আসিফের জীবন সবসময় সহজ ছিল না। ছোটবেলাতেই বাবাকে হারায়, আর সংসারের দায়িত্ব যেন এক ঝটকায় তার কাঁধে এসে পড়ে। বাবার রেখে যাওয়া ক্ষুদ্র দোকানটিই ছিল তাদের পরিবারের উপার্জনের একমাত্র পথ। কিন্তু অভাবের সংসার, ভাইদের অসহযোগিতা আর সামাজিক বাধাগুলো সবসময় তার এগিয়ে যাওয়ার পথ রুদ্ধ করেছিল।
কিন্তু আসিফ হার মানার পাত্র ছিল না। ছোটবেলার একসময় সে খুবই মেধাবী ছাত্র ছিল, কিন্তু জীবনের বাস্তবতা তাকে বই-খাতা ছেড়ে বাবার দোকানে বসতে বাধ্য করে। যেখানে তার বন্ধুরা উচ্চশিক্ষার জন্য শহরে চলে গেছে, সেখানে সে দিনের পর দিন দোকানে বসে খরিদ্দারদের চাহিদা মেটাতো। তবুও ভেতরে ভেতরে তার স্বপ্ন ছিল, পড়াশোনা শেষ করার। কিছু বই নিয়ে সে রাতে দোকান বন্ধ করে একাকী পড়তো। কিন্তু ভাইদের চাপ আর ব্যবসায় তাদের কুপরামর্শের কারণে ব্যবসায় ক্ষতির মুখোমুখি হয়, এবং দিন দিন অভাব যেন তাকে গ্রাস করে নিচ্ছিল।
একদিন ছোট বোনের চিকিৎসার জন্য তাকে অনেক টাকার প্রয়োজন হয়, কিন্তু কারও কাছ থেকে সে সাহায্য পায় না। একা একাই সে সংগ্রাম চালিয়ে যায়। প্রতিটি বাধা তাকে ভেঙে দিচ্ছিল, তবুও নিজের অবস্থান হারায়নি। অবশেষে নিজের অদম্য চেষ্টায় সে ছোট বোনের চিকিৎসার খরচ যোগাড় করে।
জীবনের প্রতিটি ধাক্কা তাকে আরো শক্ত করে তুলেছিল। কোনোদিন উচ্চশিক্ষা না পেলেও, সেই সংগ্রামী মনোভাব তাকে সাহস যোগাতো। ব্যথা ছিল, বেদনা ছিল, তবুও জীবনের এই চ্যালেঞ্জগুলো তাকে পরিণত করেছিল এক অটল যোদ্ধায়।
কিন্তু এই সংগ্রামের গল্প এখানেই শেষ নয়। আসিফ একদিন সিদ্ধান্ত নিলো, শুধু দোকানেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। দোকানের পাশাপাশি সে আরও কিছু করার চেষ্টা করতে লাগলো, ছোট ছোট কাজের সুযোগ খুঁজে বেড়াতো। একদিন সেই সুযোগ আসে—এক বন্ধুর পরামর্শে অনলাইনে কিছু দক্ষতা শেখার চেষ্টা শুরু করে। দিনের ক্লান্তি শেষে, রাতের নিরবতায় সে কম্পিউটারের স্ক্রিনে নিজের নতুন এক ভবিষ্যৎ দেখতে লাগলো।
আস্তে আস্তে সে অনলাইনে কাজের ছোট ছোট প্রজেক্ট করতে শুরু করলো। অর্থের পাশাপাশি তার মনে আবারও আত্মবিশ্বাস জন্মাতে লাগলো। জীবন তাকে অনেক কষ্ট দিয়েছে, তবুও সে শিখেছে প্রতিটি বাধাকে জয় করতে। আসিফ এখন জানে, জীবন যতই কঠিন হোক না কেন, ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রমের মাধ্যমে সব বাধাকে অতিক্রম করা সম্ভব।
(
দেশের গল্প-দশের গল্প/জীবনের গল্প-যৌবনের গল্প ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত )
👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পোস্টগুলো ফেসবুক এবং ইমেইল থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]
No comments