আউটসোর্সিং (Outsourcing) কি?
আউটসোর্সিং (Outsourcing) একটি কৌশল যেখানে একটি প্রতিষ্ঠান তার অভ্যন্তরীণ কাজ বা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য তৃতীয় পক্ষের প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেয়। এটি উৎপাদন খরচ কমানো, দক্ষতা বাড়ানো, এবং ব্যবসার উপর থেকে অতিরিক্ত চাপ কমাতে সাহায্য করে। বর্তমানে আউটসোর্সিং ব্যবসা পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে প্রযুক্তি, কল সেন্টার, মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা, এবং আইটি সেবা ক্ষেত্রে।
#আউটসোর্সিং-এর প্রকারভেদ:
১. অফশোরিং (Offshoring): যখন কোনো কোম্পানি তার কাজ দূরবর্তী দেশের সেবা প্রদানকারীকে দিয়ে করায়। উদাহরণস্বরূপ, অনেক কোম্পানি ভারত বা ফিলিপাইনের মতো দেশে তাদের কল সেন্টার আউটসোর্স করে।
২. নিয়ারশোরিং (Nearshoring): যখন কাজ বা সেবা আউটসোর্স করা হয়, কিন্তু একই অঞ্চলের বা কাছাকাছি দেশের কোনো প্রতিষ্ঠানকে। এটি সাধারণত যোগাযোগ ও পরিচালনার সুবিধার্থে করা হয়।
৩. অনশোরিং (Onshoring): যখন কোনো দেশ বা অঞ্চলের অভ্যন্তরে কাজ আউটসোর্স করা হয়। এটি দেশীয় কোম্পানিগুলোর মধ্যে চুক্তির মাধ্যমে করা হয়, যেমন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কোম্পানি কাজ আউটসোর্স করে সেই দেশের অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে।
#আউটসোর্সিং এর সুবিধাসমূহ:
১. **খরচ সাশ্রয়**: আউটসোর্সিংয়ের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো উৎপাদন খরচ কমানো। শ্রমিকের বেতন, ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং অন্যান্য অপারেশনাল খরচ কমে যায়। বিশেষ করে উন্নত দেশগুলোর কোম্পানিগুলো সাধারণত কম খরচে দক্ষ জনবল পাওয়ার জন্য কম শ্রম ব্যয়ের দেশগুলোতে আউটসোর্স করে থাকে।
২. দক্ষতা এবং মানের উন্নতি: বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানগুলোকে আউটসোর্স করার মাধ্যমে কোম্পানিগুলো উচ্চমানের সেবা পায়, কারণ তৃতীয় পক্ষের প্রতিষ্ঠানগুলো নির্দিষ্ট সেবা প্রদানে দক্ষ হয় এবং তাদের প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নত থাকে।
৩. সময় এবং সম্পদ বাঁচানো: প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের অ-কোর কার্যক্রম আউটসোর্স করে মূল ব্যবসায়িক কাজে মনোনিবেশ করতে পারে। যেমন, প্রোডাকশন ও ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানিগুলো মানব সম্পদ বা গ্রাহক সেবা আউটসোর্স করে মূল উৎপাদন কার্যক্রমে মনোযোগ দেয়।
৪. ঝুঁকি কমানো: আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে একটি কোম্পানি প্রযুক্তি, নিরাপত্তা, এবং বাজারের পরিবর্তনের ঝুঁকি কমাতে পারে, কারণ তৃতীয় পক্ষের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ওই ক্ষেত্রগুলোতে সুরক্ষা এবং মান নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়।
#চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকি:
১. গোপনীয়তার ঝুঁকি: আউটসোর্সিংয়ের সময় কোম্পানির অভ্যন্তরীণ তথ্য ও গোপনীয়তা তৃতীয় পক্ষের হাতে চলে যেতে পারে, যা সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না হলে নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
২. **মান নিয়ন্ত্রণের সমস্যা**: আউটসোর্সিংয়ের সময় কাজের মান নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যবেক্ষণ করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। সঠিক সমন্বয় ও নিয়মিত ফিডব্যাকের অভাবে কাজের মানের ক্ষতি হতে পারে।
৩. যোগাযোগের অসুবিধা: যদি আউটসোর্সিং দূরবর্তী দেশে করা হয়, ভাষা, সময় অঞ্চল এবং সংস্কৃতিগত পার্থক্যজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসব সমস্যার কারণে যোগাযোগ বিঘ্নিত হতে পারে, যা কাজের মান ও সময়সীমার উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
#আউটসোর্সিং এর উদাহরণ:
১. **প্রযুক্তি খাতে আউটসোর্সিং**: বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো, যেমন Microsoft, IBM, এবং Google, অনেক ক্ষেত্রে তাদের সফটওয়্যার উন্নয়ন, টেক সাপোর্ট এবং ক্লায়েন্ট ম্যানেজমেন্ট কার্যক্রম আউটসোর্স করে। তারা উন্নত দক্ষতা এবং কম খরচে কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য ভারত বা পূর্ব ইউরোপের মতো দেশগুলোতে আউটসোর্স করে।
২. প্রোডাকশন ও ম্যানুফ্যাকচারিং আউটসোর্সিং: বিশ্বব্যাপী বড় বড় ব্র্যান্ড যেমন Nike, Adidas, Apple, তাদের পণ্য উৎপাদন প্রক্রিয়া এশিয়ার বিভিন্ন দেশে আউটসোর্স করে, যেখানে উৎপাদন খরচ তুলনামূলকভাবে কম।
#আউটসোর্সিং-এর ভবিষ্যৎ:
বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং বিশ্বায়নের ফলে আউটসোর্সিং-এর গুরুত্ব ক্রমবর্ধমান। এআই (Artificial Intelligence), অটোমেশন, এবং ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের অগ্রগতির কারণে কোম্পানিগুলো আরও বেশি করে আউটসোর্সিংয়ের দিকে ঝুঁকছে। ভবিষ্যতে কাজের গুণগত মান বজায় রেখে খরচ কমানোর জন্য আউটসোর্সিং একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে কাজ করবে।
-আলী ইউছুফ
( ফেসবুকের গল্প-Facebooker Golpo এর ফেসবুক আইডি থেকে সংগৃহীত)
👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পোস্টগুলো ফেসবুক এবং ইমেইল থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]
Subscribe to:
Post Comments
(
Atom
)
Post Top Ad
ফেসবুকের গল্প তে আপনাকে স্বাগত। এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কোনো লেখা বা মতামতের জন্য 'ফেসবুকের গল্প' কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।
Post Bottom Ad

No comments