পৃথিবীতে এমন কিছু স্থান রয়েছে যেগুলোর ওপর দিয়ে বিমান ওড়ানো যায়না। বিশেষ ঐ স্থানগুলোকে বলা হয় “নো ফ্লাই জোন”। এই স্থান গুলোর গোপনীয়তা ও নিরাপত্তাজনিত প্রোটোকল বজায় রাখার স্বার্থেই সেগুলোর ওপর দিয়ে বিমান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নো ফ্লাই জোনের তালিকায় প্রথমেই রয়েছে মুসলিম বিশ্বের পবিত্র শহর মক্কা। সৌদি বিমান বাহিনী মক্কা নগরীকে নো ফ্লাই জোন হিসেবে ঘোষণা করেছে। মূলত মক্কা নগরীর সার্বিক নিরাপত্তা এবং ইসলামিক আইনের কিছু বাধ্যবাধকতার কারণেই মক্কার ওপর দিয়ে সকল ধরনের বিমান চলাচল নিষিদ্ধ করেছে তারা । কোনো এয়ারলাইন্স কোম্পানি যদি এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তবে সেই কোম্পানিকে গুনতে হয় বিশাল জরিমানা ।
এছাড়াও যুক্তরাজ্যে অবস্থিত ব্রিটিশ রাজ পরিবারের বার্মিংহাম প্রাসাদটিও নো ফ্লাই জোনের অন্তর্ভুক্ত। বার্মিংহাম প্রাসাদের ওপর দিয়ে বিমান ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। রাজা এবং রাজ পরিবারের সদস্যদের সার্বিক নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে বার্মিংহাম প্রাসাদের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের আরো বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান নো ফ্লাই জোন এর লিস্টে রয়েছে । এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো: ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রীট, ব্রিটিশ সংসদ ভবন ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন।
পৃথিবীর অন্যতম আশ্চর্য হিসেবে খ্যাত আগ্রার তাজমহলের ওপর দিয়েও কোনো বিমান চলাচল করতে পারে না। ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অন্তর্ভুক্ত এই অপরুপ সুন্দর স্থাপত্যের নিরাপত্তা রক্ষার উদ্দেশ্যই এটির আশেপাশে প্রায় ৭ কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত বিমান চলাচলে আরোপ করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। ২০০৬ সালে ভারত সরকার এই অঞ্চলটিকে নো ফ্লাই জোন হিসেবে ঘোষণা করে। তাজমহলের নিরাপত্তা নিয়ে ভারত সরকার এতই উদগ্রীব যে, এটির আশেপাশে ৫০০ মিটার এলাকা পর্যন্ত কোনো ধরনের যানবাহন চলাচলেরও অনুমতি নেই।
পাশাপাশি ইউনেস্কো কর্তৃক ঘোষিত আরেকটি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট পেরুর মাচু পিচুও রয়েছে নো ফ্লাই জোনের শর্টলিস্টে। পেরুর উরুবাম্বা উপত্যকার একটি পর্বতচূড়ার ওপর অবস্থিত ইনকা সভ্যতার এই প্রাচীন নিদর্শনটির ওপর দিয়ে বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে দেশটির সরকার। মাচু পিচুর সুপ্রাচীন নিদর্শনের সুরক্ষার অংশ হিসেবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মাচু পিচুর ওপর দিয়ে বিমান উড়ে যাওয়ায় সময় দূর্ঘটনা ঘটলে তার নিচে থাকা ইনাকি সভ্যতার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সমূহের ক্ষতি হতে পারে। এই আশঙ্কা মাথায় রেখে অঞ্চলটিকে নো ফ্লাই জোন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
এছাড়া নিষিদ্ধ দেশ হিসেবে পরিচিত তিব্বতের ওপর দিয়েও বিমান ওড়ানো নিষিদ্ধ। পাহাড়-পর্বতে ঘেরা বিচিত্র এই দেশটিও নো ফ্লাই জোনের অন্তর্ভুক্ত। মূলত তিব্বতের প্রাকৃতিক অবস্থানগত কারণেই এটিকে নো ফ্লাই জোন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তিব্বতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পাহাড়গুলোর উচ্চতা ৮ থেকে ১৬ হাজার ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে। আর বিশাল উচ্চতার এই পাহাড়গুলোই বিমানের যাত্রাপথে নানা বিপত্তির সৃষ্টি করে। যার ফলে ফ্লাইটগুলো যাত্রী নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় রেখে তিব্বতের পাঁচটি বিমানবন্দর অঞ্চল বাদে বাকি এলাকা সমূহে বিমান চলাচল নিষিদ্ধ করেছে।
এছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি সরকারি দপ্তর এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নো ফ্লাই জোনের লিস্টে রয়েছে । ওয়াশিংটন ডি.সি, ওয়াশিংটনের বাসভবন, এরিয়া ফিফটি ওয়ান, কেনেডি স্পেস সেন্টার, ক্যাম্প ডেভিড, প্যানটেক্স নিউক্লিয়ার ফ্যাসিলিটি, ডিজনি থিম পার্ক ইত্যাদি স্থান সমূহের ওপর দিয়ে বিমান ওড়ানো পুরোপুরি নিষিদ্ধ। বিশেষ করে নাইন ইলেভেনের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রে নো ফ্লাই জোন নিয়ে আরো বেশী কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। আর ভুলক্রমেও কেউ এসব নিষিদ্ধ স্থানে বিমান ওড়ানোর চেষ্টা করলে তাকে ভয়াবহ শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।
(
Faporbaz -এর ফেসবুক আইডি থেকে সংগৃহীত)
👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পোস্টগুলো ফেসবুক এবং ইমেইল থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]
No comments