গেছেন। তা দেখে মুসলমান ব্যক্তিটি একেবারে নিথর হয়ে গেলেন। এক প্রকার অপরাধ বোধে আছন্ন হয়ে গেলেন তিনি।
মেহমানের কষ্টের অবস্থা চিন্তা করে তিনি খুব ব্যথিত হলেন। ভাবলেন, মেহমান হয়তো রাগ করে চলে গেছেন। ইস...! আমি কেন রাতে একবার মেহমানের খোঁজখবর নিলাম না...!! এই ভেবে তিনি ভীষণ অনুশোচনায় ভুগছিলেন।
ওদিকে ভোর রাতে পালিয়ে যাওয়া ইহুদী মেহমানটি কিছুদূর গিয়ে কৌতুহল বশত আবার ফিরে আসলেন এবং মুসলমান ব্যক্তিটির বাড়ীর কাছাকাছি এসে লুকিয়ে লুকিয়ে সব দেখতে লাগলেন। ব্যক্তিটি ভাবলেন, যাক বাবা; প্রানে বাঁচা গেল। আজ যদি মুসলমান ব্যক্তিটি আমাকে ঐ অবস্থায় তাঁর ঘরে পেতেন তাহলে নির্ঘাত হত্যা করতেন!
কিন্তু কি আশ্চর্য...! মেহমানটি দেখলেন, মুসলমান ব্যক্তিটি তার পায়খানা প্রসাবে নষ্ট হওয়া দূর্গন্ধযুক্ত বিছানা-পত্র গুলি উঠিয়ে কূপের কাছে নিয়ে নিজ হাতে পরিষ্কার করছেন। সেতো দেখে অবাক...! ভুল দেখছি নাতো...!! এ কেমন মানুষ...!!!
মেহমানটি যারপর নাই বিস্মিত হয়ে ভাবতে লাগলেন, যে মানুষটি তাকে রাতে আশ্রয় দিলেন, পেট ভরে খাওয়ালেন, এত সেবা যত্ন করলেন, তারপর আরাম করে শুতে দিলেন; আর আমি কিনা তাঁর ঘরে এমন বিশ্রী কান্ড ঘটিয়ে আসলাম..!! মেহমানটি সাথে সাথে ভীষণ অনুতপ্ত হলেন এবং মুসলমান ব্যক্তিটির কাছে ভয়ে ভয়ে ক্ষমা চাইতে গেলেন।
তাকে দেখেই মুসলমান ব্যক্তিটি অত্যন্ত নরম সুরে বললেন-“ভাই, আপনি কোথায় গিয়েছেন...? অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি আপনাকে। আপনার কি রাতে খুব কষ্ট হয়েছিল...? আমাকে ডাকেননি কেন...? আমি দুঃখিত যে, ঘুমিয়ে পড়েছিলাম তাই রাতে আপনার খোঁজখবর নিতে পারিনি। আমাকে ক্ষমা করে দিন।”
মেহমান ব্যক্তিটি স্তব্ধ হয়ে গেলেন, তার বিস্ময়ের সীমা রইল না...!! মনে মনে বললেন, দোষ করলাম আমি আর ক্ষমা চাইছেন উনি। কি অদ্ভুত ব্যাপার ?? ব্যক্তিটি তখন কি বলবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না। তিনি ভীষণ লজ্জাবোধ করলেন এবং ভাবতে লাগলেন, ইনি কি মানুষ নাকি ফেরেশতা !! কোনরকমে কাঁপা কাঁপা শরীরে বাকরুদ্ধ কন্ঠে ব্যক্তিটি বললেন, আপনি কে?
মুসলমান ব্যক্তিটি উত্তরে বললেন-“ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই, আমি মোহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ"।
ইহুদী ব্যক্তিটি তখন অভিভূত হয়ে গেলেন এবং বললেন-“আপনিই মোহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ...!!!”
ইহুদী ব্যক্তিটি তখন সাথে সাথে কলেমা পড়ে মুসলমান হয়ে গেলেন।
হ্যা, ব্যক্তিটি আর কেউ নন। ব্যক্তিটি হচ্ছেন বিশ্বনবী, বিশ্বনেতা, সৃষ্টিকুলের স্রেষ্ঠ সৃষ্টি, শ্রেষ্ঠ রাসুল, শ্রেষ্ঠ মানুষ মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
সুতরাং, প্রিয় বন্ধুগণ, একজন মেহমানের সাথে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষের ব্যবহার ও সমাদর যদি এমন হয়ে থাকে তবে মেহমানদের সাথে আমাদের ব্যবহার কেমন হওয়া উচিৎ তা সহজেই অনুমেয়।
রচনাঃ আলী ইউছুফ (হাদীসের আলোকে)
২০/০৬/২০ইং
প্রতীকী ছবি-মুসাফির-গুগুল।
(Ali Yousuf এর ফেসবুক আইডি থেকে সংগৃহীত)
👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রায় সকল পোস্ট-ই ফেসবুক থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]
Subscribe to:
Post Comments
(
Atom
)
Post Top Ad
ফেসবুকের গল্প তে আপনাকে স্বাগত। এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কোনো লেখা বা মতামতের জন্য 'ফেসবুকের গল্প' কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।
Post Bottom Ad

No comments