নাঙ্গেলি: সাহসের প্রতীক
নাঙ্গেলি, নিম্নবর্ণের এজহাভা গোত্রের এক দরিদ্র কৃষাণী, এ অমানবিক কর ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস দেখান। একদিন কর আদায়কারীরা তার বাড়িতে এসে কর দেওয়ার দাবি করে। কিন্তু নাঙ্গেলি চুপ ছিলেন না। তিনি তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তিনি এই অন্যায় কর দেবেন না। কর আদায়কারীদের হুমকি-ধমকি সত্ত্বেও নাঙ্গেলি অনড় থাকেন।
অবশেষে এক ভয়াবহ সিদ্ধান্ত নেন নাঙ্গেলি। কর না দিয়ে নিজের সম্মান রক্ষা করার জন্য তিনি নিজের দুই স্তন কেটে একটি পাত্রে রেখে কর আদায়কারীদের হাতে তুলে দেন। তিনি এত রক্তক্ষরণে মৃত্যুবরণ করেন।
নাঙ্গেলির মৃত্যুর খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তার প্রতিবাদ শুধু স্থানীয় জনগণের নয়, সারা রাজ্যের মানুষের মনে আঘাত হানে। তার এই আত্মত্যাগ নিম্নবর্ণের নারীদের প্রতি উচ্চবর্ণের অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রথম সশব্দ প্রতিবাদ হয়ে ওঠে।
নাঙ্গেলির স্বামী চিরুকান্দান তার স্ত্রীর এই আত্মত্যাগ মেনে নিতে পারেননি। স্ত্রীর মৃত্যুর শোকে তিনি নিজেকে আগুনে দগ্ধ করে জীবন বিসর্জন দেন। ইতিহাসে এটিই ছিল প্রথম পুরুষ “সতীদাহ”।
নাঙ্গেলির আত্মত্যাগের ফলে কর আদায়কারীরা এবং তৎকালীন শাসকরা চরম সমালোচনার মুখে পড়ে। একসময় “মুলাকরম” প্রথা বিলুপ্ত হয়। আজও নাঙ্গেলির নাম কেরালার মানুষের মুখে মুখে ফেরে, সাহস ও আত্মমর্যাদার প্রতীক হিসেবে। তার গ্রাম চেরথালাকে অনেকে “মুলাচিপারাম্বু” (স্তন কাটা নারী) নামেও ডাকেন।
নাঙ্গেলির গল্প শুধু একটি অঞ্চলের নয়; এটি সারা বিশ্বের মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার প্রতীক। এ গল্প নারী স্বাধীনতা, মানবাধিকার, এবং সাম্যের লড়াইয়ে অসীম শক্তি জোগায়। নাঙ্গেলি প্রমাণ করেছেন যে, একটি নির্ভীক প্রতিবাদ একটি প্রজন্মকে বদলে দিতে পারে।
সারমর্ম:
নাঙ্গেলির সাহসিকতার গল্প আমাদের শেখায় যে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্য ধনী বা শক্তিশালী হতে হয় না। শুধু প্রয়োজন দৃঢ় মনোবল আর আত্মমর্যাদার প্রতি অগাধ বিশ্বাস। নাঙ্গেলি তার জীবন দিয়ে যে বার্তা দিয়ে গেছেন, তা সারা বিশ্বের মানুষের হৃদয় স্পর্শ করেছে এবং চিরকাল করবে।
👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পোস্টগুলো ফেসবুক এবং ইমেইল থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]

No comments