• সাম্প্রতিক

    এক সুপরিচ্ছন্ন জীবন - আব্বাস আলী খান

    “নামাযের জন্য কারো পারমিশনের দরকার নেই মশাই। আমি রোজ ১ টার সময় নামাযের জন্য বেরিয়ে যাবোই। আপনি বরং লিখিত অর্ডার দিয়ে বন্ধ করে দিন। দেখবো আপনার মুরোদ খান।”
    ১৯৩৫ সাল। দুর্লভ সরকারী চাকুরী। বড় সাবের হুকুম-অফিস থেকে নামাযের জন্য যাওয়া যাবে না। বসের রক্ত চক্ষু উপক্ষো করেও জামায়াতে নামায পড়তে গিয়েছেন। এক পর্যায়ে বসের কড়াকড়িতে চাকুরী ছেড়ে দেন। কিন্তু নামায ছাড়েননি।
    চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের গেষ্ট রুম। গভীর রাত-আনুমানিক ৩টা তখন। হঠাৎ পাশের ঘরে থেকে শুনা গেলো, “রাব্বি জিদনী ইলমা” “ইয়া আইয়াতুহান্নাফসুল মুত্বমাইন্না ইরজিয়ী ইলা রাব্বিকি রাদিয়াতাম মারদিয়া, ফাদখুলি ফী ইবা-দি ওয়াদ খুলি জান্নাতি”।
    পাশে শায়িত ইমাম সাহেব জেগে উঠলেন। তিনি উঁকি মেরে দেখলেন এক মর্দে মুজাহিদ আল্লাহর গভীর ধ্যানে নিমগ্ন। দিনের বেলা আনুমানিক বিকাল ৫টা। হঠাৎ রুমে ঢুকলেন একজন। রুমে ঢুকেই দেখলেন- তিনি তাফহীমুল কুরআন পড়ছেন আর তাঁর চোখ দিয়ে পানি ঝরছে।
    ১০ বছর একাধারে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন তদানীন্তন মহকুমা শহরের হাইস্কুলে। ডাক এলো আল্লাহর দ্বীন কায়েমের জন্য, মানুষকে আহবান জানানোর কাজে বড় দায়িত্ব পালন করতে হবে। হ্যাঁ, যেমনি হুকুম তেমনি কাজ-সাথে সাথেই চাকুরী ছাড়লেন। রাজশাহী বিভাগীয় আমীরের দায়িত্ব নিয়ে চলে গেলেন রাজশাহীতে।
    স্ত্রী ১০ বছর যাবত শয্যাশয়ী। প্যারালাইসিসে আক্রান্ত। কথা বলতেও পারেন না। ঢাকা থেকে মাসে একবার বাড়ী গিয়ে স্ত্রীকে এক নজর দেখে আবার ফিরে আসেন ঢাকায়। কোন টেনশন, কোন অস্থিরতা, কোন দুশ্চিন্তা কিছুই দ্বীন কায়েমের আন্দোলনের পথে তার গতিরোধ করতে পারেনি। একাকি ১০টি বছর কাটিয়েছেন। কোন কিছু যাকে টলাতে পারেনি-তিনি হলেন মরহুম জনাব আব্বাস আলী খান। রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, সংগঠক, লেখক, সর্বোপরি সকলের এক শিক্ষক জনাব আব্বাস আলী খান। অসংখ্য গুণের সমাহার এক ব্যক্তির মাঝে-এক সঙ্গে কত যে গুণ তার-তা বলে শেষ করা যাবে না। তিনি যেন এক জীবন্ত কিংবদন্তি।
    গুণ ও প্রতিভাঃ
    মরহুম আব্বাস আলী খান বহুমূখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। তিনি একাধারে কর্ম ও রাজনীতি, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ভূমিকা পালন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভূমিকা, সেবামূলক কাজ, ভাষা ও সাহিত্য চর্চা, আধ্যাত্নিক জ্ঞান চর্চা, গ্রন্থ রচনা ও গ্রন্থ অনুবাদ সহ অসংখ্য কাজে ও গুণে পারদর্শী বাংলাদেশে্র এক তঅতুলনীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
    ১৯৭৯ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ধর্মভিত্তিক রাজনীতির উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ তাদের কর্মকাণ্ড শুরু করে। আব্বাস আলী খান সে সময় জামাতের ভারপ্রাপ্ত আমীরের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে গঠিত পাকিস্তানের প্রাদেশিক সরকারের মন্ত্রীসভার শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন।

