• সাম্প্রতিক

    মলি আন্টি ও উকিল সাহেবের খেলা

    এক উকিল হাইওয়ে বাসে মলি আন্টির পাশের সিটে বসলেন।
    মলি আন্টির শকলের সুষমা আর তনুর তনিমা দেখে উকিল মশাই বড়ই আমোদিত হলেন। ছুতো খুঁজতে থাকলেন তার সাথে কথা বলার জন্য।
     
    “আচ্ছা ম্যাডাম” বললেন উকিল। “আপনি মনে হয় বেশ বোর হয়ে আছেন। চলেন একটা খেলা খেলি। খেলাটা খুব দারুণ।”

    মলি আন্টি বেশ একটা পাত্তা না দিয়ে জানালার কাঁচের দিকে উপর মুখ গুঁজে নির্বিকার পড়ে রইলেন।

    “দেখুন ম্যাডাম।”, বললেন উকিলটা। “আপনি হয়তো আমাকে মিনসে ভাবছেন। আমি আবারও বলছি, খেলাটা কিন্তু বেশ মজার। আমি আপনাকে একটা প্রশ্ন করবো, তারপর আপনি পাল্টা একটা করবেন, এভাবে।”  

    মলি আন্টি এবারও নিরুত্তর। তিনি জানালার কাঁচের দিকে মুখ গুঁজে ঠায় বসে রইলেন।

    উকিল বললেন, “ঠিক আছে। প্রথমে আমি আপনাকে একটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করব। আপনি যদি উত্তর দিতে না পারেন তবে আপনি আমাকে পাঁচ (৫) টাকা দেবেন। তারপর আপনি প্রশ্ন করবেন, আর যদি আমি উত্তর দিতে নাপারি তাহলে আমি আপনাকে দেব পাঁচশো (৫০০) টাকা।    

    মলি আন্টি এবার হুড়মুড়িয়ে উঠে পড়লেন। “আচ্ছা ঠিক আছে, ঠিক আছে। আপনার প্রশ্নটা কি শুনি?”, বললেন মলি আন্টি।   

    উকিল সাহবে বললেন, “বলুন তো দেখি, পোস্তগলা থেকে মগবাজারের দূরত্ব কত?”

    মলি আন্টি এতিমের মত তাকিয়ে থাকলেন কতক্ষণ। তারপর নিজের পার্স থেকে একটা ময়লাটে পাঁচ টাকার নোট বের করে দিলেন।

    “এবার আমার পালা, তাইতো?” বললেন মলি আন্টি। “আচ্ছা বলেনতো দেখি, কোন জিনিসটা পাহাড়ে উঠে তিন পা দিয়ে আর নেমে আসে চার পা দিয়ে।”     

    প্রশ্ন শুনে উকিল মশাইয়ের মাথায় যেন বাজ পড়লো। প্রথমে তিনি অনেক চিন্তাভাবনা করলেন কিন্তু কোনো উত্তর বের করতে পারলেননা। পরে মোবাইলে পণ্ডিত পুঙ্গব বন্ধুদের ফোন দিলেন। তাদের কেউ কোনো সমাধান দিতে পারলো না। তারপর নিজের ল্যাপটপে সংরক্ষিত বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ঘাটাঘাটি করলেন। কিন্তু জবাব মিললো না। এরপর উকিল সাহেব পকেট থেকে মোডেম ডিভাইস বের করে ইন্টারনেটে অনেক্ষণ ধরে গুগল (Google) চষে বেড়ালেন। খোদ গুগল-ও নিরুত্তর। এভাবে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রায় ঘন্টাখানেক উত্তরটা বিচড়ে দেখলেন তিনি। ততক্ষণে মলি আন্টি ঝিমুচ্ছেন। উকিল মশাই তাঁকে একটা চকচকে পাঁচশো (৫০০) টাকার নোট বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, “ম্যাডাম, এমন কঠিন প্রশ্নতো আমি এই জীবনেও শুনিনাই।”                   

    মলি আন্টি উকিল মশায়ের হাত থেকে পাঁচশ নোটটা  নিয়ে পার্সে ঢুকিয়ে চেইন লাগিয়ে দিলেন।

    কিন্তু ম্যাডাম…! সবিনয়ে বললেন উকিল, এই প্রশ্নের উত্তরটা কি?  

    মলি আন্টি তার পার্সটা আবারো খুললেন। আরেকটা পাঁচ (৫) টাকার নোট উকিলটাকে গছিয়ে দিয়ে পার্সের চেইন এঁটে ফের ঝিমুতে শুরু করলেন... 
     
    সংগৃহীত

    Ali Yousuf এর ফেসবুক টাইমলাইন থেকে সংগৃহীত)



    👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পোস্টগুলো ফেসবুক এবং ইমেইল থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]

    No comments

    Post Top Ad

    ad728

    Post Bottom Ad

    ad728

    আমরা আপনাকে বিনামূল্যে আমাদের আপডেট গুলি পাঠাতে যাচ্ছি। প্রথমে আপনার অনুলিপি সংগ্রহ করতে, আমাদের মেইলিং তালিকায় যোগ দিন। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, অকেজো তথ্য প্রেরণ করে আপনাকে বিরক্ত করবো না। সুতরাং কোনও আপডেট মিস করবেন না, সংযুক্ত থাকুন!