সংসারের কান্ডারি থেকে বিপ্লবের কান্ডারি : গুলির আঘাতে স্বপ্ন ভঙ্গ আহসান হাবিবের
কক্সবাজারের লালদীঘির পাড়ে ১৮ জুলাইয়ের সেই সন্ধ্যা যেন এক অনন্ত কষ্টের স্মৃতি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উত্তাল রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভিডিও করছিলেন আহসান হাবিব। তরুণের ক্যামেরার লেন্সে তখন আন্দোলনের দৃশ্যগুলো ধরা পড়ছিল, কিন্তু পরক্ষণেই ঘাতকের নিশানায় তার জীবন নিভে যায়। ঘাতকের বুলেট আহসানের মাথায় আঘাত হানলে, সব স্বপ্ন নিমেষেই ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়।
চকরিয়া সরকারি ডিগ্রি কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আহসান শুধু একজন সংগ্রামী শিক্ষার্থী ছিলেন না, ছিলেন একটি পরিবারের আশা-ভরসার কেন্দ্রবিন্দু। অসুস্থ বাবার পাশে দাঁড়াতে এবং ছোট ভাই-বোনদের পড়াশোনার খরচ চালাতে তিনি কক্সবাজার শহরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। মাত্র ৯ হাজার টাকা বেতনের এই চাকরি তার নিজের স্বপ্নের পেছনে ছুটতে অনেকটা বাঁধা সৃষ্টি করেছিল, তবুও পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য দিনরাত পরিশ্রম করতেন।
আহসানের বাবা হেলাল উদ্দিন আজ নিস্তব্ধ কণ্ঠে বলেন, "আমার ছেলেটা ছিল পরিবারের সবকিছু। তার আয়েই আমাদের সংসার চলত। আজ সে নেই, আমি জানি না কিভাবে সংসার চালাবো।" দীর্ঘদিন ধরে নানা রোগে ভুগতে থাকা হেলাল উদ্দিনের মুখে এখন একটাই প্রশ্ন—কেন আমার ছেলেকে এভাবে কেড়ে নেওয়া হলো?
আহসানের মা হাছিনা বেগম চোখ মুছে বলেন, "ওর স্বপ্ন ছিল সরকারি চাকরি করবে। সংসারের সব অভাব দূর করে সবার মুখে হাসি ফুটাবে। কিন্তু এখন সব শেষ। আমার ছেলেটা সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেল।"
ছোট ভাই রায়হান বলে, "ভাইয়া আমাদের জন্য নিজের স্বপ্নগুলো বিসর্জন দিয়েছিল। সবসময় খোঁজ নিতো, পড়াশোনায় কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা।" ছোট বোন মাছুমা জান্নাতের কণ্ঠে হতাশা—"ভাইয়ার চাকরির টাকাতেই আমাদের লেখাপড়া চলত। এখন জানি না, পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারব কিনা।"
সেদিন রাত ৮টার দিকে কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন আহসান। আন্দোলনের উত্তেজনা তখন শহরজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। লালদীঘির পাড়ে পৌঁছালে হঠাৎ একটি গুলি এসে তার মাথায় লাগে। সহকর্মীরা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যান। চট্টগ্রামে নেওয়ার পথে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আহসান।
তাকে কেন এবং কীভাবে হত্যা করা হলো, সে প্রশ্ন আজও অনুত্তরিত। পরিবার এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আন্দোলনের ভিডিও করার কারণে তাকে টার্গেট করে হত্যা করা হয়।
পরিবারটি দুই লাখ টাকা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আরও দুই লাখ টাকা সহায়তা পেয়েছে। কিন্তু এই অর্থ তাদের ছেলের অভাব পূরণ করতে পারে না।
আহসান হাবিবের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের কান্নার গল্প নয়, এটি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একটি রক্তক্ষয়ী অধ্যায়। তার ত্যাগ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম এখনো শেষ হয়নি।
সুত্র: ইন্টারনেট
-আলী ইউছুফ
০৫/০১/২০২৫ ইং
( Ali Yousuf Ctg -এর ফেসবুক আইডি থেকে সংগৃহীত )
👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পোস্টগুলো ফেসবুক এবং ইমেইল থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]

No comments