আমি গাছের আড়ালে লুকিয়ে গেলাম। মেয়েটা কাছাকাছি আসতেই খাতাটা হাতে নিয়ে তাকে ডাকলাম ।
= এইযে শুনুন আপনার খাতাটা গতকাল ফেলেই চলে গিয়েছিলেন ।
-
আমার কথাশুনে মেয়েটা ভয় পেয়ে গেল । তার হাত থেকে বাকি বই গুলো হুরমুড়িয়ে পড়ে গেল ।
-
আমি তার এহেন অবস্থা দেখে অপ্রস্তুত হয়ে গেলাম । কী করব বুঝতেছিলামনা। সাত পাঁচ না ভেবে সামনে এগুলাম। মেয়েটা বইগুলো কুড়াচ্ছিল। আমি কাছে গিয়ে তার বইগুলো কুড়াতে সাহায্য করব অমনি আমাকে অবাক করে দিয়ে মেয়েটা এক ধাক্কা মেরে আমায় সরিয়ে দিল।
-
আমার যেন জ্ঞান হারাবার অবস্থা হয়ে গেল। একটা মেয়ে আমায় ধাক্কা দিল বিশ্বাসই করতে পারছিনা। মনে হলো যেন চলন্ত ট্রেন আমায় ধাক্কা দিল। এত শক্তি বাপরে। আমি দূরে গিয়ে ছিটকে পরলাম। পরে যাওয়ায় আমার পিঠে আঘাত পেয়েছি। কোনরকমে নিজেকে সামলে নিয়ে উঠে দাড়ালাম। দাড়িয়ে দেখি মেয়েটা নেই। আরে কী আশ্চর্য! মুহুর্তে মেয়েটা কোথায় চলে গেল? এদিক সেদিক খুঁজলাম কিন্তু পেলামনা। নাহ আসলে এজন্যই কারো ভালো করতে নেই। আমি তার ফেলে যাওয়া খাতা ফিরিয়ে দিলাম। বইগুলো কুড়াতে সাহায্যে করতে চাইলাম আর সে আমায় এমন ভাবে আঘাত করল। কিন্তু আমার এখনো বিশ্বাস হচ্ছেনা যে একটা মেয়ে কী করে এত শক্তিশালী হয়। কী জানি বাপু! এর আগে তো কোন মেয়ের ধাক্কাও খাইনি । হয়তো মেয়েরা এমন শক্তিশালীই হয়।
-
ভাবতে ভাবতে টের পেলাম চারিদিকে আজানের সুর। মসজিদে চলে গেলাম। নামাজ শেষে বাসায় যেতেই মা বকাবকি শুরু করল। কারণ মা নাকি ফজরের সময় আমায় ডাকতে এসে আমাকে না দেখে চিন্তায় পড়ে গেছে। শুধু আজ নয়। আমি প্রায়ই বাসায় রাতে দেরী করে ফিরি । মাঝে মাঝে রাতে বাইরে বের হয়ে হাঁটি। বিশেষ করে চাঁদনি রাতে। আমার এসব বদঅভ্যাস গুলো আমার বাবা মা সহ্য করেনা। তাদের মনে যে কত কী ভয় বুঝিনা। আমার তো এত ভয় লাগেনা। রাতের সুন্দর্যটা ভালোই লাগে একা একা উপভোগ করতে।
-
সারাদিন ধরে কোমর সোজা করতে পারছিনা। ওই ডাইনি মেয়েটার ধাক্কা খেয়ে একেবারে পঙ্গু হয়ে গেছি। ইচ্ছে করছে তার বাসায় গিয়ে বিচার দিয়ে আসি তার বাবার কাছে। কিন্তু এসব বললে তো আমারই মান ইজ্জত থাকবেনা। বলবে একটা মেয়ের ধাক্কা খেয়ে আমি কিনা......
