• সাম্প্রতিক

    যে বুডিকে দেখে ভয়ে কাঁপতেন হযরত উমর (রাঃ) -

    হযরত উমর ফারুক (রাঃ) একদিন এক কাজে বের হয়ে হেঁটে হেঁটে যাচ্ছিলেন। কিছু দূর যাওয়ার পরই দেখলেন এক বৃদ্ধাকে। বৃদ্ধা কি যেন বিড় বিড় করছে। বিড় বিড় করা দেখেই মনে হচ্ছিলো উনি কোন অসুবিধায় রয়েছেন।


    হযরত উমর ফারুক (রাঃ) তার কাছে গেলেন। তার ভাল মন্দ জিজ্ঞেস করলেন। তখন বুড়ি মা তার কষ্টের কথা উমর (রাঃ) কে বললেন, সেই সাথে এও বললেন তার বিপদে সাহায্য করার জন্যে কেউ এগিয়ে আসে নি।

    যেহেতু ঐ সময়ের খলিফা ছিলেন উমর ফারুক (রাঃ), তাই তিঁনি জিজ্ঞাসা করলেন, আচ্ছা বুড়ি মা, খলীফা ওমর সম্পর্কে আপনার ধারণা কি ?

    বুড়ি হযরত উমর (রাঃ) আগে কখনো দেখেননি, তাই তিনি তাঁকে চিনতে পারেননি। তিনি হযরত উমর (রাঃ) এর কথা শুনেই কিছুটা বিরক্ত হলেন।

    উত্তরে বললেন, উমর টোমর দিয়ে আমি কি করবো ? আমার কি এমন ঠেকা পড়লো যে তার খবর আমাকে নিতে হবে। নিজের চিন্তায় বাঁচিনা। বুড়ির কথায় স্পষ্ট রাগ আর অসন্তোষের ছাপ প্রকাশ পেলো।

    তখন হযরত উমর (রাঃ) আবার তাকে জিজ্ঞাসা করলেন। বুড়ি মা, উমরের উপর তোমার এতো রাগ কেন ?

    বুড়ি চেঁচিয়ে জবাব দিলনে, রাগ হবে না কেন ? এই যে সে খলিফা হয়েছে, তো আমায় একটা পয়সাও দিয়েছে ? নাকি কোন দিন আমার খোঁজ-খবর নিয়েছে যে আমি কি হালাতে আছি ?

    হযরত উমর (রাঃ) বুড়ির কথা শুনে বড়ই চিন্তিত হলেন। ঠিকইত আমি তো তার তেমন খোঁজ-খবর নিতে পারিনি।

    তিনি কিছুটা নরম হয়ে বুড়িকে আবার বললেন, আচ্ছা আপনি কী অবস্থায় আছেন সেটা ওমর কি করে জানবে। আপনি গিয়ে উমরকে সব জানিয়ে আসলেই তো পারতেন।

    বুড়ি রেগে গিয়ে জবাব দেন- কেন? আমি জানাতে যাব কেন? উমর ফারুক (রাঃ) তো আমিরুল মু'মীনীন। সেই রাষ্ট্রের সকলের দেখভাল করবে বলে দ্বায়িত্ব নিয়েছে। এখন আমি যে না খেয়ে দিন কাটাই সেটা তো তারই দেখার কথা আমার বাড়ি এসে। কথাগুলো খুব তিক্ততার সাথে বললেন তিনি।

    হযরত উমর (রাঃ) শান্তভাবে আবার বললেন-আচ্ছা, উমর খলিফা হওয়ার পর আপনি যে কষ্ট পেয়েছেন সেই কষ্টের বিনিময়ে কত টাকা পেলে উমরকে মাফ করে দিবেন ?

    বৃদ্ধার সাথে এসব কথোপকথন চলছে এমন সময় রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন হযরত আলী (রাঃ) ও আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ। উমর (রাঃ) এক বৃদ্ধার সাথে কথা বলছেন দেখে তাঁরা এগিয়ে আসলেন।

    এসেই সালাম দিলেন, আসসালামুয়ালাইকুম ইয়া আমীরুল মু'মীনীন! আগন্তুক দুই ব্যক্তির মুখে আমীরুল মু'মীনীন এই কথা শুনেই বৃদ্ধা তাজ্জব হয়ে গেলেন।

    উনি ভয় পেয়ে ভাবলেন, যে কিনা অর্ধ জাহানের বাদশা, সেই হযরত উমর ফারুক (রাঃ) এর সামনেই তাকে এত গালমন্দ করেছেন। মনে মনে ভাবলেন আজকেই মনে হয় তার শেষ দিন !

    বুড়ির ভয়ার্ত চোখ দেখে হযরত উমর ফারুক (রাঃ) তাকে সান্তনা দিলেন। আর বৃদ্ধার হাতে পঁচিশটি স্বর্ণ-মুদ্রা দিয়ে বললেন, বুড়ি মা! আপনার কি আমার উপর আর কোন অভিযোগ আছে?

    উত্তরে তিনি খুশি হয়ে বললেন- না।

    হজরত উমর ফারুক (রাঃ) বললেন, তাহলে আপনি এই চামড়ায় লিখে দিন যে, কেয়ামতের দিন ওমরের কাছে আমার কোন দাবী নাই।

    বৃদ্ধা তখন তাই করলেন। চামড়ার উপরে তা লিখে দিলেন। হযরত আলী (রাঃ) তাতে সাক্ষী হিসেবে দস্তখত করলেন।

    এই ছিল মুসলিম জাহানের শাসক খলিফা হযরত উমর ফারুক (রাঃ) এর চরিত্র, এই ছিল একজন আমিরুল মুমিমীনীনের দায়বদ্ধতা !

    Faporbaz -ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত ) 




    👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পোস্টগুলো ফেসবুক এবং ইমেইল থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]

    No comments

    Post Top Ad

    ad728

    Post Bottom Ad

    ad728

    আমরা আপনাকে বিনামূল্যে আমাদের আপডেট গুলি পাঠাতে যাচ্ছি। প্রথমে আপনার অনুলিপি সংগ্রহ করতে, আমাদের মেইলিং তালিকায় যোগ দিন। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, অকেজো তথ্য প্রেরণ করে আপনাকে বিরক্ত করবো না। সুতরাং কোনও আপডেট মিস করবেন না, সংযুক্ত থাকুন!