ক্লিকবেইট সাংবাদিকতা-
ক্লিকবেইট সাংবাদিকতা: উদ্দেশ্য ও প্রতিক্রিয়া-
ক্লিকবেইট সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্য হলো চটকদার হেডলাইনের মাধ্যমে পাঠকদের ক্লিক বাড়ানো, যা অনেক ক্ষেত্রেই মিসলিডিং বা বিভ্রান্তিকর হয়ে থাকে। অথচ সাংবাদিকতার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত প্রকৃত তথ্য পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়া। বর্তমানে অনেক অনলাইন পোর্টাল মানহীন, গুরুত্বহীন, এমনকি ভিত্তিহীন বা গুজবনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে শুধু ওয়েবসাইটে ভিজিটর বাড়ানোর জন্য। এই প্রবণতা সাংবাদিকতার মৌলিক নৈতিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী তাবাসসুম মীম এ বিষয়ে বলেন, “চাঞ্চল্যকর বা সেনসিটিভ ইস্যু নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের মন্তব্য সেকশনে গেলে দেখা যায়, পাঠকরা বাজে মন্তব্য করছেন, সাংবাদিকদের গালি দিচ্ছেন। এটি ক্লিকবেইট সাংবাদিকতারই ফল।”
বিশেষজ্ঞ মতামতঃ
স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সামিয়া আসাদী ক্লিকবেইট সাংবাদিকতার সংজ্ঞা দিয়ে বলেন, “ভিউ বাড়ানোর জন্য আকর্ষণীয় হেডলাইন ব্যবহার করে মূল সংবাদের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কনটেন্ট তৈরি করাই ক্লিকবেইট সাংবাদিকতা। এটা গণমাধ্যমের গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করছে।” তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের কনটেন্টের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
মূলধারার সাংবাদিকদের দৃষ্টিভঙ্গিঃ
অনেক মূলধারার সাংবাদিকের মতে, ক্লিকবেইট সাংবাদিকতা বলতে রুচিহীন, নিম্নমানের বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্টকে বোঝায়। যদিও অনলাইন পোর্টাল এবং মাল্টিমিডিয়া চ্যানেলগুলো ভিউ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে চটকদার শিরোনাম ব্যবহার করে, এটি অনেক ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। মূলধারার গণমাধ্যমও কখনও কখনও এই প্রবণতায় জড়িয়ে পড়ে, যা তাদের প্রতি পাঠকের আস্থা নষ্ট করে।
একজন সাংবাদিক বলেন, “একটি অনলাইন পোর্টাল মাসে হাজারো কনটেন্ট তৈরি করে। এর মধ্যে একটি মাত্র মিসলিডিং কনটেন্টই পুরো গণমাধ্যমের নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করতে পারে। এজন্য সাংবাদিকদের সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি।”
ক্লিকবেইটের সমস্যা এবং ভবিষ্যৎঃ
সাংবাদিকতার নৈতিক মূল্যবোধ সম্পর্কে অজ্ঞ অনলাইন পোর্টালগুলো ক্লিকবেইট সাংবাদিকতার প্রসার ঘটাচ্ছে। পাঠক বা দর্শকরা অনেক সময় বুঝতে পারে না কোনটি মৌলিক সাংবাদিকতা এবং কোনটি শুধু ভিউ বাড়ানোর ফাঁদ। এর ফলে পুরো গণমাধ্যম শিল্পই দোষারোপের মুখে পড়ে।
গণমাধ্যমের গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখতে হলে ক্লিকবেইট সাংবাদিকতার নেতিবাচক দিকগুলো থেকে দূরে থাকা এবং মৌলিক, তথ্যসমৃদ্ধ কনটেন্ট তৈরিতে মনোযোগ দেওয়া জরুরি। পাঠকদের দায়িত্বও রয়েছে—তারা যেন বিভ্রান্তিকর শিরোনামে ক্লিক না করেন এবং প্রকৃত তথ্য যাচাই করেন। গণমাধ্যম, সাংবাদিক এবং পাঠকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়ই ক্লিকবেইট সাংবাদিকতার এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
( দেশের গল্প-দশের গল্প/জীবনের গল্প-যৌবনের গল্প -ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত)👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পোস্টগুলো ফেসবুক এবং ইমেইল থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]

No comments