একটি নতুন জীবনের সূচনা (পর্ব ২)
সায়রা কল্পনা করতে শুরু করে, যদি সে সেই বৃদ্ধের মতো হতে পারত! যদি তারও এমন করে কোনো জায়গায় যাওয়ার ইচ্ছে থাকত। কিন্তু তাকে মনে হয়, সেই বৃদ্ধের জীবনেও বেদনা লুকিয়ে আছে। বেদনা ছাড়া জীবন কি কখনো পূর্ণ হয়?
বিকালে, মা ফিরলে সায়রার কৌতূহল জাগে। মা যখন বাজারে যায়, সেখানকার মানুষজনের মধ্যে কিছু গল্প হয়। সায়রা জানতে চায়, “মা, আজ কি তোমার সঙ্গে কোনো interesting মানুষ দেখা হয়েছে?”
মা হাসে, “অ interesting? মানুষ তো একে অপরকে দেখেই কথা বলে। কিন্তু অনেকের জীবনের গল্প গোপন থাকে।”
সায়রা দৃষ্টিতে এক বিষণ্ণতা নিয়ে বলে, “আমি যেন কারো গল্প জানতেই পারি না।”
মা তার কাঁধে হাত রাখে, “সায়রা, তুমি গল্প খুঁজছো। হয়তো তোমার জীবনেই একদিন একটা গল্প তৈরি হবে। আর তখন, কেউ তোমার গল্প শুনবে।”
সায়রার মনে হয়, তার জীবন তো এখনই গল্প। বেদনাগুলো এমন গভীর, যে তারা কখনো থামবে না। কিন্তু তার মা’র কথা কি সত্যি? কি হতে পারে ভবিষ্যতে?
রাতে, সায়রা আবার বই খুলে। চরিত্রটি যেন তার বেদনার গল্প বলছে। প্রতিটি পাতা উল্টানোর সাথে সাথে, সে অনুভব করে—বেদনা কি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত? নয়তো আমরা সবাই কোনো না কোনো ভাবে একে অপরের সাথে জড়িত?
সায়রা সিদ্ধান্ত নেয়, সে বাইরের জগতের সাথে যুক্ত হবে। হয়তো তাকে কিছু মানুষ খুঁজে বের করতে হবে। তবুও, সে জানে—সেই মানুষেরা একদিন চলে যাবে। তার জীবনের গল্পে বেদনাই থাকবে।
রাতের অন্ধকারে, সায়রা একটি ছোট্ট নোটবুকে নিজের অনুভূতি লিখতে শুরু করে। লেখার মাধ্যমে সে যেন নিজের গল্প তৈরি করছে। হালকা এক আশার স্রোত যেন তার হৃদয়ে ভেসে উঠছে—একমাত্র লিখেই সে তার শূন্যতা পূরণ করতে পারবে।
আজকের দিনটি আবার শেষ। কিন্তু সে জানে, প্রতিটি দিন নতুন কিছু শিখিয়ে যাবে, একটুখানি হলেও।

No comments