তামিলনাড়ুর গলি থেকে উঠে আসা যুবক অ্যাটলি কুমার। কালো বলে একসময় মানুষের অবজ্ঞা, অবহেলা এবং বাজে ট্রলের শিকার হতে হয়েছে মেধাবী এই পরিচালককে! একদিন তিনি তামিলনাড়ু থেকে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে মুম্বাই গিয়েছিলেন শাহরুখ খানের সাথে দেখা করতে, কিন্তু দেখা হয়নি!
মান্নাতের সামনে ছবি তুলে ফিরে গিয়েছিলেন, কিন্তু আজ সেই অ্যাটলির পরিচালিত ‘জওয়ান’ সিনেমাতেই অভিনয় করেছেন কিং খান! ২০১৩ সালে অ্যাটলি সোশ্যাল মিডিয়ায় বলিউড বাদশা শাহ্রুখ খানের সাথে একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন। সে সময় সবাই ছবিটি এডিটেড বলে ট্রল করেছিল!
২০১৭-১৮ সালের দিকে ফেসবুকে একটি ছবি চরম হারে ট্রোলড হয়েছিল। সুন্দরী এক রমণীর সাথে কালো যুবকের ছবিটি তখন ট্রোলারদের টাইম লাইনে ঘুরে বেড়াতো! অ্যাটলি কুমার তখনো সেই অর্থে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেননি। তামিল সিনেমা ছাড়া বাইরের জগতের মানুষ তখন তাঁকে সেই অর্থে চিনতেনও না। কিন্তু বর্তমানে বিশ্বের বেশিরভাগ ভাগ মানুষ তাঁর নাম জানেন। অ্যাটলি কুমার, তামিল সিনেমায় প্রথম স্ক্রিপ্ট রাইটার হিসেবে কাজ করতেন। পরে সিনেমা নির্মাণে দক্ষতার প্রমাণ দিয়ে তামিল সিনেমায় নিজেকে প্রথম সারির নির্মাতাদের কাতারে নিয়ে গেছেন।
স্ত্রী সুশ্রী বলে তাঁদের ছবিতে মানুষ ব*র্ণবাদী ঘৃ*ণা ছড়িয়ে বলেছে- ‘বানরের গলায় মুক্তোর মালা’! কিন্তু অনেকের চোখে কুৎসিত এই মানুষটির সাথে কাজ করতে মুখিয়ে থাকেন বলিউড এবং সাউথের সুপারস্টাররাও!
বলিউড বাদশা শাহ্রুখ খান বলছেন- ‘ওর সাথে কাজ করতে পারাটা আমার জন্য সৌভাগ্যের। চলচ্চিত্রে যার মেধার তুলনা হয় না’। মিডিয়া অফ সোশ্যাল এবিউজমেন্টের তথ্য অনুযায়ী- অ্যাটলি কৃষ্ণকায় এবং তাঁর স্ত্রী সুশ্রী হওয়ায় এই দশকের সর্বাধিক ট্রলড হওয়া ভারতীয়দের মধ্যে অ্যাটলি কুমার অন্যতম।
অ্যাটলি কুমার সবসময়ই তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করেই চলেছেন শারীরিক গঠনে বা গায়ের রঙে কি আসে যায়? মানুষের মেধা আর যোগ্যতাই তো প্রমাণ করে মানুষের প্রকৃত পরিচয়…
(
Faporbaz -এর ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত )
👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পোস্টগুলো ফেসবুক এবং ইমেইল থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]
No comments