"চৌকাঠ পেরিয়ে"
কাজ খুঁজতে গিয়ে রাফি বুঝতে পারে, শহরের জীবন তার গ্রামের মতো সরল নয়। প্রথমে একটি রিকশা গ্যারেজে চাকরি জোটে, কিন্তু মালিকের দুর্ব্যবহারে কাজ ছেড়ে দেয়। এরপর সে একটি রেস্তোরাঁয় বাসন মাজার কাজ শুরু করে। দিনের শেষে ক্লান্ত শরীরে যখন ঘরে ফিরত, তখন চোখ ভিজে যেত।
একদিন রেস্তোরাঁয় এক কাস্টমার এসে দেখলেন রাফি কাজের ফাঁকে বই পড়ছে। লোকটি বিস্মিত হয়ে রাফির সঙ্গে কথা বললেন। জানতে পারলেন, রাফি একসময় গ্রামের স্কুলে প্রথম হতো। লোকটি তাকে উৎসাহ দিয়ে বললেন, “তোমার প্রতিভা নষ্ট হতে দিও না। সময় যত কঠিনই হোক, শিখতে থাকো। সুযোগ একদিন আসবেই।”
লোকটির পরামর্শে রাফি রাতে কাজের পর ফ্রি কম্পিউটার প্রশিক্ষণের জন্য একটি সেন্টারে ভর্তি হয়। দিনে কাজ, রাতে পড়াশোনা—রাফি এই কঠিন রুটিন মেনে চলতে শুরু করে।
ছয় মাস পর, একদিন সে একটি চাকরির পরীক্ষায় অংশ নেয়। তার কঠোর পরিশ্রম ও ধৈর্যের ফলস্বরূপ সে একটি ছোট্ট কোম্পানিতে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কাজ পেয়ে যায়। নতুন চাকরির প্রথম মাইনে পেয়ে রাফি বাবার চিকিৎসার খরচ মেটায় এবং গ্রামের বাড়িতে টাকা পাঠায়।
রাফির গল্প শিখিয়ে দেয়, জীবনের কঠিন পরিস্থিতি মানুষকে থামিয়ে দিতে পারে না। যদি ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রমের মানসিকতা থাকে, তবে দুঃসহ পরিস্থিতিও একদিন বদলে যায়।
শিক্ষা:
কঠিন পরিস্থিতি আমাদের ভেঙে ফেলতে পারে, কিন্তু তার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে শক্তি অর্জনের সুযোগ। প্রতিকূলতা জয় করার একমাত্র পথ হলো ধৈর্য ও অদম্য চেষ্টায় নিজেকে টিকিয়ে রাখা।
👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পোস্টগুলো ফেসবুক এবং ইমেইল থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]

No comments