বাংলাদেশের একমাত্র জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইটের নাম তো আপনি অবশ্যই জানেন। বঙ্গবন্ধু-১। কিন্তু আপনি জানেন কি, যে বাংলাদেশ এই স্যাটেলাইট নিজেদের প্রাপ্য অরবিটালে বসাতে পারেনি? কেন পারেনি? আন্দাজ করুনতো?
কারণটা হল, ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিট এর কাছে আপত্তি জানিয়েছিল বাংলাদেশের এক বন্ধু রাষ্ট্র। কেন আপত্তি জানিয়েছিল? বিকজ, একই অরবিটালে স্থাপন করা আছে তাদের একটা কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট।
আমার কথা বিশ্বাস করার দরকার নাই। এক কাজ করেন। গুগল'এ গিয়ে টাইপ করেন ইন দ্য স্কাই ডট ওআরজি। এই ওয়েবসাইটে আপনি এখন পর্যন্ত পৃথিবীর কক্ষপথে স্থাপিত এবং এই মুহুর্তে প্রদক্ষিণরত মোট সাত হাজার সাতশ স্যাটেলাইটের সবগুলো দেখতে পারবেন।
সঠিক অপশনটা সিলেক্ট করে বাকিগুলো আনসিলেক্ট করলে মোট ৬০০ জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইট এর সবগুলো দেখতে পাবেন। খেয়াল করবেন এধরনের স্যাটেলাইটগুলোর প্রায় সবগুলোই পৃথিবীর বিষুবরেখা বরাবর অঞ্চলে মোটামুটি ৩৫,৭৮৬ কিমি এর একই অল্টিটি উডে অবস্থিত।
তাহলে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটটি নিশ্চয়ই থাকার কথা বাংলাদেশের নিকটবর্তী বিষুবরেখার উপড়ে। কিন্তু সেটি কোথায় আছে তা সার্চ করলে দেখতে পাবেন, আমাদের এই একমাত্র নিজস্ব উপগ্রহটি অবস্থান করছে ইন্দোনেশিয়া'র বিষুবরেখায়, বাংলাদেশ থেকে বহুদূরে।
তাহলে বাংলাদেশের স্যাটেলাইট বাংলাদেশের কাছাকাছি বিষুবরেখা'র অরবিটালে জায়গা হলনা কেন? এর উত্তর জানতে হলে GSAT-17 নামের আরেকটা স্যাটেলাইট খুঁজুন এবং দেখুন এটি যেই জায়গায় বসে আছে সেখানেই থাকার কথা ছিল আপনার আমার বঙ্গবন্ধু-১।
ভাবছেন এই GSAT-17 এর মালিক কে? জ্বী, আমাদের সেই বন্ধুরাষ্ট্র।
এই হল বন্ধু রাষ্ট্রের বন্ধু সুলভ আচরণ। যৌথ নদী থেকে প্রাপ্য পানির ন্যায্য হিস্যাতো দিবেইনা, এক ইঞ্চি জায়গা ছাড়বেনা বিশাল মহাশূন্যেও।
আর বাংলাদেশ সরকার যে কখনোই বন্ধু রাষ্ট্রের স্বার্থ বিরোধী কিছু বলবে না, সেতো জানা কথাই।
কিন্তু আমি চুপ থাকিনি। কার্বন ডিসক্লোজার প্রজেক্টে দেখা হয়েছিল পৃথিবীকে মোট ২০০০ বারের বেশী প্রদক্ষিণ করে ১৪৩ দিন মহাশূন্যে কাটিয়ে আসা নাসা’র অ্যাস্ট্রোনট Jerry Linenger এর সাথে। আমি তার কাছে ঠিকই এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে এসেছি।
NASA'র কাছে আমার এই অভিযোগ যেহেতু বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে নয়, বরং আপনাদের মত সাধারণ জনগণের তরফ থেকে, তাই এই আনঅফিশিয়াল কমপ্লেইনে কাজ হবে কিনা সেটা বড় কথা নয়, আওয়াজ তোলাটাই আসল।
আপনি অবাক হয়ে খেয়াল করবেন, বাংলাদেশে এই বিষয়ে একটা আলোচনাও নেই। মহাকাশ গবেষণার জন্য বাংলাদেশে নামমাত্র যে প্রতিষ্ঠান আছে সেই SPARRSO বা Space Research and Remote Sensing Organization এই বিষয়ে জানেও কিনা সন্দেহ। কৃষি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি দিয়ে পরিচালিত SPARRSO এর ওয়েবসাইটে গেলে দেখা যায়, স্বাধীনতার সুবর্নজয়ন্তী উদযাপন ও মুজিব বর্ষ পালন ছাড়া এদের অন্য কোন কাজ নেই।
দেখুন Bangladesh Satellite Company Limited এর চেয়ারম্যান কি বলছেন। আশ্চর্য হয়ে গেলাম কথাটা শুনে। উনি জানেনইনা যে জিওষ্টেশনারী স্যাটেলাইট বা ভূসমলয় উপগ্রহ পৃথিবীর আবর্তন গতির সাথে সমান গতিতে পৃথিবীর চারিদিকে পরিক্রমণ করে বলে এটি আসলে পৃথিবীর একটি নির্দিষ্ট স্থানের উপর স্থির থাকে। সে কখনোই পৃথিবীর উপড়ে ঘুরে ঘুরে সমস্ত জিনিষ পর্যবেক্ষণ করবে না।
শেয়ার করতে পারেন যদি মনে করেন, সরকারের-না-বলা-কথাগুলো আপনাদের হয়ে বিশ্ব দরবারে আমার এভাবে নিয়মিত বলে যাওয়ায় আপনাদের সমর্থন আছে।
(এর ফেসবুক আইডি থেকে সংগৃহীত)
Join our Facebook group
👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পোস্টগুলো ফেসবুক এবং ইমেইল থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]
No comments