এক গভীর শীতের রাত। জঙ্গল ঘেরা একটি নির্জন গ্রামে, যেখানে চাঁদের আলো মিশে থাকে গা ছমছমে নীরবতার সঙ্গে। গ্রামের নাম ছিল "কালাপাহাড়"। মানুষজন বিশ্বাস করত, পূর্ণিমার রাতগুলোতে এই গ্রামে অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। সেদিন ছিল পূর্ণিমা। চারদিকে কুয়াশা আর জঙ্গল থেকে আসা রহস্যময় সুর যেন কারও উপস্থিতির আভাস দিচ্ছিল। গ্রামের মানুষজন ভয়ে নিজেদের ঘরে দরজা জানালা বন্ধ করে লুকিয়ে ছিল। কিন্তু ১৭ বছরের 'রিয়া' এত সহজে ভয় মানার মতো মেয়ে নয়। তার ছিল ভয়কে জয় করার সাহস। সেদিন রাতে সে একাই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েছিল, কারণ তার গরু দুটি সন্ধ্যা থেকে ফিরে আসেনি।
মশাল হাতে নিয়ে রিয়া জঙ্গলের দিকে এগিয়ে গেল। প্রথমে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হচ্ছিল, কিন্তু হঠাৎ একটা অদ্ভুত আওয়াজ শোনা গেল। আওয়াজটা ছিল যেন কাচ ভাঙার মতো, আর তারপরই সবকিছু একদম স্তব্ধ। রিয়া আতঙ্কিত হলো, কিন্তু সাহস হারালো না। এগিয়ে যেতে যেতে সে জঙ্গলের গভীরে একটা পুরোনো ভাঙা মন্দির দেখতে পেল।
মন্দিরের চারপাশে যেন ছায়া ঘুরছে। রিয়া যখন মশালের আলো মন্দিরের দিকে তাক করল, তখন সে দেখতে পেল কিছু মানুষ মন্দিরের ভেতরে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের সবার মুখ ঢাকা, হাতে অদ্ভুত প্রতীক চিহ্নিত লাঠি। রিয়া লুকিয়ে তাদের কথাগুলো শুনতে লাগল। তারা এক অদ্ভুত ভাষায় কিছু বলছিল, যা তার বুঝতে পারা সম্ভব ছিল না।
হঠাৎ তাদের মধ্যে একজন তার দিকে তাকিয়ে বলে উঠল, "ওরা এখানে আছে!" রিয়া ভয় পেয়ে দৌড়াতে শুরু করল। সে যতই দৌড়াচ্ছিল, পেছনে যেন দানবীয় ছায়াগুলো তাকে তাড়া করছিল। তার মনে হচ্ছিল যেন গোটা জঙ্গলটাই জীবন্ত হয়ে গেছে। গাছের ডালপালা তার পথ আটকে দিচ্ছে, আর অন্ধকার আরও ঘন হচ্ছে।
রিয়া দৌড়াতে দৌড়াতে গ্রামের পেছনের বড় পুকুরের কাছে এসে পৌঁছাল। সেখানে হঠাৎ পা ফসকে সে পুকুরে পড়ে গেল। যখন জ্ঞান ফিরল, তখন সে নিজেকে গ্রামের মাঝখানে দেখতে পেল। গ্রামের মানুষজন তাকে জড়িয়ে ধরে বলল, "তুমি বেঁচে আছো? অসম্ভব! যে কেউ ওই রাতে জঙ্গলে গেলে আর ফেরে না।"
রিয়া সেই রাতের ঘটনা কারও কাছে ঠিকঠাক বলতে পারল না। কিন্তু তার হাতে একটা গভীর দাগ ছিল, যা দেখে গ্রামের বৃদ্ধরা বলল, "তুমি হয়তো ওদের রক্তচিহ্ন নিয়ে ফিরে এসেছ।"
সেই রাতের পর থেকে রিয়া আর কখনো নিজের ছায়াকেও বিশ্বাস করতে পারেনি। কালাপাহাড়ে পূর্ণিমার রাতগুলো এখনও ভয় আর রহস্যে ঘেরা। যারা সাহস করে ওই রাতে বের হয়, তাদের কেউ আর ফিরে আসে না।
(
দেশের গল্প-দশের গল্প/জীবনের গল্প-যৌবনের গল্প ফেসবুক আইডি থেকে সংগৃহীত)
👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পোস্টগুলো ফেসবুক এবং ইমেইল থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]
No comments