ড. ইউনূসের আলোচিত ‘থ্রি-জিরো থিওরি’
শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর অনন্য ‘থ্রি-জিরো তত্ত্ব’ এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী নতুন ভাবে আলোচিত। এটি একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, যা তিনটি মহৎ লক্ষ্য অর্জনের উপর প্রতিষ্ঠিত:
১) জিরো দারিদ্র্য (Zero Poverty),
২) জিরো বেকারত্ব (Zero Unemployment),
৩) জিরো নেট কার্বন নিঃসরণ (Zero Net Carbon Emission)।
এই লক্ষ্যগুলির সফলতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন তরুণ প্রজন্মের উদ্যম, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, সুশাসন এবং সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে পরিবর্তনের এক নতুন ধারা। তার এই তত্ত্বের প্রয়োগ টেকসই উন্নয়নের দিশারী হয়ে উঠবে বলেই মনে করেন বিশ্লেষকরা।
গ্রামীণ ব্যাংক ও ক্ষুদ্রঋণ ধারণার পথপ্রদর্শক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারে সম্মানিত হন। তাঁর অপরিসীম অবদানকে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে, আজকের বিশ্ব তাকিয়ে রয়েছে টেকসই উন্নয়নের দিকে, এবং এখানে ড. ইউনূসের ‘থ্রি-জিরো তত্ত্ব’ অন্যতম প্রধান পথপ্রদর্শক। এর মাধ্যমে দারিদ্র্য, বেকারত্ব এবং কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনাই মূল লক্ষ্য।
ড. ইউনূস তাঁর তত্ত্ব সম্পর্কে বলেন, "বর্তমান অর্থনৈতিক কাঠামো নিজেই দারিদ্র্য সৃষ্টি করে, এবং এই ব্যবস্থায় দারিদ্র্য দূর করা অসম্ভব। মানুষ এককভাবে দারিদ্র্য সৃষ্টি করে না, বরং এটি আমাদের অর্থনৈতিক কাঠামোর ভেতরেই সৃষ্ট হয়।"
এমন পরিস্থিতিতে, তারুণ্য, প্রযুক্তি, সুশাসন ও সামাজিক ব্যবসার সংমিশ্রণেই এই তত্ত্বের সফল বাস্তবায়ন সম্ভব। তাঁর মতে, শুধু চাকরি খোঁজার বদলে, উদ্যোক্তা তৈরির দিকে মনোযোগী হওয়া উচিত। তিনি বলেন, "আমরা পৃথিবীতে এসেছি সমস্যা সমাধানের জন্য, কারো অধীনে চাকরি করার জন্য নয়। তাই তরুণ প্রজন্মকে উদ্যোক্তা হতে হবে, এবং নিজেদের পায়ে দাঁড়িয়ে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে হবে।"
ড. ইউনূসের ‘থ্রি-জিরো তত্ত্ব’ একটি নতুন পৃথিবীর স্বপ্ন দেখায়, যেখানে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পরিবেশগত সুরক্ষা হাত ধরে চলবে। এটি একটি সমতাভিত্তিক ও স্থিতিশীল পৃথিবী নির্মাণের লক্ষ্যে আমাদের অগ্রসর হতে উজ্জীবিত করে।
( Ali Yousuf Ctg এর ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)
👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পোস্টগুলো ফেসবুক এবং ইমেইল থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]

No comments