আমি বুয়েটের অধম আবরার;
আমাকে করেছো তুমি অযথা সংহার!
আমি অবিকশিত প্রতিভা;
অপ্রস্ফূট গোলাপ নিভা।
ছন্দ বোঝাই উপস্থিত হতো মঞ্চে-মালঞ্চে হৃদয়ের;
খুলে বসতো জাতীয়তাবাদ আর ইতিহাসের দরবার;
বিকশিত হতে নাপারা আমি বুয়েটের সেই আবরার।
মনে পড়ে হে বীভৎস বাঙালি..? মনে পড়ে...??
কত সংগ্রামী চৈতন্য-তারুন্য
অনিশ্চিতের খরস্রোতে ঢেলে দিলে সেদিন,
যাদের কন্ঠে-খোঁপায় অবিনীত শ্লোগান আর
শিরায় ধমনে ছিল স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি;
কিন্তু বিকশিত হতে দাওনি!
অমিত ইচ্ছে ছিল হৃদয় অতলান্তে
ভালবাসবো উন্মুক্তে তোমায়,
ধুলায় কাদায় বালিতে মহাকাব্য ছড়িয়ে;
বিচরণে সবুজের ফাঁকে ফাঁকে, তরুলতায়,
মরুতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে নির্মল সুবাসে,
ফড়িংয়ের চঞ্চলায় উড়ে বেড়াবো
পত পত শব্দে লাল সবুজ পতাকার;
ইছে ছিল সোনালী কন্ঠে গাইবো গান
ভালবাসার চাদরে ঢেকে প্রিয় এই বাংলার,
অথচ সে আমাকেই করেছ তুমি অযথা সংহার।
কিন্তু কেন...???
আমিতো বলিনি কখনো তোমার উলঙ্গ কলঙ্কের কথা;
বলিনি...তুমি এক জারজ সন্তানের মা;
বলিনি--তুমি উচ্ছন্নে যাওয়া ছেলের পাপীষ্ঠ পিতা।
তুমিতো জন্মের আগেই আমার ভাইকে করেছো গুলিবিদ্ধ;
প্রহারে প্রহারে আমাকে করেছো ক্ষতবিক্ষত;
প্রভুর গোলামী রক্ষার্থে আমাকে করেছো রক্তাক্ত লাশ।
তুমিতো দাওনি আমাকে ক্ষনিকের অবকাশ;
মায়ের আঁচলের গন্ধে নিতে
এতকটু স্বস্তির নিঃশ্বাস..!
মনে পড়ে...?
আমি বুয়েটের সেই আবরার;
অবশেষে তুমি যাকে করেছ অযথা সংহার!!
অথচ;
আমি বলিনি-
তুমি হাজার বছরের লালিত বাঙ্গালী ঘরের
কুলাঙ্গার সন্তান;
আমি বলিনি-
একাত্তরে স্বাধীনতার আড়ালে হয়েছো তুমি
অন্যের গোলাম;
আমি বলিনি-
তুমি বাঙ্গালী নও-তুমিতো একজন খাঁটি বাংলাদেশী...।
আমিতো বলেছি-
বন্দর, গ্যাস, পানি-এসব তোমার নাড়ি ছেঁড়া ধন
প্রভুর কারণে স্বার্থ দিয়া বিলিয়ে দিওনা জীবন মন"।
কারণ সাতচল্লিশ থেকে একাত্তরের পরতে পরতে
আমি অনেক খুজেছি তোমায়,
তুমি যে সোনার হরিণ!
জানিনি তো তুমি থাক কোথায়!!
তাইতো;
অবারিত বাংলার শ্যামল মায়ায়,
শানিত সবুজের ডগায়-চূড়ায়,
সোনালী ধানের শীশের আগায়,
বটবৃক্ষের শীতল ছায়ায়
"সৃষ্টি সুখের উল্লাসে কাঁপা"
আর "দোলন চাঁপা'র" দক্ষিনা হাওয়ায়,
ছুড়ে ফেলে যত তন্ত্র-মন্ত্র-যন্ত্র-বাদ
আজো খুঁজে ফিরি আমি,
এক চিলতে জাতীয়তাবাদ !!
স্বাধীনভাবে বেচে থাকার
এক টুকরো অধিকার!
আমি বুয়েটের সেই আবরার;
যাকে করেছো তুমি অযথা সংহার...!!!
---আলী ইউছুফ
১০ অক্টোবর ২০১৯ ইং
উৎসর্গ - আবরার ফাহাদ কে___
(২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ২১ বছর বয়েসী আবরার ফাহাদকে বুয়েট শাখার একটি রাজনৈতিক দলের কতিপয় দুষ্কৃতকারী ও সন্ত্রাসীরা তাকে লোহার রোড দিয়ে নির্মম ভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছিল। তার অপরাধ ছিল, সে নামাজের সময় ছাত্রদেরকে নামাজ পড়ার জন্য ডাকতো।)
👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রায় সকল পোস্ট-ই ফেসবুক থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]
Subscribe to:
Post Comments
(
Atom
)
Post Top Ad
ফেসবুকের গল্প তে আপনাকে স্বাগত। এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কোনো লেখা বা মতামতের জন্য 'ফেসবুকের গল্প' কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।
Post Bottom Ad

আবরার ফাহাদের হত্যার ঘটনা বাংলাদেশের একটি আলোচিত ঘটনা। আবরা ফাহাদকে নিয়ে কবিতা টি আসলেই অসাধারণ হয়েছে।
ReplyDelete