একটি নতুন জীবনের সূচনা (পর্ব ৪)
বিকেল হতে না হতেই, সায়রা বেরিয়ে পড়ে। পার্কে পৌঁছে, দেখে মানুষজন একইরকম করে বসে আছে। শিশুদের খেলাধুলা চলছে, কিন্তু সে এবার নিজের কাছে কোনো চিন্তা নিয়ে এসেছে।
সায়রা একটু দূরে বসে থাকে। কিছুক্ষণ পর, সেই তরুণী আবার আসে। “আহা! আপনিই!” তরুণী খুশি হয়ে বলে।
“আমি আবার এসেছি। কিন্তু কিছু লেখার প্ল্যান ছিল।” সায়রা কিছুটা লজ্জা পায়।
“লেখা? কী নিয়ে লিখছেন?” তরুণী জিজ্ঞেস করে।
সায়রা কিছুটা ভাবনা করে বলল, “আমি আসলে আমার অনুভূতিগুলোকে লেখার চেষ্টা করছি। কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হয়, কিছুটা অপ্রাসঙ্গিক।”
তরুণী হাসল, “আপনার অনুভূতি নিয়ে চিন্তা করার কোনো দরকার নেই। সেগুলোই আপনার গল্প তৈরি করবে। আসুন, আমি আপনাকে কিছু কৌশল শেখাই।”
সায়রা আনন্দিত। তারা পার্কের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে ঘুরতে কথা বলে। তরুণী তাকে দেখায় কিভাবে তার চারপাশের সৌন্দর্যকে শিল্পে রূপ দিতে হয়। সায়রার মনে হয়, তার বেদনা এবং আনন্দ—দুটি একসাথে আসলে শিল্পের অংশ।
তারা গল্প করতে করতে সায়রার কাছে আসা এক বৃদ্ধকে দেখে। বৃদ্ধটি একটি পিপঁজা হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ বসে থাকে। সায়রা ভাবতে থাকে, “এই মানুষটির জীবন কেমন হতে পারে?”
“চলুন, তাকে জিজ্ঞেস করি। হয়তো তিনি তার গল্প শেয়ার করতে চান,” তরুণী প্রস্তাব করে।
সায়রা একটু সংকোচে ভরে যায়। কিন্তু সে জানে, এই সুযোগটি তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তারা বৃদ্ধের কাছে যায়। “বাবা, আপনি কি আমাদের কিছু আপনার গল্প বলতে পারেন?” তরুণী বিনয়ের সাথে জিজ্ঞেস করে।
বৃদ্ধ হেসে বলেন, “জীবন তো একেকটি গল্প। আমি নাতিদের সঙ্গে গল্প বলি, কিন্তু তোমাদের সঙ্গে শেয়ার করতে পেরে ভালো লাগছে।”
বৃদ্ধের কথায় সায়রা যেন এক নতুন দিগন্ত পায়। তার জীবনযাত্রা, ভালোবাসা, এবং বেদনা শুনে সায়রার মনে নতুন কাহিনী জন্ম নেয়।
বিকেলের আলো কমতে শুরু করে। সায়রা উপলব্ধি করে, অন্যের গল্প শুনে তার নিজের কষ্ট কিছুটা কমে গেছে। সে নিজের অনুভূতিকে স্পষ্টভাবে লেখার জন্য অনুপ্রাণিত হয়েছে।
ঘরে ফিরে এসে, সায়রা মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে—আজকের দিনটি তার নতুন গল্পের সূচনা। প্রতিটি মানুষের জীবনে একটি গল্প থাকে, আর সায়রা তা খুঁজে বের করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
( ইমেইল থেকে পাওয়া )

No comments