• সাম্প্রতিক

    হ্যাপি নিউ ইয়ার-


    দাদা-দাদি, মা-বাবা, কাকা-কাকি আর ছোট দুই ভাই মিলে হ্যাপিদের সুখী পরিবার। কাকতালীয় হলেও সত্য, এই পরিবারের সবার জন্ম পহেলা জানুয়ারিতে। হ্যাপির জন্মের তিন বছর পর ওর একটা ভাই হলো! ভাইয়ের নাম রাখা হলো নিউ। কয়েক বছর পর তার কাকি পহেলা জানুয়ারিতেই পুত্রসন্তানের জন্ম দিলেন। হ্যাপির ইচ্ছায় সেই পুত্রের নাম রাখা হলো ইয়ার।
    জানুয়ারির প্রথম দিনটিতে এই পরিবারের কেউই বাড়িতে থাকে না। দিনটি উদযাপন করতে সবাই একসঙ্গে দূরে প্রকৃতির মাঝে কোথাও বেড়াতে চলে যায়। কখনো পাহাড়ে, কখনো অরণ্যে, কখনো সমুদ্রে। এবার অত দূরে কোথাও না গিয়ে সবাই গ্রামে চলে এসেছে। এই গ্রামে বহু বছরের পুরোনো একটা নদী আছে। এবার এই নদীর পাড়ে সবার জন্মদিন উদযাপন করা হবে ঠিক হয়েছে। ভাবনাটা হ্যাপির দাদুর। তিনিই ঠিক করে দিয়েছেন এইবার জন্মদিনের মূল ভাবনা নদী নিয়ে গল্প শোনাবে হ্যাপি। প্রতি বছর তাই হয়। যখন যেখানে যাবে সেই জায়গাটি ঘিরে গল্প বলে কেউ একজন। গত বছর যেমন ওরা পাহাড়ে গিয়েছিল। সেবার পাহাড়ের গল্প বলেছিল হ্যাপির দাদি।
    নতুন বছর শুরু হতে একদিন বাকি। এদিকে হ্যাপির গল্পই ঠিক হয়নি নদী নিয়ে সে কী বলবে! ভেবে ভেবে মন খারাপ ওর। হঠাৎ মনে হলো বাড়ির খুব কাছেই তো নদী। একবার গিয়ে ঘুরে আসলে কেমন হয়। নদীর ধারে হাঁটলে নিশ্চয় অনেক গল্প পাওয়া যাবে। যেই ভাবা সেই কাজ। হ্যাপি ওর ভাই ইয়ারকে সঙ্গে নিয়ে নদীতে চলে এল। নিউকেও বলেছিল ওদের সঙ্গে যেতে, তার এত সময় কোথায়। সে এখন গ্রামের ছেলেপুলেদের সঙ্গে মাঠে ফুটবল খেলতে ব্যস্ত।
    এই নদীর কথা অনেক শুনেছে ইয়ার। দেখেনি কখনো। প্রথমবার গাঁয়ের নদী দেখে সে কী উচ্ছ্বাস তার! নদীতে পানি টলমল করছে। ঘাটে বাঁধা সারি সারি নৌকা। তবে কী এতদিন ভুল শুনেছিল! এখন আর আগের মতো নদীতে পানি নেই, ঘাটে অত নৌকা নেই! নাকি ওরা আসবে বলে নদী নতুন করে সেজেছে! ওদের দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে দলবেঁধে নৌকা এসেছে! হতেও পারে! মনে মনে ভাবল ইয়ার। একটা নৌকায় দুজনে উঠে বসল। অন্য একটা নৌকা মাঝ নদী থেকে ধীরগতিতে ওদের দিকেই আসছে। ইয়ার চারপাশে তাকিয়ে নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করলেও হ্যাপির মাথায় অন্য চিন্তা। সে কাল কী বলবে নদীর মাঝে সেই গল্প খুঁজছে। কিছুই মাথায় আসছে না ওর। হঠাৎ ভাবে, আচ্ছা! নদীরও কি জন্মদিন আছে! চুপি চুপি জিজ্ঞেস করে, ‘ও নদী! তোমারও কি আমাদের মতো পহেলা জানুয়ারিতে জন্ম?’
    বলে হাহা হিহি করে হাসে। হাসতে হাসতে কান পাতে নদীর বুকে। একটু সময় চোখ বন্ধ করে গভীর নিঃশ্বাস নেয়। চোখ খুলে বলল, ‘ইয়ার শোন, আগামীকাল বলবার মতো নদীর গল্প পেয়ে গেছি। এবার বাড়ি ফিরে যাই চল।’
    ইয়ার দূর-অদূরের নৌকা দেখতে দেখতে বলল, ‘আগামীকাল আমিও গল্প বলব, নৌকার গল্প।’
    পরদিন বিকেলে সবাই নদীর পাড়ে এসে দাঁড়ায়। উপভোগ করে শান্ত, স্নিগ্ধ নদী, চারপাশের শুনশান নীরবতা। ইতোমধ্যে হ্যাপি গল্প বলতে শুরু করল, ‘অনেক বছর আগের কথা। এক পহেলা জানুয়ারিতে ছেলের জন্মদিনে একজন মা তার ছেলেকে নিয়ে এই নদীর ধারে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। জন্মদিনে ছেলেকে কিছু কিনে উপহার দেবে সেই সাধ্য ছিল না মায়ের। তাই বলে কিছুই উপহার দেবে না, তা কী করে হয়! নদীর ধারে দাঁড়িয়ে মা বলেছিলেন, ‘জন্মদিনে এই নদী তোমার জন্য আমার উপহার, বেটা।’
    মায়ের কথা শুনে সেদিন সেই ছোট্ট ছেলেটা খুব খুশি হয়েছিল। জন্মদিনে এত্ত বড় একটা নদী উপহার পাওয়া যায় ভাবতেই পারেনি ছেলেটি। সেদিনের ছোট্ট সেই ছেলেটি আজ অনেক বড় হয়ে গেছে। দাদু হয়ে গেছে। নদীর মতো বিশাল মন তার।’
    এইটুকু বলে হ্যাপি দাদুর দিকে তাকায়। পানিতে টলমল চোখে দাদু অবাক হয়ে জানতে চায়, ‘সেদিনের কথা তুমি জানলে কেমন করে, দাদুভাই?’
    হ্যাপি রহস্য রেখে হাসতে হাসতে বলল, ‘নদীর বুকে কান পাতলে অনেক কিছু শোনা যায়, দাদু। তুমিও কান পাতো। অনেক কিছু শুনতে পাবে।’

