জেমস আজও কেন তুমুল জনপ্রিয় ?? পাথরকে মূর্তি বানানোর মতো নিজেকে বহুবার ছেনে ছেনে গড়েছেন। গানের জন্য ঘর পালানো, প্রেমের জন্য জেলে যাওয়া, খেয়ালখুশিমতো চলা—জেমসের জীবনটায় এমন রোমাঞ্চ ও নাটকীয়তায় ভরপুর।
গত শতকের আশির শেষার্ধ থেকে প্রথম দশকের শুরু পর্যন্ত গিটার হাতে ঢোলা পাঞ্জাবির সঙ্গে ব্লু জিনস ও লম্বা চুল মাথায় মঞ্চ মাতানো একজন রকস্টারের যে ইমেজ পাওয়া যায়, সেটা বাঙালি আগে কখনো দেখেনি। পাঞ্জাবি পরা বাউল তারা দেখেছে, দেখেছে গিটার হাতে এলভিস প্রিসলির মতো ফ্যাশন সচেতন ও এরিক ক্ল্যাপটন-মার্ক নফলারের ন্যায় সাদাসিধে কিন্তু দুর্দান্ত গিটারিস্টকে। তবে জেমস ছিলেন এ সবকিছুর সমন্বিত ককটেল।
বুকের বোতামখোলা শার্টের সঙ্গে ঘাড় অব্দি এলোমেলো চুল ছেড়ে জেমস যেভাবে বেরিয়ে এসে ডাক দিলেন, ‘এসো চুল খুলে পথে নামি/এসো উল্লাস করি’—সেই উল্লাসের আনন্দে ভেসেছে লাখো তরুণের বিরহকাতর হৃদয়।
১৯৮৭ সালে ‘ফিলিংস’–এর হয়ে প্রথম অ্যালবাম ‘স্টেশন রোডে’ ও দুই বছর পর একক অ্যালবাম ‘অনন্যা’য় যে টিপিক্যাল সুরেলা গলা ছিল জেমসের, সেখান থেকে বেরিয়ে আসা ছিল তাঁর জন্য চ্যালেঞ্জের। সেই চ্যালেঞ্জ নিয়ে নতুন কণ্ঠে ১৯৯৩ সালে ফিলিংসের দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘জেল থেকে বলছি’তে হাজির হয়েছিলেন।
লেওনার্দ কোহেনের গমগমে পুরুষালি স্বর, নফলারের মতো ক্ল্যাসিক্যাল ব্যারিটোন ও গিটার প্লেয়িংয়ের যেন সন্নিবেশ ঘটেছিল জেমসের মধ্যে। তার মধ্যে গম্ভীর-রাগী চাদরে ঢাকা এক মুখ, সাধারণ মানুষের জীবন থেকে নেওয়া গানের কথা, পাশ্চাত্য সংগীতের সঙ্গে বাউলিয়ানার মিশ্রণ।
বিভিন্ন দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ’৯০ দশকের প্রজন্ম যে নতুনত্বের সন্ধানে ছিল, সেটি তারা পেয়েছিল জেমসের মধ্যে। কিন্তু সেই আশায় গুড়েবালি। বাঙালির অস্থিতিশীল সময়ে হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস ও নাটক সাধারণ মধ্যবিত্তদের বাঁচার আশ্রয় হয়ে উঠেছিল। তেমনি স্বপ্ন হারিয়ে বসা অসংখ্য যুবকের দুদণ্ড শান্তির আশ্রয় হয় ফিতা ক্যাসেটে জেমসের গান। চিৎকার দিয়ে তাঁদের বলতে না পারা কথাগুলো গানে গানে বলেছিলেন জেমস। অবশ্য ওসব নতুন সমাজ গড়া বা দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতির সাময়িক প্রতিবাদ নয়, অনেকটা ব্যক্তির চিরন্তন গোঙানি।
সাইকেডেলিক রক দিয়ে জেমসের উত্থান, গুরুখ্যাতি ওসব অবশ্য কখনো মুছে যাওয়ার নয়⚡⚡⚡# নগর বাউল জেমস।
(
সাহিত্যের রাজ্য- ফেসবুক গ্রুপ থেকে সংগৃহীত)
👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পোস্টগুলো ফেসবুক এবং ইমেইল থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]
No comments