কুরআনের যে ১০ টি নেয়ামত থেকে বঞ্চিত !
আমাদের মন যেন একটি সজ্জিত উদ্যান। এখানে হেদায়াতের ফুল গাছ লাগানো দরকার। কিন্তু যদি আমরা পরিচর্যা না করি, আগাছা জন্মাবে। কুর’আন তিলাওয়াতের সময় যদি আমরা এর অর্থের দিকে নজর না দেই, তাহলে আমাদের মনের সৌন্দর্য হারিয়ে যাবে। এজন্য প্রয়োজন নিয়মিত চিন্তা-ভাবনা ও গভীর মনোযোগের।
কুর’আন পাঠের মূল উদ্দেশ্য হল আল্লাহর উপদেশ গ্রহণ, ইলম অর্জন, অন্তরের আরোগ্য, এবং আল্লাহর সাথে কথোপকথন। অর্থ বুঝতে না পারলে আমরা এ উদ্দেশ্যগুলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। কুর’আনের শিক্ষা আমাদের জীবনের সমস্যাগুলোর সমাধানে সাহায্য করতে পারে, যদি আমরা তা গ্রহণ করি।
সালাত ফরজ, কিন্তু অনেকেই অংশ নিতে পারে না কারণ আমাদের অন্তর রুগ্ন। কুর’আন পাঠ আমাদের অন্তরকে মজবুত ও সুস্থ রাখতে পারে। এটি আমাদের মানসিক শান্তি ও আত্মবিশ্বাস প্রদান করে। নিষেধাজ্ঞার দিকে নজর দিলে আমরা কেবল সঙ্কোচন অনুভব করি, কিন্তু হেদায়াত ও প্রেরণার দিকে নজর দিলে অন্তরে স্বস্তি আসবে।
কুর’আন ২৩ বছরে ধীরে ধীরে নাযিল হয়েছে। এর মাধ্যমে অন্তর দৃঢ়তা পাওয়া যায়। আল্লাহ বলেন, “সত্য প্রত্যাখানকারীরা বলে, তাঁর প্রতি সমগ্র কুর’আন একদফায় অবতীর্ণ হল না কেন? আমি এমনিভাবে অবতীর্ণ করেছি এবং ক্রমে ক্রমে আবৃত্তি করেছি আপনার অন্তকরণকে মজবুত করার জন্য।” (সূরা ফুরকান ৩২)
আল্লাহর রাসূল (সা) কুর’আনের আয়াত পড়ার সময় আল্লাহর সাথে কথা বলতেন। তিনি যখন এমন আয়াত পড়তেন যেখানে আল্লাহর প্রশংসা করা হয়েছে, তখন তিনি তাঁর প্রশংসা করতেন। (মুসলিম) আমাদেরও সালাতে আল্লাহর কথাগুলো বুঝে বলা উচিত, যাতে আমরা তাঁর সাথে একটি গভীর সংযোগ স্থাপন করতে পারি।
কুর’আন পাঠের মাধ্যমে সরাসরি আল্লাহর হেদায়াত পাওয়া যায়। আল্লাহ বলেন, “এবং যে আমার স্মরণ (কুর’আন) থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জীবিকা সংকীর্ণ হবে।” (সূরা ত্বহা ১২৪)
আল্লাহর সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে হলে নিয়মিত কুর’আন পড়া উচিত। এটি আমাদের আন্তরিকতা ও ভালোবাসা বৃদ্ধি করে। “আমি কোরআনে এমন বিষয় নাযিল করি যা রোগের সুচিকিৎসা এবং মুমিনের জন্য রহমত।” (সূরা ইসরা ৮২)
নবীর (সা) চরিত্র কুর’আনের শিক্ষার বাস্তবায়ন। তাঁর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের চরিত্র উন্নয়ন করা উচিত। আয়িশা (রা) বলেন, “কুর’আনই হল আল্লাহর রাসূল (সা) এর আখলাক।”
কুর’আন আমাদের জীবনকে অর্থবহ করে। এর শিক্ষা না পেলে আমরা এই দুনিয়ার প্রলোভনে পড়ে যাবো। আল্লাহ বলেন, “আমি আমার কাছে আপনাকে দান করেছি পড়ার গ্রন্থ। যে এ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, সে কেয়ামতের দিন বোঝা বহন করবে।” (সূরা ত্বহা ৯৯)
👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পোস্টগুলো ফেসবুক এবং ইমেইল থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]

No comments