• সাম্প্রতিক

    স্বপ্ন থেকে সংগ্রাম, সংগ্রাম থেকে স্বাধীনতার নাম শহীদ সিফাত।


    ‘উদয়ের পথে শুনি কার বাণী" 

    ভয় নাই ওরে ভয় নাই
    নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান
    ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই।’

    এই কবিতার আদর্শ ধারণ করে জীবন উৎসর্গ করেছেন সিফাত হোসেন। রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত না থেকেও, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সাহসী প্রতিনিধি হয়ে ওঠেন তিনি। সিফাতের জীবন ছিল এক সংগ্রামী কাব্য।

    সিফাতের স্বপ্ন ছিল একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা। তার বিশ্বাস ছিল, যে সমাজে সবাই সমান সুযোগ ও অধিকার পাবে, সেই সমাজই প্রকৃত স্বাধীনতার প্রতীক। মাধ্যমিকের গণ্ডি পার হওয়ার পর আকাশচুম্বী স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমালেও, বছর তিনেক পরই স্বদেশে ফিরে আসেন। এরপর ইউরোপ যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। তবে ক্যালেন্ডারে ২৯ জুন, চাচার মৃত্যু পরিবারের শান্তি ও পরিকল্পনায় অশান্তি ডেকে আনে। ঢাকায় থাকা আমি দ্রুত বাড়ি ফিরি। কয়েকদিন পর ৮ জুলাই আবার ক্যাম্পাসে ফেরার আগের রাতে সিফাতের সঙ্গে শেষবারের মতো দেখা হয়। সে তার অভিমানের কথা জানায় এবং শত সতর্কতার বার্তা দেয়।

    ১৫ জুলাই ঢাকায় এসে সিফাত অংশ নেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে। আন্দোলন তখন উত্তাল। এরই মধ্যে ১৬ জুলাই রংপুরের বেরোবি শিক্ষার্থী আবু সাঈদ রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বলি হন। তার রক্তে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারা বাংলায়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবিতে সিফাতও ঝাঁপিয়ে পড়ে।

    ২০ জুলাই, মিরপুর-১০-এ কারফিউ চলাকালীন সিফাত নির্মাণাধীন ভবনে তার বন্ধু সিয়াম ও বাবার সঙ্গে অবস্থান করছিল। ছাত্র মিছিলে ঘাতক পুলিশের গুলি বর্ষণের দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করায়, পুলিশ তাকেও লক্ষ্যবস্তু বানায়। এক নারকীয় গুলি তার মাথা ভেদ করে। আরেকটি বুলেট সিয়ামের চোখ ভেদ করে। সিফাতের শেষ আর্তনাদ, "আব্বু!"। তার বাবার চোখের সামনেই সন্তানের নিথর দেহ পড়ে থাকে, চারপাশ ভেসে যায় রক্তে।  

    সিফাত শহীদ হওয়ার পর তার স্বপ্ন বেঁচে থাকবে হাজারো ছাত্রের অন্তরে। বৈষম্যহীন সমাজে থাকবে চব্বিশের শহীদ সিফাতের সেই স্বপ্ন, যা তিনি বাস্তবায়নের জন্য জীবন দিয়েছেন। তার আত্মত্যাগ আমাদের বলে যায়, একটি সুষ্ঠু ও ন্যায়ের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সমাজই সত্যিকারের স্বাধীনতার প্রতীক।

    ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থান সফল হয়। দেশ পায় নতুন স্বাধীনতার স্বাদ। সিফাত, আবু সাঈদ, মুগ্ধদের আত্মত্যাগ নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি রচনা করে।

    এই মহান আত্মত্যাগীরা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃত শুদ্ধতা আর সভ্যতা ছাড়া কোনো সংগ্রামই পূর্ণতা পায় না। তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ বেঁচে থাকুক অযুত-লক্ষ বছর। বিনম্র শ্রদ্ধা তাদের প্রতি।

    -আলী ইউছুফ
    ২৭/১২/.২৪ইং

    Ali Yousuf Ctg -এর ফেসবুক প্রোফাইল থেকে সংগৃহীত ) 




    👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পোস্টগুলো ফেসবুক এবং ইমেইল থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]

    No comments

    Post Top Ad

    ad728

    Post Bottom Ad

    ad728

    আমরা আপনাকে বিনামূল্যে আমাদের আপডেট গুলি পাঠাতে যাচ্ছি। প্রথমে আপনার অনুলিপি সংগ্রহ করতে, আমাদের মেইলিং তালিকায় যোগ দিন। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, অকেজো তথ্য প্রেরণ করে আপনাকে বিরক্ত করবো না। সুতরাং কোনও আপডেট মিস করবেন না, সংযুক্ত থাকুন!