তিথি আর আরাফাতের প্রথম দেখা হয়েছিল এক বন্ধুর বিয়েতে। বিয়ের ভিড়ে তারা বেশ কয়েকবার চোখাচোখি হয়ে যায়। দুজনেরই মনে যেন কোথাও অদ্ভুত একটা টান, একটা নীরব আকর্ষণ ছিল, কিন্তু মুখ ফুটে কেউ কোনো কথা বলেনি। পরিচয়ের প্রথম দিন থেকেই আলাপ জমে ওঠে, আর সেই আলাপ যেন প্রতিদিনই একটু একটু করে গভীর থেকে গভীরতর হতে থাকে।
তিথি ছিল চুপচাপ আর শান্ত স্বভাবের, আর আরাফাত ছিল খানিকটা অগোছালো আর প্রফুল্ল। এই ভিন্নতা সত্ত্বেও তিথির মনে আরাফাতের উপস্থিতি এক নির্ভরতার প্রতীক হয়ে ওঠে। ধীরে ধীরে তিথি তার স্বপ্ন, ভয়, আর ছোট ছোট কষ্টের কথাগুলো আরাফাতের সাথে ভাগাভাগি করতে শুরু করে। আর আরাফাতের কাছে তিথি হয়ে ওঠে সেসব মনের কথা শোনার নিঃশব্দ আশ্রয়। প্রতিদিনের হাসি, আনন্দ আর হৃদয়ের মর্মস্পর্শী কথাগুলো যেন তাদের জীবনের জটিলতাগুলো সরিয়ে এক আলাদা জগত তৈরি করেছিল।
একদিন গোধূলির আলোয় সমুদ্রের ধারে বসে আরাফাত হঠাৎ তিথির দিকে গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে মৃদু স্বরে বলে, "তুমি কি জানো, তোমার মতো করে কাউকে কখনো ভালোবাসিনি? জীবনটা যতই কঠিন হোক, আমি চাই তোমার পাশে থাকতে।" কথাটা শুনে তিথির চোখে জল আসে; তবে তা ছিল আনন্দের। সেই সন্ধ্যাটা তাদের জীবনের জন্য এক চিরস্থায়ী প্রতিশ্রুতির রূপ নেয়।
কিছুদিন পর তারা বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়। কিন্তু জীবনের পথটা সহজ ছিল না। আরাফাতের চাকরির কারণে তাদের প্রায়ই শহর বদলাতে হতো, আর তিথির জন্য এসব পরিবর্তন মানিয়ে নেওয়া সহজ ছিল না। নতুন শহর, নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে গিয়ে তিথির মন ভেঙে যেত, কিন্তু আরাফাতের ভালোবাসা আর সান্ত্বনা তাকে আবার নতুন করে এগিয়ে যেতে শক্তি দিত।
তাদের দাম্পত্য জীবনে একদিন বড় একটি ধাক্কা আসে, যখন আরাফাতের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট ব্যর্থ হয়ে যায়। আরাফাত নিজের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে হতাশায় ডুবে যায়। চাকরি হারানোর আশঙ্কায়, অর্থনৈতিক চাপ ও মানসিক কষ্টের ভারে সে প্রায় ভেঙে পড়ে। তিথি সেই কঠিন সময়ে ধৈর্য্য হারায়নি। বরং তাকে প্রতিনিয়ত সান্ত্বনা দিয়ে নিজের আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধারে সাহায্য করে। সে আরাফাতকে বলেছিল, “সবকিছু হারিয়েও আমরা একে অন্যকে পাই। জীবন শুধু সফলতা দিয়ে বিচার হয় না। তুমি আবার উঠে দাঁড়াও।”
তিথির সেই কথাগুলো আরাফাতের মনের গভীরে গিয়ে লেগেছিল। ধীরে ধীরে সে আবার কাজের প্রতি মনোযোগ দেয়, আর তিথির সমর্থনে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যায়। তাদের জীবনে সব বাধা পেরিয়ে তারা বুঝেছিল, প্রতিটি পরীক্ষাই তাদের ভালোবাসাকে আরও দৃঢ় করেছে।
তারা একে অন্যের মাঝে আশ্রয় খুঁজে পেয়েছিল। জীবনের পথে যত বাধাই আসুক না কেন, একসঙ্গে সেই বাধা জয় করে আগামীর পথে এগিয়ে যাওয়ার সংকল্পে অটল ছিল। তাদের ভালোবাসা একে অন্যের শক্তি ও ভরসার শিকড় হয়ে উঠেছিল—একটা আশ্রয়, যেখানে বেদনা, হতাশা, আর আত্মবিশ্বাস মিলে তাদের সম্পর্ককে পূর্ণতা দিয়েছিল।
(
দেশের গল্প-দশের গল্প/জীবনের গল্প-যৌবনের গল্প ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত)
👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পোস্টগুলো ফেসবুক এবং ইমেইল থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]
No comments