• সাম্প্রতিক

    "অতল বিশ্বাসের শেষ অধ্যায়"

    ১৯১২ সালের ১০ এপ্রিল, বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং বিলাসবহুল জাহাজ
     টাইটানিক সাউদাম্পটন থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। এটিকে সেই সময়ের সবচেয়ে আধুনিক ও নিরাপদ জাহাজ বলে দাবি করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, এই জাহাজ “অডুবনযোগ্য,” অর্থাৎ কোনোভাবেই এটি ডুবে যেতে পারে না। কিন্তু সেই আত্মবিশ্বাসই পরিণত হয়েছিল পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম মর্মান্তিক ঘটনায়।
    টাইটানিকের যাত্রা:
    টাইটানিকে ছিল প্রথম শ্রেণীর ব্যবসায়ী, ধনী সমাজপতিরা থেকে শুরু করে হাজারো অভিবাসী, যারা জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছিল। ২,২০০ জন যাত্রী এবং ক্রু সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল জাহাজটি। এর বিলাসবহুল কক্ষ, বিশাল ডাইনিং হল, সুইমিং পুল, এবং উচ্চমানের পরিষেবার জন্য এটি পরিচিত ছিল।
    ট্র্যাজেডির শুরু:
    ১৪ এপ্রিল ১৯১২, যাত্রার চতুর্থ দিন। রাত ১১:৪০ মিনিটে, উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে জাহাজটি একটি বিশাল আইসবার্গের (বরফখণ্ড) সাথে ধাক্কা খায়। ধাক্কার ফলে জাহাজটির নিচের পাঁচটি চেম্বার একসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সৃষ্টিকর্তার প্রতি অবিশ্বাস্য আত্মবিশ্বাসে ভর করে টাইটানিকের নির্মাতারা কখনোই ভাবেনি যে এত বড় বরফখণ্ডের ধাক্কা তাদের অডুবনযোগ্য জাহাজকে তলিয়ে দেবে।
    ত্রাণের অভাব:
    টাইটানিকে মাত্র ২০টি লাইফবোট ছিল, যা প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। অনেকেই জীবনরক্ষার জন্য লাইফবোটে উঠতে পারেননি। লাইফবোটগুলো প্রথমে সঠিকভাবে পূর্ণ করা হয়নি, ফলে অনেক লাইফবোট খালি অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হয়। এই সময়, ক্যাপ্টেন স্মিথ এবং ক্রুদের নেতৃত্বের অভাব এবং অব্যবস্থাপনা পুরো পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।
    মানুষের লড়াই:
    যাত্রীরা তখন দুই ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছিল। একদল নিরাপদে লাইফবোটে ওঠার চেষ্টা করছিল, আরেকদল জাহাজের শেষ মুহূর্তে তাদের প্রিয়জনের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। রাত ২:২০ মিনিটে, মাত্র দুই ঘণ্টা ৪০ মিনিটের মধ্যে, জাহাজটি সম্পূর্ণভাবে ডুবে যায়। বরফশীতল আটলান্টিক মহাসাগরের পানিতে হাজারো মানুষ হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রায় বাঁচার চেষ্টা করছিল।
    পরিণতি:
    এই দুর্ঘটনায় ১,৫০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারায়। এটি মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ সমুদ্র দুর্ঘটনাগুলোর একটি। পরবর্তী কয়েকদিনে উদ্ধারকারী দল মাত্র ৭০০ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
    মর্মস্পর্শী প্রভাব:
    টাইটানিকের ডুবে যাওয়া শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি আধুনিক প্রযুক্তি, আত্মবিশ্বাস এবং মানবতার সীমাবদ্ধতার একটি করুণ উদাহরণ। এই ঘটনা সমগ্র বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিল এবং সাগরযাত্রার নিরাপত্তা আইনগুলিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে বাধ্য করেছিল।
    টাইটানিকের ঘটনা আজও মানুষের মনে দাগ কেটে রয়েছে—একটি শোকাবহ স্মৃতি এবং শিক্ষার প্রতীক হিসেবে।
    সোর্সঃ উইকিপিডিয়া
    (ফেসবুকের গল্প-Facebooker Golpo-ফেসবুক গ্রুপ থেকে সংগৃহীত)  


    👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পোস্টগুলো ফেসবুক এবং ইমেইল থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]

    No comments

    Post Top Ad

    ad728

    Post Bottom Ad

    ad728

    আমরা আপনাকে বিনামূল্যে আমাদের আপডেট গুলি পাঠাতে যাচ্ছি। প্রথমে আপনার অনুলিপি সংগ্রহ করতে, আমাদের মেইলিং তালিকায় যোগ দিন। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, অকেজো তথ্য প্রেরণ করে আপনাকে বিরক্ত করবো না। সুতরাং কোনও আপডেট মিস করবেন না, সংযুক্ত থাকুন!