    জনাব আব্বাস আলী খানের রচিত গ্রন্থাবলীঃ
    ১. জামায়াতে ইসলামীর ইতিহাস
    ২. জামায়াতে ইসলামীর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
    ৩. বাংলার মুসলমানদের ইতিহাস
    ৪. মাওলানা মওদূদী ঃ একটি জীবন, একটি ইতিহাস, একটি আন্দোলন
    ৫. আলেমে দ্বীন মাওলানা মওদূদী
    ৬. মাওলানা মওদূদীর বহুমুখী অবদান
    ৭. মৃত্যু যবনিকার ওপারে
    ৮. ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের কাঙিক্ষত মান
    ৯. ঈমানের দাবী
    ১০. ইসলাম ও জাহেলিয়াতের চিরন্তন দ্বন্দ্ব
    ১১. একটি আদর্শবাদী দলের পতনের কারণঃ তার থেকে বাঁচার উপায়
    ১২. ইসলামী বিপ্লব একটি পরিপূর্ণ নৈতিক বিপ্লব
    ১৩. সমাজতন্ত্র ও শ্রমিক
    ১৪. MUSLIM UMMAH
    ১৫.স্মৃতি সাগরের ঢেউ
    ১৬.বিদেশে পঞ্চাশ দিন
    ১৭.যুক্তরাজ্যে একুশ দিন
    ১৮.বিশ্বের মনীষীদের দৃষ্টিতে মাওলানা মওদূদী
    ১৯.ইসলামী আন্দোলন ও তার দাবী
    ২০.দেশের বাইরে কিছুদিন

    জনাব আব্বাস আলী খানের অনূদিত গ্রন্থাবলীঃ
    ২১. পর্দা ও ইসলাম
    ২২. সীরাতে সরওয়ারে আলম (২-৫খন্ড)
    ২৩. সুদ ও আধুনিক ব্যাংকিং (সহ-অনুবাদ)
    ২৪. বিকালের আসর
    ২৫. আদর্শ মানব
    ২৬. ইসলাম ও সামাজি সুবিচার
    ২৭. জাতীয় ঐক্য ও গণতন্ত্রের ভিত্তি
    ২৮. ইসলামী অর্থনীতি (সহ-অনুবাদ)
    ২৯. ইসরা ও মিরাজের মর্মকথা
    ৩০. মুসলমানদের অতীত বর্তমান ও ভবিষ্যতের কর্মসূচী
    ৩১. একটি ঐতিহাসিক সাক্ষাৎকার
    ৩২. পর্দার বিধান
    ৩৩. ইসলামের পূর্ণাঙ্গ রূপ
    ৩৪. আসান ফিকাহ (১-২ খন্ড)
    ৩৫. তাসাউফ ও মাওলানা মওদূদী
    ইন্তেকালঃ
    ৩রা অক্টোবর ১৯৯৯ সাল, বেলা ১-২৫ মিনিটে এ মহান শিক্ষক একমাত্র কন্যা ও নাতি-নাতনীদের রেখে দুনিয়া ছেড়ে পরপারে চলে গেলেন। জয়পুরহাট জেলা শহরের প্রশস্ত রাজপথ ঘেঁষে তাঁর বাড়ির আঙ্গিনায় তাঁকে দাফন করা হয়। কবরের কাছে রয়েছে তাঁর নিজ হাতে গড়া ইসলামী পাঠাগার।

    (Facebooker Golpo ফেসবুক পেইজ থেকে সংগৃহীত)
     



    👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পোস্টগুলো ফেসবুক এবং ইমেইল থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]

    No comments

    Post Top Ad

    ad728

    Post Bottom Ad

    ad728

    আমরা আপনাকে বিনামূল্যে আমাদের আপডেট গুলি পাঠাতে যাচ্ছি। প্রথমে আপনার অনুলিপি সংগ্রহ করতে, আমাদের মেইলিং তালিকায় যোগ দিন। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, অকেজো তথ্য প্রেরণ করে আপনাকে বিরক্ত করবো না। সুতরাং কোনও আপডেট মিস করবেন না, সংযুক্ত থাকুন!