জীবনের মূল্য সবার কাছেই সমান, হোক সে পাখি বা মানুষ,
ছোট্ট একটি পাখির বাসা। ভেজা ঘাস, শুষ্ক ডালপালা দিয়ে তৈরি সেই আশ্রয়ে চারটি ছানার ঘুমহীন অপেক্ষা। মা পাখি বেরিয়েছে খাবারের খোঁজে। কচি ঠোঁটগুলো সারা দিন ধরে মায়ের ফিরে আসার প্রতীক্ষায় কেবল চিৎকার করে চলেছে। তারা জানে না—মা আর কখনো ফিরবে না।
মানুষের ছোড়া একটি গুলি থামিয়ে দিয়েছে সেই মায়ের ডানা। অরণ্যের অচেনা পথের ধারে পড়ে আছে মা পাখির নিথর দেহ। কেউ ভাবেনি, তার ফেরা মানে চারটি প্রাণের বেঁচে থাকা। কেউ ভাবেনি, একটি মায়ের মৃত্যু মানে ক্ষুধার জ্বালায় চারটি ছোট্ট প্রাণের ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যাওয়া। একটি মায়ের মৃত্যু মানে ক্ষুধার যন্ত্রনায় চারটি ছোট্ট প্রাণের তিলে তিলে মরে যাওয়া।
বাসার মধ্যে ছানাগুলো ক্রমে দুর্বল হয়ে পড়ে। তাদের ছোট ছোট তুলতুলে শরীরগুলো শূন্য পেট নিয়ে আর নড়তে পারে না। অনাহারের নিদারুণ কষ্টে ছটফট করতে করতে চারটি ছোট্ট প্রাণীী একসময় নিস্তেজ-নিথর হয়ে যায় ! অবশেষে একটি একটি করে জীবন প্রদীপ নিভে গেল তাদের। কিন্তু শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত ছোট্ট ছানাগুলোর মন কেবল একটি-ই প্রশ্ন করে গেছে—“মা কেন ফিরল না?”
অরণ্য যেন স্তব্ধ হয়ে যায়। সেই বাসা, যেখানে একসময় ছিল জীবন আর প্রাণের গান, এখন শুধুই মৃত্যুর সাক্ষী। চারটি ক্ষুদ্র কঙ্কালের স্তূপ বলে দেয়, মায়ের না ফেরার কারণ কী ভয়ানক।
শিক্ষা:
একটি পাখিকে হত্যা মানে কেবল একটি প্রাণের শেষ নয়; এর সঙ্গে ধ্বংস হয়ে যায় একটি পরিবারের স্বপ্ন। জীবনের মূল্য সবার কাছেই সমান, হোক সে পাখি বা মানুষ, গরীব কিংবা ধনি। তাই জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব।
( Shahabuddin Hridoy এর ফেসবুক আইডি থেকে সংগৃহীত)
👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পোস্টগুলো ফেসবুক এবং ইমেইল থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]

No comments