এটি সিরিয়ার শরণার্থী ২ বছরের শিশু আয়লান কুর্দির ছবি। মনে আছে? যাকে যুদ্ধ আর নিষ্ঠুরতার বলি হতে হয়েছিল। তুরস্কের উপকূলে ধুয়ে আসা তার নিথর দেহের ছবি সারা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ছবিটি যেন বিশ্ব কূটনীতিকদের জড়তাকে চ্যালেঞ্জ ও নিন্দা জানাচ্ছে। বড় বড় আলোচনা আর নীতিগত কথার মাঝে শিশুটির উপস্থিতি যেন সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে:
আপনারা কবে জেগে উঠবেন? কবে বন্ধ হবে যুদ্ধ আর নিরীহ প্রাণের ঝরাপড়া? এই নিঃসঙ্গ দেহ কেবল এক শিশুর মৃত্যু নয়, এটি মানবতার বিবেকের মৃত্যু।
এটি স্মরণ করিয়ে দেয় যে প্রতিটি শিশুর জীবন অমূল্য, প্রতিটি অস্বাভাবিক মৃত্যু একটি ব্যর্থতার প্রমাণ। এই প্রতীকী চিত্র আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের উদ্দেশে একটি করুণ আবেদন—একটি প্রার্থনা, একটি বিচার। যুদ্ধ থামানোর, শিশুদের জীবন রক্ষার এখনই সময়। আলানের ছবিটি ২০১৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর ভূমধ্যসাগরে ডুবে মৃত্যুর পর আন্তর্জাতিক শিরোনামে জায়গা করে নেয়। সেই দুর্ঘটনায় তার মা ও ভাইও মারা যান। তারা সিরীয় শরণার্থী ছিলেন এবং ইউরোপীয় শরণার্থী সংকটের মধ্যে তুরস্ক থেকে যাত্রা করেছিলেন। তুর্কি সাংবাদিক নিলুফার দেমির তার দেহের ছবি ধারণ করেন, যা দ্রুত ভাইরাল হয় এবং আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। তার এই মর্মান্তিক মৃত্যু ও বৃহত্তর শরণার্থী সংকট ২০১৫ সালের কানাডার ফেডারেল নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছিল।
‘আমার সন্তানেরা ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর শিশু।
ওরা প্রতিদিন আমার ঘুম ভাঙাত। খেলা করত আমার সঙ্গে। এর চেয়ে সুন্দর মুহূর্ত আর কী হতে পারে? এ সবকিছুই হারিয়ে গেছে।’ শোকার্ত এই উচ্চারণ সিরীয় শিশু আয়লান কুর্দির বাবা আবদুল্লাহ কুর্দির। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হারানোর পর আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন তিনি। মূলত <b>নিশ্চল, নিস্পন্দ অনড়</b> শিশু আয়লান ঘুম ভাঙাল সারা বিশ্বের। আন্তর্জাতিক সম্মেলনের গম্ভীর পরিবেশের মাঝখানে শুয়ে থেকে
আয়লান যেন মানবতার শোচনীয় অবস্থার কথা জানান দিচ্ছে। ছবিটি এক অসহনীয় বাস্তবতার প্রতীক।"
👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পোস্টগুলো ফেসবুক এবং ইমেইল থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]
No comments