১৯৬০ সালে মুক্তি পেলো আমার প্রথম অভিনীত ছবি এদেশ তোমার আমার'। ছবি সুপারহিট হলো। এরপর রাজধানীর বুকে' ছবির নায়ক হলাম। এটিও সুপারহিট। শুরু হলো নব যাত্রা।১৯৬২ সালে আমার প্রথম কন্যা ফারিয়াল রহমান লুবনার জন্ম। 'লুবনা' নামটি এহতেশাম সাহেবের স্ত্রীর দেয়া। এসময় আমার সম্মানী ধার্য হয় ৩ হাজার টাকা। এদিকে একটা সমস্যা দেখা দিলো। তখন আমার বয়স এত কম ছিল যে সুমিতা দেবীকে দেখতে আমার দিদি মনে হয়, চিত্রা সিনহাও তথৈবচ। এর সমাধান? নতুন নায়িকা নিতে হবে। খোঁজ খোঁজ। অবশেষে পাওয়া গেল, ভারী মিষ্টি চেহারা। এর আগেও ছবিতে গ্রুপ ডান্স করেছে। নাম ঝর্ণা। হালকা পাতলা গড়ন। চোখ আর দাঁত অপূর্ব! এহতেশাম সাহেব নাম দিলেন 'শবনম' অর্থাৎ শিশির।
হারানো দিন' মুক্তি পেলো ১৯৬১ সালের ২রা সেপ্টেম্বর। প্রথম রোমান্টিক ছবি, হিট হলো।
৬২ সালের শেষদিকে তৈরী হলো চান্দা'। প্রথম উর্দু ছবি।
এহতেশাম সাহেবের পরিকল্পনা হলো টিকে থাকতে হলে উর্দু মুভি বানাতে হবে। শুরু হলো আমার উর্দু শেখা। শব্দ গ্রাহক, পরবর্তিতে পরিচালক মহসিন হলেন উর্দু ভাষার শিক্ষক।
দ্বিতীয় উর্দু ছবি তালাশ'। ইতিমধ্যে রোমান্টিক জুটি হিসেবে আমি এবং শবনম তুঙ্গে।
এরমধ্যে সিলেটের এক ভদ্রলোক তাঁর একটি ছবিতে অভিনয়ের অফার দিলেন। নাম 'প্রীত না জানে রীত'। রাজী হয়ে গেলাম। তখন ছবি খুব দ্রুত শেষ হয়ে যেতো। এহতেশামের অনুমতি নিয়ে ১৯৬৩ সালের জানুয়ারি মাসে আমি আর শবনম সিলেট রওয়ানা দিলাম।
৩০শে জানুয়ারি, ১৯৬৩। আমার জীবনের সবচেয়ে মর্মান্তিক দূর্ঘটনা ঘটে গেল। শুটিং থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনায় পড়ে একটি পা হারালাম। স্বল্প পরিসর রাস্তায় কার ভুলে বিধাতাই জানেন। জীপের সাথে ট্রাকের সংঘর্ষ, সঙ্গে সঙ্গে পা বিচ্ছিন্ন হয়ে ধান ক্ষেতে। আমরা খাদিম নগর থেকে শুটিং করে ফিরছিলাম।
ছয় মাস ঢাকার হাসপাতালে ছিলাম। কিন্ত পায়ে গ্যাংগ্রিন হয়ে যাওয়ায় লন্ডন পাঠানো হলো। ওখানে দ্বিতীয় বার অপারেশনের পর আমার ডান পা'টি উরুর কাছ থেকে কেটে ফেলা হলো। নভেম্বরে দেশে ফিরলাম, বগলে ক্রাচ।
এখান থেকে শুরু হলো আমার নতুন জীবন যুদ্ধের ইতিহাস।
অনুপম হায়াৎ সম্পাদিত।
সংক্ষেপিত এবং ইষৎ পরিবর্তিত
(Sarwoar Hossain এর ফেসবুক এর ওয়াল থেকে সংগৃহীত)
👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রায় সকল পোস্ট-ই ফেসবুক থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]
No comments