    দাদু একটুখানি এগিয়ে নদীর তীরে হাঁটু গেড়ে বসলেন। মনে পড়ল এইখানে দাঁড়িয়ে একদিন তার মা তাকে বলেছিল, ‘নদীর মতো বিশাল মন নিয়ে বড় হবে তুমি। শুধু পহেলা জানুয়ারি নয়, প্রতিটি দিন হবে তোমার জন্মদিনের আনন্দের মতো, প্রতিটি দিন হবে তোমার হ্যাপি নিউ ইয়ার।’
    মায়ের কথা মনে করতে করতে দাদু নদীর বুকে কান পাতে। পানির ছলাৎ ছলাৎ শব্দে কে যেন বলছে, ‘শুভ জন্মদিন, বেটা।’
    হঠাৎ মায়ের কণ্ঠ শুনতে পেয়ে তড়িঘড়ি পেছন ফিরে তাকায়। দেখে অদূরে হাস্যোজ্জ্বল মুখে দাঁড়িয়ে আছে তার প্রতিদিনের আনন্দ হ্যাপি নিউ ইয়ার।
    (সংগৃহীত)

    দেশের গল্প-দশের গল্প/জীবনের গল্প-যৌবনের গল্প
     ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত)



    👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পোস্টগুলো ফেসবুক এবং ইমেইল থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]

    No comments

    Post Top Ad

    ad728

    Post Bottom Ad

    ad728

    আমরা আপনাকে বিনামূল্যে আমাদের আপডেট গুলি পাঠাতে যাচ্ছি। প্রথমে আপনার অনুলিপি সংগ্রহ করতে, আমাদের মেইলিং তালিকায় যোগ দিন। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, অকেজো তথ্য প্রেরণ করে আপনাকে বিরক্ত করবো না। সুতরাং কোনও আপডেট মিস করবেন না, সংযুক্ত থাকুন!