১৯৭৯ সালের ২০ নভেম্বর ইতিহাসের এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে, যখন
জুহায়মান আল-ওতায়বির নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি মক্কার পবিত্র মসজিদে হারাম দখল করে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল মাহদী আগমনের বার্তা প্রচার এবং সৌদি সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ।
হামলার শুরু ও সন্ত্রাসীদের প্রস্তুতি: জুহায়মান ও তার সঙ্গীরা মসজিদের ভিতরে অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুদ করেছিল। নিরাপত্তারক্ষীদের ঘুষ দিয়ে তিনটি পিকআপ ট্রাকে অস্ত্র মসজিদে আনা হয়েছিল। তাদের সশস্ত্র অবস্থানে পুলিশ ও সাধারণ হাজীরা হতবাক হয়ে যায়। মসজিদে কর্তব্যরত রক্ষীরা, যাদের হাতে কেবল লাঠি ছিল, শুরুতেই আত্মগোপন করে।
ইমাম যখন পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন, তখনই তাকে শারীরিকভাবে বাধা দেওয়া হয়। সন্ত্রাসীরা ইমামের কাছ থেকে মাইক্রোফোন ছিনিয়ে নেয়। আতঙ্কগ্রস্ত হাজীরা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে মসজিদের গেটের দিকে ছুটে গেলেও দেখে গেটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়, যখন সন্ত্রাসীরা মসজিদের সাতটি মিনারে মেশিনগান স্থাপন করে পুরো এলাকার ওপর তাদের নজরদারি নিশ্চিত করে।
মাহদীর দাবি ও পরিকল্পনা: জুহায়মান আল-ওতায়বি দাবি করেন, মাহদী এসে গেছেন এবং তিনি হলেন মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-কুরেশি। মাহদীর আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী প্রচার করে তারা সাধারণ মানুষের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করে। উপস্থিত হাজীদের মধ্যে আরবি না বুঝতে পারা লোকদের জন্য অনুবাদকও নিয়োগ দেওয়া হয়। ভারতীয়, পাকিস্তানি ও আফ্রিকান হাজীদের জন্য উর্দু ও ইংরেজি ভাষায় বার্তা প্রচার করা হয়।
সৌদি সরকারের প্রতিক্রিয়া: সৌদি রাজপরিবারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা তখন দেশের বাইরে ছিলেন। বাদশাহ খালেদ রিয়াদে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। ঘটনাটি জানার পর দেশের বাইরে থাকা প্রিন্স ফাহাদ ও অন্যান্য শীর্ষ নেতৃবৃন্দ তৎক্ষণাৎ দেশে ফেরেন। সৌদি সরকার আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেশব্যাপী যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থবির করে দেয়।
পুলিশের প্রাথমিক প্রতিরোধ ব্যর্থ হয়। মিনার থেকে গুলির আঘাতে পুলিশের কয়েকটি দল হতাহত হয়। মসজিদ প্রাঙ্গণে আটকে থাকা হাজীদের সন্ত্রাসীদের নির্দেশে কার্যত মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
পরিণতি ও বিশ্বময় প্রভাব: সন্ত্রাসীদের এই কর্মকাণ্ড গোটা মুসলিম বিশ্বকে হতবাক করে। তাদের দাবির সত্যতা ও ইসলামের পবিত্র স্থানে এমন সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে সৌদি সেনাবাহিনী কৌশলগতভাবে অভিযান চালিয়ে মসজিদের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে।
এই হামলা ইতিহাসে সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের এক মর্মান্তিক উদাহরণ হয়ে রইল, যা ধর্মীয় স্থানে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সহিংসতার গভীর নিন্দা আনে।
( ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)
👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পোস্টগুলো ফেসবুক এবং ইমেইল থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]
No comments