• সাম্প্রতিক

    বাংলাদেশের ২য় স্বাধীনতার অনন্য কারিগর, মেধাবী ওয়াসিমের আত্মত্যাগের রক্তাক্ত অধ্যায়-


    ওয়াসিম আকরামের জীবনের গল্প যেন এক মহাকাব্যের মতো। মেধাবী ছাত্র, চট্টগ্রাম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ওয়াসিম। তার প্রাপ্তি ছিল বিস্ময়কর। ২০১৭ সালে কক্সবাজারের মেহেরনামা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০১৯ সালে বাকলিয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করার পর, তার জীবন যেন নতুন করে আলোকিত হতে শুরু করে। কিন্তু আলোর সেই প্রদীপ ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের দমন-পীড়নের অন্ধকারে নিভে গেল।
    ১৬ জুলাই ২০২৪। চট্টগ্রামের ষোলশহর স্টেশনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল ছাত্র-জনতা। ওয়াসিম ছিলেন সেই আন্দোলনের প্রথম সারির নেতাদের একজন। তার ভরাট কণ্ঠে, সাহসী নেতৃত্বে এবং মেধাবী ব্যক্তিত্বে সবাই মুগ্ধ। কিন্তু সেদিন ষোলশহর স্টেশন দখল করে রাখে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সসস্ত্র সন্ত্রাসীরা। সংঘর্ষ এড়ানোর জন্য শিক্ষার্থীরা মুরাদপুরে সমবেত হলেও সেখানেও আঘাত নেমে আসে। বিকাল পৌনে ৩টার দিকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সশস্ত্র হামলায় রক্তাক্ত হয় সেই জমায়েত।
    তুমুল আক্রমণ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে ওয়াসিম, যিনি জীবনের জয়গান গাইতে এসেছিলেন, সেদিন ঘাতকের গুলিতে লুটিয়ে পড়লেন। আহত বিপ্লবী তরুণদের আর্তনাদ আর তাজা রক্তে রঞ্জিত মুরাদপুরের সড়ক যেন স্বাধীনতার আরেকটি যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল।সন্ত্রাসীদের গুলিতে মারাত্মক আহত হয়ে মাটিতে পড়ে থাকা ওয়াসিমকে বিপ্লবী সহযোগীরা হাস্পাতালে নিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো গেলনা। সবাইকে বিমর্ষ করে দিয়ে অবলীলায় নিভে গেল চট্টগ্রামের এক মেধাবী সুর্য সন্তানের সতেজ প্রাণ।
    ওয়াসিমের শহীদ ও আত্মত্যাগ যেন নতুন প্রতিজ্ঞা হয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল আন্দোলনকারীদের হৃদয়ে। আন্দোলনের গতিতে নেমে আসে প্রবল জোয়ার। ভাই হত্যার প্রতিশোধের আগুনে দাউ দাউ করে জ্বলে উঠে বীর চট্টলার মাটি। যার উতপ্ত প্রবাহে জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে গেল ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠীর ক্ষমতার মসনদ। অবশেষে চোরের মত পালিয়ে যেতে বাধ্য হল স্বৈরাচারী খুনী হাসিনা। ২য় বারের মতো স্বাধীন হলো প্রিয় মাতৃভুমি বাংলাদেশ।
    ওয়াসিমের মৃত্যুর পরপরই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তার অনার্স তৃতীয় বর্ষের ফলাফল প্রকাশ করে। ওয়াসিম প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। ফলাফল দেখে যেতে পারলেন না তিনি, কিন্তু সতীর্থদের ফেসবুকে শেয়ার করা তার রেজাল্ট শিট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। সবাই বলছিল, "তুমি শুধু পরীক্ষায় নয়, জীবনের পরীক্ষাতেও প্রথম হয়েছো, ওয়াসিম।"
    ওয়াসিমের সৌদি প্রবাসী বাবা শফিউল আলম, তার দুই ভাই এবং তিন বোন আজও শোকাভিভূত। কিন্তু সেই শোকের ভেতরেও তাদের গর্ব যে, ওয়াসিম শুধু পরিবারের নয়, পুরো জাতির মুখ উজ্জ্বল করেছে।
    ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনের দ্বিতীয় শহীদ ও বীর চট্টলার প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরাম আমাদের সবার অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তার রক্তে সিক্ত মাটি যেন বলে যায়, "আমরা স্রেফ রক্ত দিইনি, দিয়েছি স্বাধীনতার নতুন সূর্যের জন্য।" বীর চট্টলার মেধাবী এই ছাত্রনেতা প্রমাণ করেছেন, স্বপ্ন এবং সাহসের মিশেলে এক তরুণও পারে ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিতে।
    আল্লাহ ওয়াসিমকে শহীদ হিসেবে কবুল করুন। তার আত্মত্যাগ জাতি চিরকাল স্মরণ করবে।
    --আলী ইউছুফ
    ০৫/১২/২৪ ইং
    Ali Yousuf Ctg -এর ফেসবুক আইডি থেকে সংগৃহীত )




    👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পোস্টগুলো ফেসবুক এবং ইমেইল থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]

    No comments

    Post Top Ad

    ad728

    Post Bottom Ad

    ad728

    আমরা আপনাকে বিনামূল্যে আমাদের আপডেট গুলি পাঠাতে যাচ্ছি। প্রথমে আপনার অনুলিপি সংগ্রহ করতে, আমাদের মেইলিং তালিকায় যোগ দিন। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, অকেজো তথ্য প্রেরণ করে আপনাকে বিরক্ত করবো না। সুতরাং কোনও আপডেট মিস করবেন না, সংযুক্ত থাকুন!