কোটা সংস্কার আন্দোলনের উত্তাল সময়টা ছিল বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য এক বিশেষ অধ্যায়। এই আন্দোলনের মাঝে আমরা হারিয়েছি অনেক প্রিয় মুখ, যাঁরা আমাদের হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবেন। তেমনই একজন মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিয় এই মুখটি আর কখনো আমাদের মাঝে ফিরে আসবে না। তবে তাঁর জীবনের গল্প, ভালোবাসা, আর সাহসিকতার স্মৃতি আমাদের পথচলার অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
মুগ্ধ ছিল বন্ধুত্ব ও সাহচর্যের মূর্ত প্রতীক। মুগ্ধ ছিল খুলনা
বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ছাত্র। আমরা একই ব্যাচে পড়েছি—আমি পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগে, আর মুগ্ধ গণিতে। মুগ্ধর উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব আর চিরসবুজ হাসি-খুশি স্বভাব আমাদের সবার কাছে ওকে প্রিয় করে তুলেছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের বারো মাসে তেরো পার্বণের মতো যে কোনো আয়োজনে মুগ্ধকে পাওয়া যেত—কখনো আয়োজক, কখনো দর্শক।
মুক্তমঞ্চ, হল রোড কিংবা তপনদার চায়ের দোকান—মুগ্ধর উপস্থিতি যেন এই জায়গাগুলোকে প্রাণ দিত। সে সবার জন্যই ছিল ভরসা। ক্যাম্পাসে কারো বিপদে পাশে দাঁড়ানো, জুনিয়রদের আগলে রাখা কিংবা সহপাঠীদের সঙ্গে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া—সব কিছুতেই মুগ্ধর ছিল সরব উপস্থিতি।
স্মৃতিতে ঝংকৃত হবে আজীবন মূগ্ধের ত্যাগের সুর। অম্লান হয়ে থাকবে মুগ্ধর সাথে কাটানো মুহূর্তগুলো। তার সান্নিধ্য আজও আমাদের মানসপটে উজ্জ্বল। দীপাবলির সন্ধ্যায় আতশবাজি কিনতে যাওয়া, ঘুড়ি উৎসবে একসঙ্গে স্লোগান তোলা, কিংবা শিক্ষার্থীদের ওপর অন্যায়ের প্রতিবাদে রাস্তা আটকে দাঁড়ানো—মুগ্ধ সর্বদা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিত। তার বিশেষ গুণ ছিল—ব্যাচমেট, জুনিয়র, সিনিয়র—সবাইকে নিজের পরিবারের অংশ মনে করা।
মুগ্ধ এর সাহসিকতার উত্তরাধিকারে বলিয়ান আমরা। মুগ্ধ শুধু আমাদের বন্ধু নয়, সে আমাদের সাহসের প্রতীক। শিক্ষার্থীদের ওপর অন্যায়ের প্রতিবাদে একদিন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অদম্য বাংলা ভাস্কর্যের চোখমুখ কালো কাপড়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল। সেদিন মুগ্ধ ফেসবুকে লিখেছিল, "এই কালো কাপড় যেন আর কখনো না সরানো হয়। এটা আমাদের দুর্বলতা আর পরাধীনতার চিহ্ন হিসেবে থেকে যাক।" তার কথাগুলো আমাদের ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছিল।
মুগ্ধ এর বিদায়, কিন্তু স্মৃতিতে অমর হয়ে থাকবে। মুগ্ধ এখন আর নেই। সে আমাদের মাঝে ফিরে আসবে না। কিন্তু তার সাহস, ভালোবাসা আর উদ্যম আমাদের মন থেকে কখনো হারাবে না। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষার্থী গর্ব করে বলে—"আমি মুগ্ধর বন্ধু।"
ওয়ারফেজের গানের লাইনগুলো যেন মুগ্ধর মতো তরুণদের জন্যই লেখা:
"অসীমের পথে চলব,
আর বলব এই আমার অহংকার।"
মুগ্ধ নেই, কিন্তু মুগ্ধরা থেকে যায় আমাদের অন্তরে, আমাদের আন্দোলনে, আর আমাদের প্রতিটি চেষ্টায়।
(সংগৃহীত)
(
ফেসবুকের গল্প-Facebooker Golpo--এর ফেসবুক গ্রুপ থেকে সংগৃহীত)
👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পোস্টগুলো ফেসবুক এবং ইমেইল থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]
No comments