একটি নতুন জীবনের সূচনা (পর্ব ৩)
বাড়ির অদূরে পার্কে গিয়ে বসে থাকার পরিকল্পনা করে। সায়রা জানে, এখানে এসে অন্যদের জীবন দেখে অন্তত একটুর জন্য হলেও নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করা যায়।
পার্কে গিয়ে দেখে, কিছু শিশু খেলছে। তাদের হট্টগোল তার মধ্যে হাসির স্রোত তৈরি করে। কিন্তু হঠাৎই তার মনে পড়ে, সে কখনো এমন খেলা খেলেনি। বরং, সবসময় নিরবচ্ছিন্ন একা।
একটি bench-এ বসে থাকা অবস্থায়, এক তরুণী পাশে এসে বসে। তরুণীর মুখে এক অদ্ভুত উচ্ছ্বাস। সায়রা একটু বিস্মিত হয়ে প্রশ্ন করে, “আপনি কি এখানে নিয়মিত আসেন?”
“হ্যাঁ, প্রতিদিন আসি। এই জায়গা আমার জন্য শান্তির,” তরুণী হাসতে হাসতে উত্তর দেয়।
সায়রা বুঝতে পারে, এই তরুণী জীবনের প্রতি আশাবাদী। “আপনার কি কোনো বিশেষ কাজ আছে?”
“আমি একজন চিত্রশিল্পী। এই পরিবেশ আমাকে অনুপ্রাণিত করে,” তরুণী বলল। “আপনার কি কোনো শখ আছে?”
সায়রা একটু থেমে যায়। “লিখতে ভালবাসি। কিন্তু… আমার লেখা খুব একটা বিশেষ নয়।”
“বিশেষত্বের তো কোনো মানে নেই। যা আপনি অনুভব করেন, সেটাই লেখার মূল। দিন দিন আপনার লেখা আপনার অভিজ্ঞতা প্রকাশ করবে।” তরুণীর কথায় এক নতুন আশা জাগে সায়রার মনে।
তাদের কথোপকথনে সময় কিভাবে চলে যায়, সায়রা বুঝতেই পারে না। তরুণী একসময় বিদায় নিলেও তার কথা সায়রার মনে গেঁথে থাকে।
বাড়ি ফিরে এসে, সায়রা সেই নোটবুকে তরুণীর কথাগুলো লিখতে শুরু করে। সে বুঝতে পারে, জীবনকে উপলব্ধি করতে হলে অন্যদের গল্প শুনতে হবে। বেদনাকে ভাগাভাগি করতে হবে।
রাতে, যখন তার পরিবার খাওয়ার জন্য বসে, সায়রা আজকালকার আলোচনায় অংশ নিতে চায়। সে পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞেস করে, “আপনারা কি কখনো নিজেদের গল্প বলেন?”
বাবা একটু বিরক্ত হয়ে বলে, “গল্পে কি হবে? আমাদের তো কাজেই ব্যস্ত থাকতে হয়।”
মা চুপ হয়ে থাকে, এবং ভাই ফোনের পর্দায় মনোযোগ দেয়। কিন্তু সায়রা হতাশ হয় না। সে জানে, আগামী দিনগুলোতে সে নিজেই গল্প তৈরি করবে।
আশা নিয়ে আজকের দিনটি শেষ হয়। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে, সে একদিন তাদেরকেও নিজের গল্প শুনাতে পারবে।

No comments