-
মা বারবার জানতে চাচ্ছে কীভাবে আঘাত পেলাম। আমি এটা সেটা ইনিয়ে বিনিয়ে বলে দিয়েছি। সন্ধ্যার দিকে আসলো ভীষণ জ্বর। একটানা দুদিন এই জ্বরে আমায় ভোগালো। দুদিন পর ব্যাথা আর জ্বর দুটোই কমেছে। ভোরে আযানের সাথে সাথে আব্বাজানের এলার্ম আর মোবাইলের এলার্ম দুটোই বাজতে লাগল। আজ আর অসুস্থতার বাহানায় ঘুমানো চলবেনা। এই দুদিন যাইনি। আমার আব্বা নামাজের বেপারে বেশ কঠোর।
-
উঠে অজু করে ভাবতে লাগলাম কোন রাস্তা দিয়ে যাব। শিমুল বাগের রাস্তা দিয়ে যাব কিনা ভাবতেছি। ওই মেয়েটার কথা মনে পড়তেই কেমন ভয় করে বাবা। উফ নাহ আমি ছেলে মানুষ এত পাওয়া চলবে নাকো। আমি যাবই ওখান দিয়েই যাব। কোন ভয় নেই আমার। চলে গেলাম সেই রাস্তা দিয়েই। শিমুল বাগের কাছে আসতেই গা কেমন ছমছম করছে। শিমুল বাগের মাঝামাঝি চলে আসলাম। চারিদিকে মোটা মোটা গাছ। হঠাৎ করে কে যেন বলে উঠলো-
- এই দাড়ান.......... (অপরিচিতা)
(লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নী কুনতু মিনাজ জ্বলিমিন) মনে মনে বিপদের দোয়া পড়তে লাগলাম। পিছনে তাকিয়ে দেখি সেই বোরকাওয়ালি গাছের পাশ থেকে বের হয়ে আসছে। চোখগুলো দেখা যাচ্ছে। অদ্ভূত রকমের চোখ। কেমন হিরের মত জ্বলজ্বল করে বাবা। কোন রকমে বুকে সাহস নিয়ে প্রশ্ন করলাম-
= জ্বী আমাকে বলছেন? (আমি)
- হ্যা আপনাকেই বলছি। চুরি তো আপনিই করেছেন।(বোরকাওয়ালি)
(আল্লাহ এত সুন্দর কণ্ঠ। মনে হচ্ছে কল সেন্টার থেকে শব্দ আসছে)
= জ্বী মানে? কিসের চুরি?
- চুরি আবার কিসের হয়? আপনি আমার খাতা থেকে পৃষ্ঠা চুরি করেছেন।
= ও ইয়ে মানে খাতা .... আসলে হয়েছে কি শুনেন....
- বেস, কিছু শুনতে চাইনা। এখন এই মুহুর্তে আমার খাতার পৃষ্ঠাগুলো নিয়ে আসবেন।
= আরে এখন পৃষ্ঠা আনব মানে? কী বলছেন আমি তো.......
- আবার ! বলছিনা কোন ভনিতা শুনতে চাইনা। এখন বলছি মানে এখন।
= আচ্ছা ঠিকাছে পৃষ্ঠা গুলো দেব কিন্তু এখন আমি তো নামাজে যাচ্ছি। কালকে দেই?
- এইযে বাংলা কথা বোঝেন না? আমার পৃ্ষ্ঠাগুলো এই মুহুর্তে লাগবে। কালকের আগে আমার সেগুলো চাই। আপনি আমার খাতার পৃষ্ঠা চুরি করেছেন কেন ? আপনি জানেন সেগুলো কত দরকানি নোট ছিল আমার?
= আরে আমি তো ভেবেছি ওইগুলো কোন আরবি কবিতা বা ছন্দ হবে। এত সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে লিখেছেন তাই।
- হয়েছে আর কোন কথা নাই। এখনি নিয়ে আসুন।
= বললেই হলো নাকি? এখন আমি নামাজে যাব। কালকের আগে আমি সেগুলো দিতে পারবনা।
ঠাস..................................
ইন্নালিল্লা এ কী হলো? মেয়েটা আমায় থাপ্পর দিল। এত্ত বড় অপমান? সামান্য কিছু নোট এর জন্য এভাবে আমার গালে চড়? মনে হচ্ছে গালের মাংস সব সি সি ঢালাই হয়ে গেল। পুরা তামা তামা হয়ে গেছে। আল্লাহ এটা কী কোন মেয়ে নাকি কোন ডাইনি রাক্ষুসি। এর গায়ে এত জোর কেন?
