এক টুকরো রোদ্দুর-
মুনতাহার বাবা শামীম আহমদ শুরু করেছিলেন নিঃস্ব একটি সন্ধানযাত্রা। কোনো খবর নেই, কোনো সাড়া নেই। মেয়ে যেন হঠাৎ করে এক গভীর অন্ধকারে মিশে গেছে। তবু বাবার মনের কোথাও একটা আশা ছিল—মুনতাহা ফিরবে, তাকে হয়তো কেউ ভুল করে নিয়ে গেছে, হয়তো ফিরে আসবে তার মেয়ের নিষ্পাপ মুখ।
কিন্তু পরিণতি এভাবে নির্মম হবে, তা কেউ ভাবেনি। এক রাত গভীর কুয়াশার ভেতর মুনতাহার ঠান্ডা, নিষ্প্রাণ দেহ খুঁজে পাওয়া গেল একটি পুকুর পাড়ে। কাদামাটির আড়ালে লুকিয়ে রাখা ছিল মুনতাহার হাসিখুশি মুখ, যার গলায় প্যাঁচানো ছিল এক মরণজাল। মুনতাহার শরীরে লেগে থাকা কাদা যেন প্রতিটি মানবিক অনুভূতিকে বিষাদে ভরে তুলছিল। তার ছোট্ট, নিষ্পাপ শরীর যখন মাটিতে শুয়ে থাকল, গ্রামের আকাশ তখন ভারী হয়ে ওঠে অব্যক্ত এক বিষাদে।
এই নিষ্ঠুরতার পেছনে ছিল সেই শামিমা নামের এক গৃহশিক্ষিকা, যিনি শূন্যতার প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিল নিষ্পাপ একটি শিশুর ওপর। শামিমার কাছে মুনতাহাকে আর পড়তে পাঠানো হয়নি, আর সেই আঘাতেই তার মনের অন্ধকারে পুঞ্জীভূত হয় প্রতিহিংসা। অবশেষে, শামিমা ও তার মা আলিফজান মুনতাহার সেই নিষ্পাপ অস্তিত্বকে হত্যা করে লুকিয়ে রাখতে চেয়েছিল কাদার নিচে।
গ্রামের প্রতিটি মানুষ এই খবর শুনে স্তম্ভিত। কেউ বিশ্বাস করতে পারছিল না, একটি নিষ্পাপ মুখের জন্য এমন নির্মম পরিণতি অপেক্ষা করে। যে শিশুটির নিষ্পাপ হাসিতে একদিন গ্রাম ভরে উঠত, আজ তার মৃত্যুর রেশে সেখানকার প্রতিটি দেহে বয়ে গেছে এক অশ্রুময় শোকের ঢেউ। মুনতাহার স্মৃতি যেন একটি পাথরের মতো থেকে গেল সবার মনে, তার সেই অপূরণীয় শূন্যতা হয়তো কখনোই পূর্ণ হবে না।
👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পোস্টগুলো ফেসবুক এবং ইমেইল থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]

No comments