ইশানের জীবনের আলো নিভে গেলেও, স্বপ্নের প্রদীপ জ্বলে রইল-
সেদিন উত্তরা পূর্ব থানার সামনে বিজয়ের আনন্দে মিছিল বের হয়েছিল। শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিল গণতন্ত্রের জয়ের উৎসব উদ্যাপন করতে। কিন্তু সে উৎসব মুহূর্তেই রূপ নেয় বিভীষিকায়। দুপুর ৩টা পর্যন্ত পুলিশ ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালাতে থাকে। ছোট্ট ইশান তখন বন্ধুদের সঙ্গে মিছিলে। হঠাৎ করেই পুলিশের ছোড়া ছররা গুলি তার নাক ভেদ করে বাঁ চোখে লাগে। পানির জন্য আর্তনাদরত আহতদের সাহায্য করতে গিয়ে নিজের জীবনের আলো হারায় ইশান।
পথচারীরা ইশানকে দ্রুত বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। দুই দিন পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার বাঁ চোখটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ফেলে দিতে হয়। চিকিৎসকেরা তার চোখে কৃত্রিম প্লাস্টিকের চোখ স্থাপন করেন। সেই দিন থেকেই ইশানের বাঁ চোখ চিরতরে অকেজো হয়ে যায়।
পরিবারের লড়াই: এক মানবিক বিপর্যয়ের গল্প-
ইশানের বাবা বাবুল সিকদার পেশায় স্যানিটারি মিস্ত্রি। ছেলের চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে তিনি এখন নিঃস্ব। কয়েক লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে আয়ের পথও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বাবুল বলেন, “ছেলের চিকিৎসা করতে গিয়ে সব পুঁজি শেষ হয়ে গেছে। এখন বাসাভাড়াও দিতে পারছি না। ছেলের লেখাপড়া আদৌ হবে কি না, তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় আছি।”
ইশানের মা পাপিয়া বেগম বলেন, “আমাদের একমাত্র সন্তানের চোখে আর কখনো আলো আসবে না। চিকিৎসা চালাতে গিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। সরকার আমাদের কোনো ধরনের সহায়তা করেনি। কেউ খোঁজও নেয়নি।”
মৃত্যুঞ্জয়ী সাহসের প্রতীক ইশান-
গত ৩০ নভেম্বর ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে শহীদ ও আহতদের স্মরণসভায় কালো সানগ্লাস পরা মলিন এক কিশোরকে দেখা যায়। সে-ই ছিল ইশান—তরুণ প্রজন্মের সাহসিকতার প্রতীক। দেশের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়েছে সে।
জেলা প্রশাসক আশরাফুর রহমান বলেন, “ইশানের মতো যাঁরা আত্মত্যাগ করেছেন, তাঁদের কাছে আমরা চিরঋণী। নিহত ও আহতদের পরিবারের জন্য সরকার সব ধরনের সহায়তা করবে।”
একটি দেশের অঙ্গীকার-
ইশানদের আত্মত্যাগ শুধু একটি পরিবারের জন্য ক্ষতির গল্প নয়, এটি একটি জাতির জন্য বড় দায়বদ্ধতার স্মারক। আজ ইশানের বাঁ চোখে আলো নেই, কিন্তু তার সাহসিকতা দেশের মানুষের মনে নতুন আলো জ্বালিয়েছে। হয়তো একদিন তার স্বপ্নগুলো বাস্তবে রূপ নেবে। সে স্বপ্ন কেবল ইশানের নয়, বরং একটি নতুন দিনের, একটি ন্যায়ের রাষ্ট্রের।
ইশান সিকদার শহীদ না হলেও গাজী হয়ে বেঁচে থাকবে নতুন বাংলাদেশের উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে বহুদিন-বহুকাল।
সুত্রঃ ইন্টারনেট
-আলী ইউছুফ
০৩/০১/২০২৫ ইং
( Ali Yousuf Ctg -এর ফেসবুক আইডি থেকে সংগৃহীত )👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পোস্টগুলো ফেসবুক এবং ইমেইল থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]

No comments