• সাম্প্রতিক

    অস্থির দুপুরে বাসার ছাদে বুলেটের খেলা: ছোট্ট রিয়ার মর্মান্তিক বিদায়-


    চারপাশে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মতো নীরবতা। সেই নীরবতার মাঝেই শিশু রিয়া ছুটোছুটি করছিল বাসার ছাদে। মাত্র সাড়ে ছয় বছর বয়স, খেলাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ। দুপুরের খাবার খেয়ে বাবা দীপক কুমার তাকে নিয়ে ছাদে গিয়েছিলেন। রিয়া হাসছিল, লাফাচ্ছিল, বাবার কাছে দুষ্টুমি করছিল। বাবার চোখে তখন আনন্দ আর মুগ্ধতা। রিয়া যে তার
    পৃথিবী।
    তবে সেই দুপুরটিতে কেউ জানত না, আনন্দমাখা সেই ছাদের স্মৃতি হবে এক নির্মম সত্যের নীরব সাক্ষী। হঠাৎ বাইরে শোনা গেল চিৎকার-চেঁচামেচি। দীপক দ্রুত ছুটলেন রিয়ার হাত ধরে তাকে ঘরে নিয়ে আসতে। আর ঠিক তখনই, দুঃস্বপ্নের মতো, একটি বুলেট ছুটে এল।
    রিয়ার সরল মুখটি বাবার দিকে তাকিয়ে ছিল। কিন্তু মুহূর্তেই সেই মুখ বেয়ে গড়িয়ে পড়তে শুরু করল লাল রক্ত। বুলেটটি বিদ্ধ করেছিল ছোট্ট রিয়ার মাথা। দীপকের কোলেই ঢলে পড়ল তার প্রাণের টুকরো। বাবার স্নেহমাখা হাত আর রক্ত মাখা মাথা একসঙ্গে মিশে গেল এক ভয়াবহ বাস্তবতায়।
    দীপক যেন কিছুই বুঝতে পারছিলেন না। সমস্ত শক্তি একত্র করে ছোট্ট মেয়েকে বুকে জড়িয়ে দ্রুত ছুটলেন হাসপাতালে। রিয়ার দেহ তখনও নরম, তবুও নিস্তেজ। ক্লিনিকের চিকিৎসকেরা তাকালেন, কিন্তু বেশি কিছু করার সুযোগ ছিল না। রিয়াকে পাঠানো হলো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
    হাসপাতালে অপারেশন হলো। চিকিৎসকেরা বললেন, অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। কিন্তু বাবার মনে ভয়। দীপক রিয়ার হাত ধরে বসে থাকলেন। ছোট্ট আঙুলগুলো একটু একটু নড়ছিল। দীপক ভেবেছিলেন, হয়তো রিয়া বাঁচবে। হয়তো তার মেয়েকে আবার হাসতে দেখা যাবে।
    কিন্তু না, বিধাতা যেন অন্য কিছুই লিখে রেখেছিলেন। বুধবার সকালে রিয়া আর কোনো সাড়া দিল না। ছোট্ট দেহটি স্থির হয়ে গেল। বাবার চোখের সামনে নিভে গেল তার জীবনের একমাত্র প্রদীপ।
    দীপক কুমার দাঁড়িয়ে ছিলেন হাসপাতালের মর্গের সামনে। তার মেয়ে রিয়া তখন একটি স্ট্রেচারে শুয়ে। ছোট খালা আর অন্য স্বজনেরা চারপাশে দাঁড়িয়ে হাহাকার করছিলেন। ছোট খালা আর্তনাদ করলেন, “আমার ছোট মারে, তুই আমাদের ছেড়ে চলে গেলি! তোরে ছাড়া আমরা কেমনে বাঁচব?”
    দীপক কুমার তখনও বোবা হয়ে দাঁড়িয়ে। চোখের জল থেমে থেমে ঝরছিল। তার কণ্ঠ কাঁপছিল। "কোথা থেকে কী হয়ে গেল, কিছুই বুঝি নাই। আমার কোলেই মেয়ের মাথা থেকে রক্ত বেয়ে পড়ছিল।" বলেই তিনি ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলেন।
    রিয়ার ছোট্ট দেহটিকে মর্গ থেকে বের করা হলো। অ্যাম্বুলেন্সে তুলে নেওয়া হলো তার নিথর শরীর। তাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের চোখের জল থামছিল না। কেউ বলে উঠল, "একটি আন্দোলনের রেশ কীভাবে এত ছোট্ট প্রাণের সমাপ্তি টানল?"
    ছোট্ট রিয়া, যে খেলা করতে ভালোবাসত, তার জীবন থেমে গেল এক নির্মম গুলিতে। দীপক এখনও ভাবেন, "কী দোষ করেছিল রিয়া? কেন এমন হলো?"
    রিয়ার সেই নিষ্পাপ মুখটি যেন চিরদিন ভাসবে বাবার চোখের সামনে। একটি পরিবারের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে রিয়া চলে গেল না ফেরার দেশে, রেখে গেল এক চিরন্তন শূন্যতা।
    - আলী ইউছুফ
    ১৫/১২/২৪ ইং

    Ali Yousuf Ctg -এর ফেসবুক আইডি থেকে সংগৃহীত) 



    👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পোস্টগুলো ফেসবুক এবং ইমেইল থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]

    No comments

    Post Top Ad

    ad728

    Post Bottom Ad

    ad728

    আমরা আপনাকে বিনামূল্যে আমাদের আপডেট গুলি পাঠাতে যাচ্ছি। প্রথমে আপনার অনুলিপি সংগ্রহ করতে, আমাদের মেইলিং তালিকায় যোগ দিন। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, অকেজো তথ্য প্রেরণ করে আপনাকে বিরক্ত করবো না। সুতরাং কোনও আপডেট মিস করবেন না, সংযুক্ত থাকুন!