সুলতান সাহেব এসেছেন বড় ভাই আজগরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে। আজগর সাহেবের 'দোষ', তিনি বাবাকে 'জিম্মি' করে রেখেছেন। বাবাকে লালন পালনের 'অধিকার' সুলতান সাহেবও চান। আমি তো অবাক, এখন কেউ বাবা-মাকে সাথেই রাখতে চায় না। আর এখানে বাবাকে নিয়ে এত কাড়াকাড়ি! ডাকলাম আজগর সাহেবকে। তাঁর অভিযোগ, সুলতান সাহেবের ঘর বাবা থাকার উপযুক্ত নয়। বাবার যত্ন নেওয়ার মতো মানসিকতাও সুলতানের নেই। কিছুটা বিপাকে পড়লাম। আজগর সাহেব বাবাকে ছাড়তে রাজি নন। সুলতান সাহেবও বাবার দাবি ছাড়তে রাজি নন।
অবশেষে ডাকলাম বাবা আবদুল হাই কে। তাঁকে বললাম, দুই ছেলেই আপনাকে রাখতে চায়। কার সাথে থাকবেন? তিনি বললেন, 'কারও সাথেই থাকবো না! দু'জনই আমাকে রাখতে চায় আমার সম্পদ একা হরণ করার জন্য! প্রথমে সুলতানের বাসায় ছিলাম। সে সব সম্পদ তার নামে দিয়ে দিতে চাপ দিত, মারত! এরপর গেলাম আজগরের বাসায়। সেখানেও একই অবস্থা। দিনভর গালি দেয়, মারে! এসব বলে কাঁদতে থাকেন আব্দুল হাই সাহেব। তিনি বলেন, "আমি আমার সন্তানদের গায়ে কোনোদিন হাত তুলিনি। কিন্তু তারা....।" তাঁকে জিজ্ঞেস করি, সন্তানের বিরুদ্ধে মামলা করবেন কিনা? তিনি করেননি। সব সম্পদ দুই সন্তানকে ভাগ করে দিয়ে তিনি এখন চট্টগ্রামের একটি বৃদ্ধাশ্রমে!
(চট্টগ্রাম কতোয়ালী থানার সাবেক ওসি জনাব মোহাম্মদ মহসিন (PPM) এর পেইজ থেকে)
👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রায় সকল পোস্ট-ই ফেসবুক থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]
Subscribe to:
Post Comments
(
Atom
)
Post Top Ad
ফেসবুকের গল্প তে আপনাকে স্বাগত। এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কোনো লেখা বা মতামতের জন্য 'ফেসবুকের গল্প' কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।
Post Bottom Ad

No comments