-
ব্যথায় আমি গালে হাত দিয়ে রেখেছি। মেয়েটা রাগে ফোস ফোস করছে। যেন থাপ্পর মেরেও তার স্বাধ মেটেনি।
= আপনি আমায় থাপ্পর দিলেন কেন? (আমি)
- তো কী করব তোকে? চোর কোথাকার। তোকে এখন নোট গুলো নিয়ে আসতে বলেছি মানে এখনি আনবি। আমি গত দুইদিন ধরে এখানে তোর জন্য অপেক্ষা করছি। কিন্তু তোর দেখা নেই। এখন যদি আর কোন কথা বলিস তবে তোর হাড্ডি সব গুরো করব। পাঁচ মিনিটের মধ্যে আমার নোটগুলো নিয়ে আয়। আমার সময় কম। (বোরকাওয়ালি)
= দুইদিন ধরে আসব কীভাবে? আপনার ধাক্কা খেয়েই তো কোমর ব্যাথা আর জ্বরে বিছানা থেকে উঠতে পারিনাই।
- দেখ এখন আর কোন কথা বললে কিন্তু আমি মাইর শুরু করে দেব।
-
নাহ আর মার খেতে চাইনা। এই মেয়ে মার শুরু করলে আমার মত দশটা ছেলেও যে পারবেনা তা আমার বোঝা হয়ে গেছে। এ নিশ্চই কোন কুংফু খেলোয়ারের মেয়ে। মায়া দয়া বলতে নেই। আমি তাকে দাড়াতে বলে বাসায় চলে আসলাম। তারপর পৃষ্ঠাগুলো নিয়ে আবার শিমুল বাগের কাছে চলে আসলাম। কিন্তু মেয়েটাকে তো দেখছিনা। হুট করে পেছন থেকে মেয়েটা কোথেকে যেন চলে আসল। তারপর আমার হাত থেকে কাগজগুলো নিয়ে চলে গেল।
-
মসজিদে গিয়ে দেখলাম নামাজ শেষ। দ্রুত একা একা পড়ে নিলাম। তারপর বাসায় আসলাম। এদিকে গালের ব্যাথায় মরে যাচ্ছি। মুখ ধুয়ে বিছানায় এসে শুয়ে পড়লাম। মা খাবার খেতে ডাকল। তারপর আমাকে দেখেই প্রশ্ন করল-
- কিরে তোর গালে কী হইছে? (মা)
= কই হবে আবার কী? (আমি)
- আরে হবে কী মানে ? গাল এমন ফুলে আছে কেন? আর লাল দাগ কিসের? কিরে তোরে থাপ্পর দিছে কে?
= আরে কি বলেন এসব আমারে থাপ্পর দিবে কে? ওই মশা মারছিলাম আমিই।
- মশা মারলে এমন গাল ফুলে যায় আর দাগ বসে যায়? সত্যি করে বল কী হয়েছে কার সাথে মারামারি করেছিস?
= আরে মা মারামারি করব কার সাথে। যাও তো এটা এমনি কমে যাবে।
- এমনি কমে যাবে? দাড়া তোর বাবাকে বলছি আমি । দিন দিন বান্দর হয়ে যাচ্ছিস। কার সাথে না কার সাথে মারামারি করে গাল ফুলিয়ে এসেছিস। পুরো চার আঙুলের দাগ বসে আছে।
-
এই যা এবার হলোতো? সারা বাড়ি তোলপার হয়ে গেল। আর এখানেই শেষ নয়। সারাদিন ব্যাথার পর সন্ধ্যা থেকে আসল জ্বর। এইবার অবস্থা খুব খারাপ। জ্বর ১০৫ এর নিচে নামেইনা। এদিকে গাল ব্যাথায় বাচ্চাদের মত গোঙাতে গোঙাতে আমি শেষ। ডাক্তার দেখালাম কত ঔষধ খাচ্ছি কোন কাজ হচ্ছেনা। আজ এক সপ্তাহ চলল। জ্বর অনেকটা কমেছে কিন্তু গালের ব্যাথা আর দাগ কমেনি।
-
সাতদিনের মাথায় হলো এক অদ্ভূত কান্ড। আমি শুয়ে আছি রাতে। প্রায় রাত দেরটার দিকে কিছু একটা শব্দে আমার ঘুম ভেংগে গেল। এত রাতে কিসের শব্দ? আমার রুমে বিড়ালও ঢুকতে পারবেনা আমি দরজা লাগিয়ে ঘুমাই। মোবাইলটা হাতে নিলাম। ফ্লাসটা জ্বালিয়ে তাকাতেই দেখি বোরকাওয়ালি মেয়েটা!!! আমি আর কিছু না ভেবেই ভয়ে চিৎকার করতে যাব অমনি মেয়েটা ঝড়ের বেগে এসে আমার মুখ চেপে ধরল। মনে হচ্ছে যেন চল্লিশটা টেপ পেঁচিয়ে কেউ মুখ বেঁধেছে। এক চিমটি শব্দ করতে পারছিনা। মেয়েটা আমায় বলতে লাগল-
- চুপ একদম কোন কথা বলবেন না। আমি আপনাকে কিছু করবনা। কিন্তু কোন শব্দ করলে কিন্তু হাড্ডি একটাও আস্ত থাকবেনা বলে দিলাম।
ভৌতিক রহস্যময়ী ভূতের গল্প ফেসবুক গ্রপ থেকে সংগৃহীত।
৩য় পর্ব পড়তে
👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রায় সকল পোস্ট-ই ফেসবুক থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]
No comments